চটকল শ্রমিকদের মতো কথায় কথায় চিকিৎসকদের কর্মবিরতি কেউ মেনে নেবে না কড়া বার্তা ডাঃ নির্মল মাজির

আমার বাংলা ডেক্স ঃ হাসপাতাল কোনোমতেই চটকল শ্রমিকদের জায়গা নয়। একটা চপেটাঘাতের জন্য ২০০ থেকে তিনশো চিকিৎসক হাসপাতালের কাজ বন্ধ করে দিয়ে কর্মবিরতি পালন করবে এটা সরকার কোনোভাবেই বরদাস্ত করবে না। আজ বর্ধমান মেডিকেল কলেজের প্রগ্রেসিভ ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের বার্ষিক সাধারণ সভায় যোগ দিতে এসে চিকিৎসকদের একহাত নিলেন পিডিএর রাজ্য সভাপতি ডাঃ নির্মল মাজি। বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত তিনদিন আগে ঘটে যাওয়া চিকিৎসককে মারধরের অভিযোগে রাতে রোগীর দেখা বন্ধ করে দিয়ে ঘন্টা চারেকের ধরে কর্মবিরতি চালিয়ে যান জুনিয়ার ডাক্তারেরা। সেই সময় একজন রোগীও মারা যায় বলে অভিযোগ। যদিও সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন হাসপাতাল সুপার। কিন্তু এই কর্মবিরতি কেন হয়েছিল সেই কৈফিয়ত দাবি করেন নির্মল মাজি।

এদিন নির্মল মাজি বলেন কথায় কথায় কর্মবিরতি শুধু সরকার কেন প্রগ্রেসিভ ডাকার অ্যাসোসিয়েশনের তরফের তারা সমর্থন করবেন না। এটা অসামাজিক এটা মানুষের বিরুদ্ধে। এরা সমাজবিরোধী। এদিন তিনি বার্তা দেন জুনিয়ার ডাক্তারদের নিরাপত্তা অবশ্যই সুনিশ্চিত করা হবে। তবে কোনো সরকার,  পুলিশ বা সেনাবাহিনীর পক্ষে কাউকে  নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব নয়। তাহলে ইন্দিরা গান্ধী বা রাজীব গান্ধী আততায়ীদের হাতে খুন হতেন না। এদিন নির্মল মাঝি চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে বার্তা দেন চিকিৎসকদের নিজেকে ভালো ব্যবহার করে তাদের নিজেদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে হবে। নিজের ব্যবহার নিজের সুনাম দিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা করতে হবে। গ্রামীণ এলাকায় কোনো চিকিৎসকের সাথে তার কলিকও থাকে না সেখানে আবার নিরাপত্তা।

প্রসঙ্গত রোগীর আত্মীয়ের সাথে বচসার জেরে সোমবার রাতের দিক থেকে মাঝরাত পর্যন্ত কর্মবিরতি করে জুনিয়ার ডাক্তারেরা। ঘটনার  জেরে এক রোগীর মৃত্যু ঘটে বলে অভিযোগ।   ঘটনার জেরে  হাসপাতাল চত্বরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায় । খবর পেয়ে ওইদিন মাঝরাতে  হাসপাতাল সুপার, মহকুমা পুলিশ আধিকারিকেরা হাসপাতালে গিয়ে জুনিয়ার ডাক্তারদের সাথে আলোচনায় বসেন। রাত প্রায় তিনটে নাগাদ উঠে যায় কর্মবিরতি।এরপরের দিন মঙ্গল বার বেলায় ফের জুনিয়ার ডাক্তারেরা তাদের নিরাপত্তার দাবি তুলে সুপারের অফিসে যান । সেখানে বর্ধমান উত্তর মহকুমাশাসক, পুলিশ আধিকারিক, ও হাসপাতালের প্রিন্সিপ্যালের সাথে আলোচনা করেন।

 

Leave a Reply