জমি আন্দোলনের রক্তে ভেজা নন্দীগ্রামের মাটি এখনও তৃণমূলের ঘাঁটি

এবি ওয়েব ডেক্স, তমলুক (পূর্ব মেদিনীপুর) :  জমি আন্দোলনের মাটি নামেই পরিচিত নন্দীগ্রাম। সেই ২০০৮ সাল থেকে শুরু। প্রতিটা নির্বাচনই প্রমাণ করে দিচ্ছে নন্দীগ্রাম মানেই শুভেন্দু অধিকারী, নন্দীগ্রাম মানেই তৃণমূল। আজকের উপনির্বাচনের ফলাফল ফের প্রমান করল, জমি আন্দোলনের রক্তে ভেজা নন্দীগ্রামের মাটি এখনও তৃণমূলের ঘাঁটি। শুধু ঘাঁটি নয়, যত সময় যাচ্ছে বিরোধীদের কাছে নন্দীগ্রাম কার্যত দুর্ভেদ্য দুর্গে পরিনত হচ্ছে। জীবন বাজি রেখে রক্তাক্ত নন্দীগ্রামের কাছে দাড়ানো শুভেন্দু অধিকারির সঙ্গে নন্দীগ্রামের সম্পর্ক যত পুরানো হচ্ছে, ততই নন্দীগ্রামে তৃণমূলের শিকড় আরও গভীর হচ্ছে। নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে পূর্বের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে এবার ১ লক্ষ ৩৯ হাজার ৭৭১ ভোটে জয়লাভ করেছেন তৃণমূল প্রার্থী। রাজনৈতিক মহলের মতে, শুভেন্দুবাবুর যোগ্য সাংগঠনিক দক্ষতা, ব্যাপক উন্নয়ণের কর্মকাণ্ড ও ভোটের আগে বিরোধদের ঘর ভাঙিয়ে মার্কামারা কমরেডদের দলে নিয়ে আসা এই সাফল্যের একমাত্র ইউএসপি। যদিও বিরোধীদের দাবি, চরম সন্ত্রাস করেই তৃণমূল এই সফলতা পেয়েছে।

এই বিপুল ভোটে জয়ের পর রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, পালাবদলের পর নন্দীগ্রামকে কেন্দ্র করে উন্নয়ণের জোয়ার বইয়ে দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারি। এই বিধানসভা কেন্দ্রের কোনও  স্কুল ও মাদ্রাসা নেই যেখানে শুভেন্দুবাবু আর্থিক সাহাজ্য করেননি। গ্রামে গ্রামে ঢালাই ও পীচ রাস্তা, নন্দীগ্রাম বাইপাস রোড, রাস্তায় পথবাতী থেকে শুরু করে খাল সংস্কারের মত হাজারো উন্নয়ণমূলক কাজ করেছেন। জেলাপরিষদ, সংসদ সদস্য উন্নয়ণ তহবিল,বিধায়ক এলাকা উন্নয়ণ তহবিল, হলদিয়া উন্নয়ণ পর্ষদের টাকায় নন্দীগ্রামকে কার্যত ঢেলে সাজিয়েছেন শুভেন্দুবাবু। দ্বিতীয়ত,এছাড়া এই উপনির্বাচনের প্রাকাল্লে শুভেন্দুবাবুর হাত ধরে সিপিএমের প্রাক্তণ জোনাল সম্পাদক শ্রীমন্ত দাস, জোনাল সদস্য শুভেন্দু দাস, সিপিএম নেত্রী সুজাতা মাইতি সহ সিপিএম ও বিরোধী দলের প্রচুর নেতা কর্মী তৃণমূলে যোগ দেয়। তৃতীয়ত, বিধানসভা ভোটের সময় শুভেন্দুবাবু সারা রাজ্যে প্রচারের দায়িত্বে থাকায় নন্দীগ্রামে সেইভাবে সময় দিতে পারেননি। ফলে দলের অভ্যন্তরে ছোট‑খাটো মান অভিমান থেকে গিয়েছিল। এবার নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জয়লাভ করে রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী হওয়ার পর এখানে অনেক বেশি সময় দিতে পারছেন শুভেন্দুবাবু। সেকারণে ছোট খাটো মান অভিমান ও ভুল বোঝাবুঝির প্রভাব এবারের ভোটে পড়তে দেননি।

Leave a Reply