‘আজ আর কিছু দিবি না রে ভাই’- না, সেদিন ইন্দ্রদাকে সত্যিই কিছু দিতে পারিনি !

                                                               লিখছেন ‘এই সময় ’পত্রিকার সাংবাদিক অভ্র ব্যানার্জী

‘ভাই স্পট কিছু নেই রে ? ’ ভারিক্কি গলায় আর কেউ এই প্রশ্ন করবে না। চেনা দুনিয়া থেকে আরো একটা ভালো মানুষ , পথ প্রদর্শক হঠাত করেই চলে গেল। ইন্দ্রদার সাথে পরিচয় বর্ধমানে থাকার সময়েই। ইন্দ্রদার ভাষাতে ‘স্পট’-এই পরিচয়। দেখা হতো কথা হতো ওই পর্যন্তই। খুব ভালো সম্পর্ক তখনো গড়ে ওঠেনি, ওঠার সুযোগ হয়নি বলা ভালো। তবে বর্ধমান ছাড়ার দিন কয়েক আগে থেকে সম্পর্ক কিন্তু গাঢ় হয়েছিল। কেন জানি না ইন্দ্রদার নামের সাথে মানুষটার চেহারায় একটা অদ্ভূত মিল লক্ষ্য করতাম। যেই ইন্দ্রদার নামের সাথে এই মানুষটার নামেই বেশি খাপ খায়। কাটোয়াতে আসার প্রথম দিকে মাঝে মধ্যে ইন্দ্রদার ফোন পেতাম। ‘ভাই কিছু থাকলে বলিস, আমাকে তো পুরোটাই কভার করতে হয়, একটা মিসড কল দিবি, আমি কল করে নেবো ’এই জাতীয়।  পরে সম্পর্ক আরো গভীর হয়ে যায়। ঠিক যেন নিজের দাদা। ফলে কোনো খবর নিয়ে হাসি ঠাট্টা ইয়ার্কি চলতো রীতিমতো। ভালো খবর কিছু দিলে উত্তেজিত হয়ে পড়তো। বলে বসতো ‘উফ, আজ যা দিলি ভাই , কাল কার্টিং পাঠাবো দেখিস। অফিসে বড়ো করে নিচ্ছে। ’ এই তো সেদিন কাটোয়ার শ্রীবাটি গ্রামে বোমা বিস্ফোরণের সময়ও এসেছিল কাটোয়ায়। যদিও সেদিন আমার সাথে দেখা হয়নি। আর কোনো দিন হবেও না। শেষ কথা হয় বুধবার। গলাটা সেদিন কিছুটা উদাস ছিল। ফোনে বললো , ‘আজ কিছু দিবি না রে ভাই? ’ না সেদিন কিছু দিতে পারিনি। আর কোনোদিনই ইন্দ্রদাকে কোনো স্পট দিতে পারবো না, কষ্ট টা এখানেই। কাজটা ঠিক করলে না ইন্দ্রদা। যেখানেই থাকো ভালো থাকো। তোমার মন ভোলানো হাসি , চির যুবক চেহারা, আর হোয়াটস অ্যাপে আট টা এক মিনিটে লাস্ট সিন , তোমার স্মৃতি হয়ে থাকুক।

Leave a Reply