চাল বোঝাই লরি হাইজ্যাকের ঘটনায় আন্তজেলা  ছিনতাই চক্রের হদিস

এবি ওয়েব ডেক্স :  চাল বোঝাই লরি হাইজ্যাকের ঘটনায় আন্তজেলা  ছিনতাই চক্রের হদিস পেল ভাতার থানার পুলিস । হাইজ্যাকের ঘটনায় তদন্তে নেমে এক তৃণমূল  নেত্রীর স্বামীর স্করপিও গাড়ি আটক করেছিল পুলিশ । বুধবার রাতে নিত্যানন্দপুর ডাঙ্গাপাড়া গ্রাম থেকে পুলিশ আর একটি সাদা টাটা সুমো আটক করে ।গাড়িটি একটি জোপে ডাল পালা দিয়ে ঢাকা অবস্থায় রাখা ছিল।  পুলিশ তদন্তে জানতে পেরেছে ওই সুমো গাড়িটিতে পুলিশের স্টিকার  লাগিয়ে বর্ধমান ও সংলগ্ন জেলা গুলিতে ওই চক্রটি ছিনতাই সহ একাধিক অসামাজিক কাজ করেছিল । সুমোর মালিক সামিম আখতার ওরফে বাপি আগে থেকে পালিয়ে যাওয়ায় তাকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ । এই টাটা সুমো গাড়িটি কার নামে আছে তা তদন্ত করছে পুলিশ । এই গাড়ি করেই মাস ডেড়েক আগে হুগলীর গোঘাটে একটা ধান বোঝাই লরি ছিনতাই করা হয়েছিল। এছাড়া গত ৫ অক্টোবর বীরভূমের পাড়ুই থানা এলাকা থেকে একটা আলু বোঝাই টাককে ছিনতাই করা হয়েছিল।

প্রসঙ্গত গত ২৪ শে অক্টোবর রাতে ভাতারের বিজিপুর গ্রামের কাছে বাদশাহী রোডে একটি চাল বোঝাই লরি হাই জ্যাক করা হয় । এই ঘটনার প্রায় ১ মাস পর বলগোনা থেকে একটি স্করপিও গাড়ি আটক করে পুলিশ । গাড়িটি বর্ধমান জেলা পরিষদ সদস্য চন্দনা সামন্তর স্বামী সাগরসুন্দর সামন্তর । ওই গাড়ির চালক মিজারুল মির্জা ও তাঁর সঙ্গী ইলিয়াস সেখকে গ্রেফতার করে পুলিশ । এদের জেরা করে একের পর এক তথ্য উঠে আসতে শুরু করে বলে দাবি পুলিশের । এরপরই পুলিশ ডাঙ্গাপাড়া গ্রামে হানা দেয় ।

পুলিশ সুত্রে জানা গেছে , বুধবার রাতে পুলিশ ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের সামিম আখতার ওরফে বাপি নামের এক যুবকের বাড়িতে হানা দেয় । জানতে পেরে আগে থেকে বাপি পালিয়ে যায় । তাঁর বাড়ির পাশে একটি ঝোপের মধ্য থেকে টাটা সুমো গাড়িটির হদিস পায় পুলিশ । ওই সুমো গাড়িটির ভিতর থেকে ৩০ বস্তা চাল ও পুলিশের স্টিকার উদ্ধার করা হয় ।

পুলিশ সুত্রে জানা গেছে , চন্দনাদেবীর স্করপিও ও ওই টাটা সুমো গাড়িটি নিয়ে বর্ধমান,বীরভুম,হুগলি,বাকুড়া ,পুরুলিয়া সহ একাধিক জেলাতে ছিনতাই ও গাড়ি হাইজ্যাক করত ওই চক্র । পুলিশের স্টিকার সাঁটা গাড়ি নিয়ে রাতের বেলায় বিভিন্ন জেলার লরি আটকে প্রায় ২০ জনের একটি দুষ্কৃতি দল ছিনতাই চালাতো । জানা গেছে , এই চক্রটির প্রতি জেলায় ইনফর্মার আছে । তারাই খবরাখবর দিত ।

Leave a Reply