আউশগ্রামে ছাত্র মৃত্যু ঘিরে ধোঁয়াশা, চাঞ্চল্য

https://www.youtube.com/watch?v=D8jnt-Gj8MM

বর্ধমানের আউশগ্রামের অভিরামপুরে এক পলিটেকনিক ছাত্রের

অস্বাভাবিক মৃত্যুকে ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ালো।পুলিশ

জানিয়েছে মৃত ছাত্রের নাম সন্দীপ মুখার্জী। অভিরামপুরে একটি

বেসরকারি পলিটেকনিক কলেজে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে

দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র সে। কলেজ কর্তৃপক্ষের দাবি নিছক

দুর্ঘটনার কারণেই ছাত্রটির বাস থেকে পরে গিয়ে মৃত্যু

হয়েছে।কিন্তু ছাত্রটির বাড়ির লোক সেই কথা মানতে নারাজ।

পরিবারের দাবি সন্দীপের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন

আছে।এছারা তার জামা, জুতো ছেঁড়া অবস্থায় পাওয়া গেছে।

স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে গত মঙ্গলবার বেলায়

কলেজ ছুটি হওয়ার পরে অভিরামপুর থেকে বাসে করে ফিরছিল

সন্দীপ। পথে মানকরের কাছে সে বাস থেকে পড়ে যায় ।তাকে

আশংকাজনক অবস্থায় প্রথমে দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে

ভরতি করা হয়। কিন্তু সেখানে চিকিৎসার পরিকাঠামো নেই এই

দাবি তুলে তাকে দুর্গাপুরের একটি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে

স্থান্ত্রিত করা হয়। আজ সেখানে ছাত্রটির মৃত্যু হয়।

এদিকে ছাত্র মৃত্যুর খবরের পরেই ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন পরিবার

পরিজনেরা। তাদের দাবি সন্দীপের গায়ে একাধিক ক্ষত চিহ্ন

আছে। দুর্ঘটনা ঘটলে একাধিক চিহ্ন থাকা কোনোভাবেই সম্ভব

নয়। এছাড়া তার জামা। জুতো যেভাবে ছেঁড়া অবস্থায় পাওয়া গেছে

তা দেখে তাদেরভ সন্দেহ তাকে মারধর করা হয়েছে। কিন্তু কে বা

কারা তাকে মারধর করেছে সে বিষয়ে কিছু জানাতে পারেনি

পরিবারের লোকেরা।

যদিও সন্দীপের বন্ধুরা খুনের তত্ব উড়িয়ে দিচ্ছে। সন্দীপের

রুমমেট মনীন্দ্র জানা, বিশ্বরূপ হালদারেরা জানায় তারা খবর

নিয়ে জেনেছে বাসের পিছনে ঝুলে ফোন হাতে সন্দীপ বাড়ি

ফিরছিল। একটা বড়ো হাম্প পারাপার করার সময় প্রচন্ড

ঝাঁকুনিতে সে নীচে পড়ে যায়। দুর্গাপুরের একটা বেসরকারি

হাসপাতালে নিয়ে গেছে সেখানে ৬০ হাজার টাকা চাওয়া হয়। আমরা

বন্ধুরা মিলে প্রায় ৫০ হাজার টাকা তুলে দিই।

মৃত ছাত্রের বাবা বলরাম মুখার্জী জানান গত ১২ জুলাই

বাঁকুড়ার কোতুলপুরের বাড়ি থেকে কলেজে আসে। কিন্তু কলেজে

আসার পর থেকে সে আর সেই ভাবে বাড়ির সাথে যোগাযোগ

রাখতো না। আমি প্রতিদিন ফোন করে খবর নিতাম।আগে সন্দীপ

ফোন করার সময় বাড়ির সবাইকার খোঁজ খবর নিতো।ইদানীং সেটা

বন্ধ করে দিয়েছিল।ওর কথা শুনে মনে হতো কোনো মানসিক চাপে

আছে। গত বৃহস্পতিবার সন্ধের দিকে তার এক বন্ধু ফোন করে

জানায় সন্দীপ বাস থেকে পড়ে গেছে। সেইমতো আমরা খবর নিয়ে

দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে চলে যাই।

কলেজের তরফে নাসিরুদ্দিন আনসারি বলেন বৃহস্পতিবার

বিকালের দিকে গড় ও জামতাড়ার মাঝখানে বাসের ঝাঁকুনিতে

সন্দীপ পড়ে গিয়ে আঘাত পায়। এটা নিছক দুর্ঘটনা।

Leave a Reply