জল-বাতাসা নিয়ে ব্যাংকের লাইনে দাঁড়ানো গ্রাহকদের পাশে তৃণমূল

মহুয়া ঘোষাল,গলসি:  নির্বাচন নয় । বীরভূমও নয় । লাইনে দাঁড়ানো ব্যাংকের গ্রাহকেরা হাতে পেলেন জল বাতাসা গলসি থেকে বুদবুদ থানা এলাকায় । তৃষ্ণা মেটাতে পেরে খুশী নিজের হকের টাকা তোলার জন্য লাইনে দাঁড়ানো ব্যাংক গ্রাহকেরা । এ ছবি দেখা গেল গলসি ২নং ব্লক থেকে আউশগ্রাম ২নং ব্লকের প্রায় প্রতিটি ব্যাঙ্কের সামনে । চেয়ার টেবিল পেতে তৃণমূলের পতাকা টাঙিয়ে তৃণমূল কর্মীরা হাজির ব্যাঙ্কের সামনে জল – বাতাসা দিতে ।

গলসি ২নং ব্লকের সবগুলি ব্যাংকের সামনে আজকের চেহারটা একটু অন্যরকম । সোমবার ছিল ছুটি । ব্যাংক ছিল বন্ধ । আজ তাই ভোর রাত থেকেই ভিড় ব্যাংকগুলির সামনে । কেউ বেঁধে নিয়ে এসেছেন চিড়ে – মুড়ি – রুটি । কে জানে কখন মিলবে টাকা ।

jol-batasa-golsite-tmc-r-pokxo-theke

 

গলসির আলু চাষি সেখ কিয়ামুদ্দিন এসেছেন ব্যাংকে টাকা বদলি করতে । আলু বীজ কেনা বাকি । ঘরে ছিল হাজার পনেরো টাকা । ধান কাটা আর  আলু বীজ কেনার জন্য রাখাছিল । কিন্তু সরকার থেকে ৫০০ – ১০০০ টাকার নোট বাতিল হতেই চিন্তায় সেখ কিয়ামুদ্দিন । আজ এসেছেন নোট বদলি করতে । সঙ্গে এনেছেন চিড়ে গুড় । লাইনে দাঁড়িয়েছেন ভোর পাঁচটা থেকে । তৃষ্ণা পেলেও লাইন ছেড়ে যাওয়ার সাহস পাচ্ছিলেন না কিয়ামুদ্দিন  । হটাত দেখেন জলের জগ আর বাতাসা নিয়ে দাঁড়িয়ে কিছু যুবক । সেখ কিয়ামুদ্দিন দুটো বাতাসা তুলে নিয়ে মুখে দিয়ে প্রায় এক জগ জল ঢেলে নিলেন গলায় । তৃষ্ণা মিটতেই তৃপ্তির সুরে আল্লার কাছে দোয়া করলেন যুবকেরা যেন ভালো থাকে । সেখ কিয়ামুদ্দিন বললেন কে দিচ্ছে কেন দিচ্ছে জানিনা আর জানতেও চাই না । কিন্তু এভাবে লাইনে দাঁড়ানো মানুষের হাতে জলের জগ তুলে দেওয়া প্রশংসার যোগ্য বলে জানালেন ৬৫ বছরের কৃষক সেখ কিয়ামুদ্দিন ।

কলেজ থেকে চলে এসেছেন মধুছন্দা সেন । হাতে দুটো পাঁচশো টাকার নোট । মধুছন্দা ডাকেন দাদা একটু এদিকে । জল পান করে মধুছন্দা জানান এই পরিকল্পনা খুব   ভালো পরিকল্পনা । ভোটের জন্য এটা একটা রাজনৈতিক চাল প্রশ্ন করতেই বি এ দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী মধুছন্দা বললেন দেখুন কিছু উদ্দেশ্য নিয়েই কাজ হয় কিন্তু যদি সেটা যদি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য হয় তাহলে তার প্রশংসা করতেই হয় ।jol-batsa-photo-2গলসির সব কটি ব্যঙ্কের সামনে এই চেহারা আজ সারা দিন ধরেই দেখা গেল ।

আউশগ্রাম ২নং ব্লকের বুদবুদ থানার অন্তর্গত কোটা পঞ্চায়েত এলাকার সব কটি ব্যাংকের সামনে একই চেহারা । জল – বাতাসা হাতে তৃণমূল কর্মীরা । লাইনে দাঁড়ানো গ্রাহক চাইলেই বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে গ্লাস জলের জগ আর বাতাসা । তবে কোটায় বেশ কিছু ব্যাংকের সামনে মুড়ি চপ নিয়েও হাজির তৃণমূল কর্মীরা । দূরদূরান্ত গ্রাম থেকে আসা ব্যাংক গ্রাহকেরা ভোর থেকে লাইন দিয়েছেন ব্যাংকের সামনে । আনতে পারেন নি জল খাবার। তাদের জন্য তৃণমূল কর্মীরা হাজির করেছেন চপ মুড়ি ।

বিজেপি অবশ্য কটাক্ষ করতে ছাড়ে নি তৃণমূলের জন সংযোগের জল- বাতাসাকে নিয়ে । বিজেপি রাজ্য কমিটির সদস্য নরেশ কোনার বলেন সারদা আর নারদার থেকে পাওয়া কালো টাকা নিয়ে চিন্তায় তৃণমূল সুপ্রিমো থেকে নেতাদের ঘুম গিয়েছে ছুটে । এখন তৃণমূল মানুষের মন পেতে ভাঁওতাবাজি করছে  ।

তৃণমূল নেতা  নবকুমার হাজরা শৈলেন হালদার রামকৃষ্ণ ঘোষ   বিজেপির কটাক্ষের জবাবে বলেন তৃণমূল কি করছে দেখে লাভ নেই বিজেপির । এই নেতারা পাল্টা কটাক্ষ করে বলেন বিজেপির নেতারা যেন ভুলক্রমেও ব্যাংকের সামনে না আসেন মানুষ ক্ষোভে ফুটছে কি হয়ে যাবে তা কেউ বলতে পারে না ।

 

 

Leave a Reply