এবার রৌশনারাকে বাঁচাতে  গোয়েন্দাদের ধন্দে ফেলছে সন্ধ্যা

                                                                                     আমার বাংলা‘র বিশেষ প্রতিবেদন

                                                                                             আজ তৃতীয় কিস্তি

বর্ধমানের বাহির সর্বমঙ্গলা পাড়া । শিশু পাচার কান্ডে এই পাড়ার নাম জড়াতেই রাতারাতি খবরের শিরোনামে এই পাড়া। পুলিশ এই পাড়ারই মহিলা রৌশনারাকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। ধরা হয়েছে লাইফ নার্সিংহোমের আর এক আয়া সন্ধ্যা মিত্র। প্রথম থেকেই রৌশনারা পুলিশকে বিভ্রান্ত করতে শুরু করেছিল। পরে সি আই ডিকে সে বিভ্রান্ত করে। এদিকে রৌশনারাকে বাঁচাতে চেষ্টা করছে সন্ধ্যা মিত্র বলে অনুমান সি আই ডির। তবে এই চক্রের মূল মাথাকে খুঁজে বেড়াচ্ছে পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে নাম প্রকাশ করেনি পুলিশ। তবে দুই আয়া রৌশনারা ও সন্ধ্যা মিত্রকে আলাদা আলাদা ভাবে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ বাসুদেব মন্ডলের নাম জানতে পেরেছে। এই বাসুদেব মন্ডল যে রৌশনারার ডান হাত সেটা হাসপাতাল চত্ত্বর থেকে হরিসভা স্কুলের পাশে  শ্যামসায়র মোড়ে ঢোকার মুখে বাঁদিকের একটা পলি ক্লিনিকের সবাই জানে বলেই জানিয়েছেন দেবেন সাহা। হাসপাতালের গেটে ঢোকার মুখের স্টেশনারি গুমটির মালিক দেবেন সাহার কাছেই সকাল থেকে ঘাঁটি গাড়তো রৌশনারা। সেখান থেকেই চলতো ফোনাফুনি। যদিও দেবেন সাহা সেটা অস্বীকার করে বলেছেন এখানে রৌশনারা কি করতো তার জানা নেই। তবে ঘটনার দিন যে সকালে রৌশনারা ও বাসুদেব মন্ডল একটা শিশুকে নিয়ে এসেছিল সেটা স্বীকার করেছেন দেবেন সাহা। এদিকে সন্ধ্যাকে জেরা করার  সি আই ডি জানতে পেরেছে মোটা টাকার বিনিময়ে সন্ধ্যা রৌশনারাকে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন। গোয়েন্দারা আরও জানতে পেরেছে ঘটনার দিন রাতে রৌশনারাকে পুলিশ গ্রেফতার করে। সেই সময় বাসুদেব মণ্ডল সন্ধ্যার সাথে শলাপরামর্শ করে শিশু চুরির দায় নিজের হাতে নিয়ে নেওয়ার জন্য। এমনকি সন্ধ্যার বাড়িতে কয়েক লক্ষ টাকা পৌছেও দেওয়া হয় বলে প্রাথমিক ভাবে জেনেছে গোয়েন্দারা। এদিকে গোয়েন্দাদের জেরার আগেই বর্ধমান থানার পুলিশ জানতে পেরেছিল রৌশনারার বিলাস বহুল জীবন যাপনের কথা। সামান্য আয়ার কাজ করে বর্ধমান শহরে বাড়ি ভাড়া করে থাকা, রাত হলেই কালো কাঁচের গাড়িতে করে বেরিয়ে যাওয়া , গভীর রাতে বাড়ি ফেরা কিভাবে সম্ভব হতো খতিয়ে দেখছে গোয়েন্দারা। গোয়েন্দারা জানতে পেরেছে শহরের খোসবাগানের চারটে ও নবাবহাটের তিনটে নার্সিংহোমের সাথে  রৌশনারা ও বাসুদেব মন্ডলের যোগাযোগ ছিল। শুধু তাই নয় রৌশনারাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে শহরের একটা নামি বিউটি পার্লারের নাম জেনেছে গোয়েন্দারা। যেখানে প্রতি মাসে বারোশো টাকার বিল মেটাতেন রৌশনারা। এর আগেও যে দুটো শিশু পাচার করেছিল রৌশনারা সেগুলি কোন নার্সিংহোম থেকে এবং কাদের সেগুলি বিক্রি করা হয়েছে , বা কারা জড়িত সব খোঁজ খবর নিচ্ছে গোয়েন্দারা। তবে একটা বিষয়ে গোয়েন্দারা নিশ্চিত হয়েছে কাঞ্চননগরের বাসিন্দা আয়া সন্ধ্যা  মিত্রকে মোটা টাকার বিনিময়ে  ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে বাঁচার চেষ্টা করছে রৌশনারা। অন্তত সন্ধ্যার বয়ান সেটাই বলছে।

Leave a Reply