কর্মবিরতির জেরে কোনো রোগীর মৃত্যুর কথা মানতে চাইলেন না জুনিয়ার ডাক্তার থেকে হাসপাতাল সুপার কেউই

আমার বাংলা ডেক্স ঃ  কর্মবিরতির জেরে কোনো রোগীর মৃত্যু হয়েছে একথা মানতে চাইলেন না জুনিয়ার ডাক্তার থেকে হাসপাতাল সুপার কেউই । মঙ্গলবার বেলার দিকে জুনিয়ার ডাক্তারেরা হাসপাতাল সুপারের অফিসে আসেন তাদের অভিযোগ জানাতে। বৈঠকে ছিলেন বর্ধমানের উত্তর মহকুমাশাসক মুফতি মহ শৌকত, মেডিকেল কলেজের প্রিন্সিপ্যাল  সুকুমার বসাক সহ পুলিশ আধিকারিকেরা। জুনিয়ার ডাক্তারদের অভিযোগ সোমবার রাতে হাসপাতালেরই একজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মী প্রদীপ রাউত হাতে চোট নিয়ে ভরতি হন। সেই সময় ইমারজেন্সি অপারেশন থিয়েটারে অপারেশন চলছিল। ওই রোগীর আত্মীয়রা জুতো পরেই ওটির মধ্যে ঢুকে পড়েন। সেখানে থাকা কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রতিবাদ করলে মদ্যপ অবস্থায় মোহন রাউত নামে এক ব্যাক্তি  ইমরান খান নামে ওই ডাক্তারকে মারধর করে রোগীর পরিজনেরা। এরপরেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শুধু ওই চিকিতসকই নয়  ইমরান খানকে বাঁচাতে গিয়ে রোগীর পরিবারের হাতে নিগৃহীত হন স্নেহা মন্ডল, বিশ্বজিৎ মন্ডল, আরন্যক সরকার  নামে জুনিয়ার ডাক্তারেরা। এরপরেই ঘন্টা তিনেক কেটে গেলেও পুলিশ না আসায় তারা ঘন্টা খানেক কর্মবিরতি শুরু করেন। কিন্তু কর্মবিরতি একদিকে চললেও অন্যদিকে ওটি তে থাকা সমস্ত অপারেশন করা হয়। এমনকি ইমারজেন্সি রোগীদেরও দেখা হয় বলে জানান তারা।

জুনিয়ার ডাক্তার সংগঠনের সম্পাদক ডাঃ মহ মুস্তাক জানান, বিনা কারণে ডাক্তারদের মারধর করাটা আজ রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। ফলে ঘটনার পরে তিন ঘন্টা কেটে গেলেও পুলিশ না আসায় তারা বাধ্য হয়ে কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নেয়। ওই সময়ে তারা ঘন্টাখানেক কর্মবিরতি করলেও ওটিতে থাকা রোগীদের অপারেশন হয়েছে, রোগীদের কোনো সমস্যায় পড়তে হয়নি। এদিকে ওই সময়ে রোগী মৃত্যু নিয়ে তিনি সাফাই গেয়ে বলেন হাসপাতালে সিরিয়াস অবস্থায় অনেক রোগী ভরতি হয়। আর স্বাভাবিক নিয়মে অনেক রোগী মারাও যায়। কিন্তু তাদের কর্মবিরতির জেরে কেউ মারা যায়নি।  এদিন জুনিয়ার ডাক্তারদের সাথে বৈঠকের পরে মেডিকেল কলেজের প্রিন্সিপ্যাল  সুকুমার বসাক বলেন কাল রাতে একটা দুঃখ জনক ঘটনা ঘটেছে। রোগীর পরিবারের লোকেদের সাথে ডাক্তারদের ধাক্কাধাক্কি হয়েছে। ভবিষতে যাতে এই ঘটনা না ঘটে সেই বিষয়ে আজ বৈঠক হয়। পাশাপাশি রোগীর পরিসেবা ঠিক ভাবে দেওয়ার জন্য আর কি কি পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে সেই সিদ্ধান্ত হয়েছে। এদিকে প্রশাসনের তরফেও বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার চিন্তাভাবনা হয়েছে। হাসপাতালের বেশ কিছু স্পর্শকাতর এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানোর চিন্তাভাবনা করা হয়েছে।  এদিকে চিকিৎসকদের উপর হামলার অভিযোগে মোহন রাউত সহ তিন জনকে গ্রেফতার করেছে বর্ধমান থানার পুলিশ। মোহন রাউত বর্ধমান থানার সিভিক ভলেন্টিয়ার পদে কর্মরত।

Leave a Reply