অবহেলা অনাদরে পড়ে থাকা বিপ্লবী রাসবিহারী বসুর জন্মভিটেকে স্মারক হিসেবে তুলে ধরার আশ্বাস দিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী

স্বাধীনতার সত্তর বছর পরেও চরম অবহেলা অনাদারে পরে থাকা বীর বিপ্লবী রাসবিহারী বসুর জন্মভিটে স্মারক গড়ে তোলার আশ্বাস  দিয়ে গেলেন কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ মন্ত্রী পীযূশ গোয়েল। গ্রামবাসীদের কাছ থেকে স্বচ্ছতা ও সাফাই অভিযানে সামিল হওয়ার আশ্বাস পেয়ে বিপ্লবীর জন্মস্থান সুবলদহ গ্রামকে  বিশ্বের দরবারে তুলে ধরারও প্রতিশ্রুতি দিলেন মন্ত্রী।

 

‘তেরঙ্গা যাত্রা’র অঙ্গ হিসেবে রবিবার  বর্ধমান জেলা রায়নার প্রত্যন্ত্য গ্রাম সুবলদহে বিপ্লবী রাসবিহারী বসুর জন্মভিটে পরিদর্শনে দিল্লি থেকে উড়ে আসেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। সড়ক পথে গ্রামে ঢুকেই প্রথমে তিনি বিপ্লবীর জন্মভিটে মোটর বাইকে চেপে যান। বর্ষার ধারার মধ্যেই তার যাত্রা পথে সামিল হন গ্রামবাসীরা। দলমত নির্বিশেষে গোটা গ্রাম ঝাঁপিয়ে পড়ে বিপ্লবীর ভিটেয়। সেখানে পৌঁছে বিপ্লবী যে ঘরে জন্মগ্রহণ করেছিলেন সেই মাটিতে গিয়ে গিয়ে তাকে প্রণাম জানান। সেখানকার মাটি মাথায় নিয়ে তুলসীমঞ্চে মালা দেন।সেখানে দাঁড়িয়ে বিপ্লবীর জন্মভিটে আগাছায় ভরে যাওয়ায় তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।

অবহেলা অনাদরে পড়ে থাকা বিপ্লবী রাসবিহারী বসুর জন্মভিটেকে স্মারক হিসেবে তুলে ধরার আশ্বাস দিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী
অবহেলা অনাদরে পড়ে থাকা বিপ্লবী রাসবিহারী বসুর জন্মভিটেকে স্মারক হিসেবে তুলে ধরার আশ্বাস দিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী

এরপর গ্রামের রাসবিহারী বসু ট্রাস্ট কমিটির জমিতে বিপ্লবীর আবক্ষ মূর্তিতে মাল্যদান করে মন্ত্রী বলেন এই প্রত্যন্ত গ্রামে জন্ম গ্রহণ করে দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে প্রথম সারির বিপ্লবীকে সত্ত্র বছ পরেও কোনো রকম সম্মান জানানো হয়নি দেখে আমি অবাক। আমি এসে শুনলাম আজ পর্যন্ত কোনো নেতা বা মন্ত্রী তার এই জন্মভিটেতে আসেননি। দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে তেরঙ্গা যাত্রার মাধ্যমে দেশ জুড়ে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের সম্মান জানানোর কর্মসূচি চলছে।গোটা আগষ্ট মাস জুড়ে এই কর্মসূচি চলবে। তারই অঙ্গ হিসেবে আমি আজ এখানে এসেছি। এখানে এসে আমার জীবন ধন্য হয়েছে।এই মাটিতেই জন্মগ্রহণ করেছেন যে বীর  নেতা তারই হাতে তৈরি হয়েছিল আজাদ হিন্দ ফৌজ। যে আজাদ হিন্দ ফৌজকে পরবর্তীকালে নেতাজির হাতে সমর্পন করেছিলেন তিনি।  দেশের স্বাধীনতার যার ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গৌরবের স্বাধীনতা আন্দোলনকে ‘রসু বাবু’ দেশ থেকে বিদেশে নিয়ে গিয়েছিলেন । আমরা তাদের ভুলতে পারিনা। দেশের একশো পঁচিশ কোটি মানুষ সবাই একসঙ্গে রাজনীতির উর্ধে উঠে এই বীরদের যাতে সম্মান জানানো হয় সেই বার্তাই দিয়ে যান তিনি ।

Leave a Reply