আজ শিক্ষক দিবস , রীতা দে

“Awake,arise and stop not till the goal is reached”

কঠোপনিষদের বাণী এবং স্বামী বিবেকানন্দের ইংরেজী অনুবাদটি দিয়েই শুরু করলাম। জ্ঞানের আলোই  তো আমাদের জাগ্রত করে। সূর্য  না থাকলে যেমন অন্ধকার দূর হয় না, জ্ঞানেএ আলো প্রজ্বলিত না হলে তেমনি মননের বিকাশ হয় না। যিনি আমাদের হাত ধরে অজ্ঞানতা থেকে জ্ঞানের আলোর পথ দেখান তিনিই গুরু বা শিক্ষক।

“সংগচ্ছধ্বং সংবদধ্বং সং বো মনাংসি জানতম

সমানো মন্ত্র সমিতি সমানী

সমানং মন সহ চিত্তমেষাম”

মানে “তোমাদের গন্তব্য এক হোক, তোমাদের মন এক হোক, তোমাদের মন্ত্র এক হোক, তোমাদের অন্তঃকরণ এক হোক। সকল বিষয়ে তোমরা সহমত হও।”

শিক্ষক দিবসের কথা বলতে গিয়ে এসব কথা মনে হল। সময় যতইই বদলাক, গুরু শিষ্য বা শিক্ষক ছাত্র সম্পর্কের গুরুত্ব অমাধুর্য  অনস্বীকার্য। মা বাবার সঙ্গে যেমন, তেমনি শিক্ষকের সঙ্গেও সম্পর্কের পরিমাপ করার জন্য কোনো বিশেষ দিনের প্রয়োজন হয় না,তবুও কোন একটি দিনকে চিহ্নিত করে দিলে সেই দিনের তাৎপর্য একটু অন্যরকম হয় বইকি!

৫ই সেপ্টেম্বর শিক্ষক দিবস- সুবিখ্যাত দার্শনিক ডঃ  সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণণের জন্মদিন। ১৮৮৮ খ্রীষ্টাব্দে অন্ধ্রে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। ১৯০৯ খ্রীষ্টাব্দে মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সি কলেজে Depertment of Philosophy  তে যোগাযোগ করেন। ১৯১৮ তে University of Mysore এ Professor of Philosophy হিসেবে যোগ দেন। ১৯৩১ এ অন্ধ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য  হন।বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হন (১৯৩৯-৪৮)। ১৯৫০ এ ভারতের উপরাষ্ট্রপতি ও পরে ভারতের দ্বিতীয় রাষ্ট্রপতি হিসেবে কার্যকাল ১৯৬২-৬৭। তাঁর ছাত্র ও বন্ধুরা তাঁর জন্মদিন পালন করার কথা বললে শিক্ষাব্রতী ডঃ রাধাকৃষ্ণণ এই দিনটিকে শিক্ষক দিবস হিসেবে পালনের প্রস্তাব দেন। তাঁর লেখা প্রথম বই The Philosophy of Rabindranath Tagore। এ ছাড়াও Indian Philosophy, The Hindu View of life, Kalki, Indian & China ইত্যাদি তাঁর রচিত বই। ১৯৫৪ তে তিনি ‘ভারতরত্ন’ উপাধি পান।

 

Leave a Reply