কাটলো জমি জট , শুরু মিষ্টি হাব তৈরির কাজ

অবশেষে শুরু হলো বর্ধমানে মিষ্টি হাব তৈরির কাজ। এলাকার মানুষের স্বত:স্ফুর্ত সহযোগিতা নিয়ে সরকারি খাস জমিতেই ‘মিষ্টি হাব’তৈরির কাজ শুরু হয়ে গেল। হাব তৈরির জমিটিকে নতুন টিন দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছে। জমি পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করে সেখানে ফেলা হচ্ছে ইট, বালি, পাথর, রড ও সেন্টারিং পাটা। এক কথায় বর্ধমান শহর উপকন্ঠে বামচাঁদাইপুরে সত্তোরমাইল মোড়ে দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ের পাশে এই হাফ একর জমির ওপর প্রাথমিকভাবে ‘মিষ্টি হাব’ তৈরির কাজকর্ম জোরকদমে শুরু হয়ে গেল। সরকারি এই জমির ১১ কাঠার দখলদার একটি আদিবাসি পরিবার। ওই পরিবারের চারপুরুষের দখলি জমি। পরিবারটি এই জমি হস্তান্তরের জন্য ক্ষতিপূরণের দাবি করলে ক্ষতিপূরণ দিয়ে দেওয়া হবে বলে সভাধিপতিতাঁদের আশ্বস্ত করেছেন। ওই ১১ কাঠার সামনের কিছু অংশে কয়েকটি ঘুমটি ও দোকান রয়েছে। তাঁদেরও ক্ষতিপূরণের আশ্বাস-সহ ওই এলাকার উন্নয়নে একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জেলা প্রশাসন। পাশাপাশি অনাময় হাসপাতাল সংলগ্ন বর্ধমান উন্নয়ন সংস্থারসাড়ে দশ একর জমি যেখানে এর আগে মিষ্টি হাব তৈরির কাজ শুরু হয়েছিল, সেই বাতিল জমি কি করে ফেরৎ দেওয়া যায় তা নিয়ে চিন্তাভাবনা শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর নির্দেশে আলিশা মৌজার অনাময় হাসপাতাল সংলগ্ন জমি ফেরতের নির্দেশ দেওয়ার পরে সেখানকার জমিদাতারা জমি দ্রুত ফেরতের জন্য ফের মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হওয়ার চিন্তাভাবনা করছেন। আলিশার এই বাতিল হওয়া জমি থেকেই দুশো মিটারের মধ্যে বামচাঁদাইপুরে সত্তোরমাইল মোড়ে দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ের পাশে ৭২ ঘন্টার মধ্যে নতুন জমি চিহ্নিত করেছিলেন জেলা শাসক ও সভাধিপতি। রবিবার সেখানে গিয়ে দেখা গেল, জমির ধান ও জঙ্গল পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করে ফেলা হয়েছে। আধ একর সরকারি খাস জমির ১১ কাঠায় যে আদিবাসী পরিবার ধান চাষ করেছিল তাঁদের অনুমতি নিয়ে জমির ধান কেটে ফেলা হয়েছে। পুরো জমিটা টিন দিয়ে ঘিরে ভেতরে ইট, বালি, পাথর, রড ও পাটা ট্রাক্টরে করে নিয়ে এসে ফেলা হচ্ছে। সরকারিএই খাস জমির ১১ কাঠা চার পুরুষ ধরে আগলে রেখেছিল একটি আদিবাসি পরিবার।লক্ষীনারায়ন হেমব্রম নামে এক প্রবীন ব্যক্তি এই জমিতে চাষ করেছিলেন। এই চাষের উপর অনেকটাই নির্ভর করতে হয় তাঁদের দুই ভাইকে। লক্ষীনারায়নবাবুর দাবি, সরকারি জমি সরকার নিয়েছে। তবে যেহেতু চার পুরুষ ধরে আমরা এই জমি আগলে রেখেছি, তাই সরকারি নিয়ম অনুযায়ী চার ভাগের এক ভাগ পাওয়া উচিত। যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে বলে আশ্বাস পাওয়ার পরই এই জমি ছেড়ে দিয়ে সরকারের এই উন্নয়নে সামিল হওয়ার জন্য কথা দিয়েছেন তিনি ও ওই এলাকার মানুষজন। সভাধিপতি দেবু টুডু জানান, আমরা যে হাফ একর সরকারি খাস জমিতে মিষ্টি হাবের কাজ শুরু করেছি সেই জমি দীর্ঘদিন পরে থাকার জন্য আদিবাসীরা জমিটি ব্যবহার করেছেন। আদিবাসীদের দখলে থাকায় তাদের সাথে আমাদের অনেক কথা হয়েছে। তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর স্বপ্নের প্রকল্প মিষ্টি হাব-এর জন্য সরকারি এই জমি ছেড়ে দেবার জন্য প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। মানুষের স্বার্থে,বর্ধমানের স্বার্থে তাঁরা মমতা ব্যানার্জীর স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে এগিয়ে এসেছেন।আমরা

Leave a Reply