কালো কাঁচের গাড়িতে ঘুরতো আয়া রোশনারা, পাচার করেছে আরো দুটি শিশু , পড়ুন বিশেষ প্রতিবেদন

                                                                          ‘আমার বাংলা’র বিশেষ প্রতিবেদন  

                                                                                     আজ প্রথম কিস্তি 

রোশনারা বিবি । বর্ধমান থেকে শিশু পাচার চক্রে যুক্ত থাকার অভিযোগে  গ্রেফতার হওয়া অন্যতম নাম। লাইফ নার্সিংহোমে আয়া হিসেবে জীবন শুরু। পরে আয়ার কাজ ছেড়ে দিয়ে বিভিন্ন নার্সিংহোমের সাথে যোগাযোগ রেখে শুরু করেন শিশু পাচারের কাজ।প্রায় প্রতি রাতেই বাড়ি থেকে বেরিয়েও যেত রওশানা। এরপর গভীর রাতে কালো কাঁচের গাড়িতে করে কেউ বা কারা তাকে গভীর রাতে নামিয়ে দিয়ে যেত বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।  তাকে গ্রেফতারের পরে তদন্তে নেমে বর্ধমান থানার পুলিশ জানতে পেরেছে এই প্রথম বার নয় এর আগেও বর্ধমানের বাহির সর্বমঙ্গলা পাড়ায় যে বাড়িতে এখন রওশানা ভাড়া থাকে সেই বাড়ি থেকে আগেও দুটি শিশুকে পাচার করা হয়েছে। মাত্র তিন মাস আগে মুর্শিদাবাদ জেলার কান্দির বাসিন্দা শেখ রমজান আলির কাছে ১২ হাজার টাকার বিনিময়ে একটা শিশুকে বিক্রি করা হয়েছিল। এছাড়া ১৫ হাজার টাকার বিনিময়ে এক শিশু কন্যাকে উত্তরপ্রদেশের শেখ আসারফ নামে এক ব্যাক্তিকে বিক্রি করা হয়েছিল। ওই শিশু দুটিকে নবাব হাটের একটি নার্সিং হোম ও মহাজন টুলি পাড়ায় একটি নার্সিংহোম থেকে পাচার করা হয়েছিল।   এদিন জিজ্ঞাসাবাদের পরে পুলিশ আরো জানতে পেরেছে রওসানার বাড়ি ভাতারের মুরাতিপুর গ্রামে। স্বামী পরিতক্ত্যা রওসানা বর্ধমানের বাহিরসর্বমঙ্গলা পাড়ায় বাড়ি ভাড়া করে  বসবাস করতে শুরু করে। সে এখন কোথাও আয়ার কাজ করে না। অথচ প্রতিমাসে গুনতে হয় তাকে ঘর ভাড়ার  টাকা। যেটা প্রথম থেকেই কিছুটা সন্দেহ হয়েছিল স্থানীয়দের। স্বামী পরিতক্ত্যা রওসানার সাথে বর্ধমান শহরের বাসুদেব মন্ডল নামে এক ব্যাক্তির ঘনিষ্ঠতা ছিল বলে পুলিশ জানতে পেরেছে।পুলিশ আরো জেনেছে এখন মূলত হাসপাতালেই ঘোরাফেরা করতেন রওসানা।  ভাতার মঙ্গলকোট এলাকায়  তার  কিছুটা চেনাশোনা থাকায় সেখানকার রোগীদের হাসপাতাল থেকে নার্সিংহোম গুলিতে ভরতি করার দায়িত্ব নিতেন তিনি। মূলত যেওসব কুমারী মেয়েরা সন্তান প্রসবের পরে সন্তান নিতে চাইতো না সেই শিশুগুলিকে বিক্রি করে দেওয়ার দায়িত্ব নিত রওসানা। পুলিশ জানতে পেরেছে কান্দিতে মাস তিনেক আগে যে শিশুকে বিক্রি করা হয়েছিল সেই শিশুটির মায়ের বাড়ি ভাতারের বামশোর গ্রামে। তবে নবাব হাটের এক নার্সিংহোম মালিক জানায় রওসানার সাথে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল বাসুদেব মন্ডলের। মূলত তারা দুজন মিলেই এই সব কান্ডে যুক্ত ছিল। রওসানা বিভিন্ন নার্সিংহোম মালিকদের সাথে কথা বলে তাদের অফার দিত সে গর্ভপাতের জন্য কুমারী মেয়ে এনে দেবে বিনিময়ে তিন থেকে চার হাজার টাকা করে নেবে। বর্ধমানের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ প্রণব রায় বলেন, নিয়ম মেনেই নার্সিংহোম খোলার অনুমতি দেওয়া হয়। যে নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে শিশু পাচারের অভিযোগ উঠেছে সেটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। (চলবে)

Leave a Reply