গৃহবধূকে ধর্ষণ ও খুনের চেষ্টার অভিযোগে বাবা ও দুই ছেলেকে কারাদন্ডের নির্দেশ দিল আদালত

এবি ওয়েব ডেক্স, পূর্ব মেদিনীপুর  : এগরায় গৃহবধূকে ধর্ষণ করে খুনের চেষ্টার অভিযোগে বাবা  ও তাঁর দুই ছেলেকে কারাদণ্ড ও আর্থিক জরিমানার নির্দেশ দিলেন বিচারক। অন্যদিকে, কোলাঘাটে জমি সংক্রান্ত বিবাদের জেরে প্রতিবেশীর খড়ের গাদায় আগুন লাগানোর ঘটনায় এক মহিলাকে সাত বছরের কারাদণ্ডের নির্দেশ দিলেন বিচারক। বুধবার দুপুরে তমলুক জেলা আদালতের দুই বিচারক দুটি পৃথক ঘটনায় এই সাজা ঘোষণা করেছেন। সাজাপ্রাপ্ত আসামীদের নাম সুধাংশু জানা,কেসব জানা,কানাই জানা ও পুতুল দাস।

আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, এগরা থানার পিরিচখাঁবাড় গ্রামের বাসিন্দা সুধাংশু জানা। তার স্ত্রীর নাম রেনুকা জানা ও দুই ছেলে কেসব জানা ও কানাই জানা। ২০১২ সালের ২ এপ্রিল সকাল ৯টা নাগাদ প্রতিবেশী এক গৃহবধূর বাড়িতে ঢুকে পড়ে সুধাংশু জানা। ওই গৃহবধূর স্বামী ও ছেলে‑মেয়ে কেউ বাড়িতে ছিলনা। এরপর ওই গৃহবধূকে ধর্ষণ করার পাশাপাশি গৃহবধূর শরীরের নানা জায়গায় কামড়ে জখম করে দেয়। এরপর ওই গৃহবধূ কোনওমতে ঘর থেকে বেরিয়ে সুধাংশু জানার স্ত্রীকে বিষয়টি জানান। এরপর সুধাংশু জানার স্ত্রী ও দুই ছেলে কুৎসিৎ ভাষায় গৃহবধূকে গালাগালি দিতে শুরু করে। নিগৃহীতা বধূর গলায় লাইলন দড়ি দিয়ে বেঁধে শ্বাস রোধ করে খুনের চেষ্টা করার পাশাপাশি মাথায় ধারালো অস্ত্রের কোপ মারে সুধাংশু জানার দুই ছেলে। ইতিমধ্যে আশপাশের বাসিন্দারা গৃহবধূর আর্ত চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে চলে এলে অভিযুক্তরা চম্পট দেয়। এগরা থানায় নিগৃহীতার স্বামী সুধাংশু জানা,রেনুকা জানা,কেসব জানা ও কানাই জানার নামে অভিযোগ দায়ের করেন। তমলুক জেলা আদালতের অতিরিক্ত জেলা দায়রা বিচারক(দ্বিতীয় আদালত) সঞ্চিতা সরকার মঙ্গলবার সুধাংশু জানা ও তার দুই ছেলেকে দোষী সাব্যস্ত করেন। উপযুক্ত প্রমাণের অভাবে বিচারক  সুধাংশু জানার স্ত্রীকে নির্দোষ ঘোষণা করেন। সরকারি আইনজীবী দেবাশিষ ভট্টাচার্য বলেন, বিচারক সঞ্চিতা সরকার ১৩ জন স্বাক্ষী ও চিকিৎসকের স্বাক্ষ্য প্রমাণ ও মেডিকেল রিপোর্টের ভিত্তিতে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৬ ও ৩৫৪ ধারায় সুধাংশু জানাকে দোষী সাব্যস্ত করেন। তার দুই ছেলেকে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩২৬ ও ৩২৪ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করেন। বুধবার সুধাংশুকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানার নির্দেশ নির্দেশ দিয়েছেন। তার দুই ছেলেকে ১০ বছরের কারাদণ্ড ১০ হাজার টাকা করে জরিমানার নির্দেশ দিয়েছেন। অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন। জরিমানা থেকে প্রাপ্ত মোট ৪০ হাজার টাকা নিগৃহীতা মহিলাকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।

অন্যদিকে, কোলাঘাট থানার কূলহাণ্ডা গ্রামের বাসিন্দা সঞ্জয় সামন্ত। ২০১৫ সালের ১৭ মার্চ সকালে জমি সংক্রান্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে প্রতিবেশীর সঙ্গে ঝগড়া হচ্ছিল। ওই সময় প্রতিবেশী পুতুল দাস সঞ্জয়বাবুর খড়ের গাদায় আগুন লাগিয়ে দেয়। খড়ের গাদার কাছে দুটি গরু বাঁধা ছিল। ওই গরুকে খুলতে গিয়ে সঞ্জয়বাবুর বৃদ্ধ বাবা শঙ্কর সামন্ত অগ্নিদগ্ধ হন। মঙ্গলবার তমলুক জেলা আদালতের অতিরিক্ত জেলা দায়রা বিচারক(তৃতীয় আদালত) সুজয় সেনগুপ্ত অভিযুক্ত পুতুল দাসকে দোষী সাব্যস্ত করেন। সরকারি আইনজীবী উত্তরসখা বেরা বলেন, ১২ জন স্বাক্ষীর বয়ান ও অন্যান্য স্বাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে বিচারক পুতল দাসকে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানার নির্দেশ দিয়েছেন।

Leave a Reply