গ্রামে নেই শৌচাগার, মাঠই ভরসা , নির্মল বাংলা কি জানে না আমানিডাঙ্গা,জেলাশাসকের নির্দেশে গ্রাম পরিদর্শনে গেলেন বিডিও

                                                        আমানিডাঙা ঘুরে এসে লিখলেন দীপিকা সরকার

শৌচাগার বিহিন গ্রাম। এখনও খোলা মাঠে শৌচকর্ম করতে যেতে হয় গ্রামবাসীদের। জানে না নির্মল বাংলার সার মর্ম। অথচ ঢাক ঢোল পিটিয়ে সাড়ম্বরে আজ ঘোষনা হলো নির্মল ব্লক। আর তা নিয়ে বিস্তর জল্পনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। এমনই নজির বিহীন গ্রাম বর্ধমানের আউশগ্রাম ২ ব্লকের আমানিডাঙ্গা, বাবলাবনি গ্রাম।এই খবর জেলাশাসকের কানে পৌঁছাতেই ওই দুটি গ্রামকে বাদ রেখেই ঘোষণা করা হলো নির্মল ব্লকের। তিন থেকে চার দিনের মধ্যেই ওই দুটি গ্রামে শৌচাগার নির্মাণের কাজ শুরু হয়ে যাবে বলে আশ্বাস দিলেন জেলাশাসক। এরপরেই গ্রাম পরিদর্শনে যান আউশগ্রাম ২ নং ব্লকের বিডিও।

 

আউশগ্রাম ২ নং ব্লকের দেবশালা পঞ্চায়েতের আমানিডাঙ্গা ও বাবলাবনি। পানাগড় মোরগ্রাম রাজ্য সড়কের কাঁকসার পিয়ারীগঞ্জ থেকে প্রায় ৩ কিলেমিটার দক্ষিনন-পুর্বে কুনুর নদীর তীরে আদিবাসী অধিষ্যুত গ্রারাম দুটি। গ্রাম দুটি প্রায় ৩০ টি পরিবারের বসবাস।  গত  বিধানসভা নির্বাচনে অনুন্নয়নের প্রতিবাদে ভোট বয়কট করে শিরোনামে উঠে এসেছিল। খবর চাউর হতেই  রাজ্যজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছিল। যেখানে রাজ্য ও কেন্দ্র উভয় সরকারের নানান প্রকল্প রয়েছে সেখানে গ্রামে যাওয়ার রাস্তাটুকুও নেই। বর্ষা আসলেই একপ্রকার গৃহবন্দি হয়ে থাকতে হয়। বর্ষায় রোগীদের আলপথে খাটিয়াতে করে প্রায় আড়াই কিলোমিটার নিয়ে যেতে হয়। নির্বাচনের পর বিদ্যুত পৌঁছেছে। তবে রাস্তার কাজ শুরু হলেও মাঝপথে মুখ থুবড়ে। দুর্দশা একই রকম।  জল্পনা এখানেই শেষ নয়। গত এক বছর ধরে জেলজুড়ে নির্মল বাংলার লক্ষ্যে নানান তৎপরতা শুরু হয়েছে। খোলা মাঠে মলত্যাগ ঠেকাতে সাত সকালে গ্রামে গ্রামে প্রশাসনিক কর্তাদের সচেতনতা অভিযান শুরু হয়েছে। কিন্তু প্রশাসনিক কর্তাদের গ্রামে যাওয়াতো দুর অস্ত আস্ত গ্রামটাতে একটা মাত্র শৌচাগারও জোটেনি। আর তাই বাধ্য হয়ে এখনও খোলা মাঠেই শৌচকর্মে যেতে হয় বাসিন্দাদের। বুধন সোরেন, লক্ষ্মী মুর্মু, বুধি সোরেন প্রমুখ গ্রামবাসীরা জানান,” নির্মল বাংলা কি জিনিস সেটাই জানি না। শৌচাগার আমাদের কাছে স্বপ্ন। যাতায়াতের রাস্তাটুকু জোটেনি। বর্ষা আসলেই দুর্ভোগের সীমা থাকে না। তার ওপর ওইসময় প্রায়ই ডায়রিয়ার রোগ হয়। খোলা মাঠে শৌচকর্ম করার ইচ্ছা নেই। কিন্তু শৌচাগার তৈরী সাধ্যে হয় না। তাই বাধ্য হয়ে খোলা মাঠে শৌচকর্ম করতে যেতে হয়।”  আর প্রশ্ন এখানেই খোলা মাঠে মলত্যাগ ঠেকাতে যখন জোর তৎপরতা। তখন কেনই ওই দুই গ্রামের বাসিন্দারা নির্মল বাংলা প্রকল্প থেকে বঞ্চিত। প্রশ্ন থেকেই যায়। জানা গেছে আউশগ্রাম ২ নং ব্লকের সাতটি পঞ্চায়েত এলাকায় নির্মল বাংলা মিশনে সাড়ে ১০ হাজার শৌচাগার তৈরী হয়েছে। যার মধ্যে দেবশালা পঞ্চায়েত এলাকায় ১১৬৮ টি শৌচাগার হয়েছে। শৌচাগার বিহীন গ্রাম নিয়ে লক্ষাধিক টাকা ব্যায়ে আড়ম্বর পুর্ণ এ কেমন নির্মল অনুষ্ঠান প্রশ্ন আমানিডাঙ্গার। কি বলছেন দেবশালা  পঞ্চায়েত প্রধান শ্যামল বক্সী। সোজা সপাট তিনি জানান,” গ্রাম দুটি বিচ্ছিন্ন। অতীতে গ্রামে উন্নয়নের ছিটে ফোটা জোটেনি। পরিবর্তনের পর গ্রামে বিদ্যুত পৌছেছে। রাস্তা তৈরীর কাজ শুরু হয়েছে এটাই সার্থকতা।” বর্ধমান জেলা পরিষদ সভাধিপতি দেবু টুডু জানান,” নির্মল ব্লক ঘোষনা মানে সব বাড়িতে শৌচাগার থাকবে এটা নয়। এটা একটা প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আগামীদিনে ওই দুই গ্রামেও নির্মল বাংলা মিশনে শৌচাগার করা হবে।”

 

Leave a Reply