টাকা তোলার জন্য মাঝরাত থেকে ব্যাংকের সামনেই  অর্ধেক ঘুম দিচ্ছেন চন্দন, রাবেয়ারা!

মহুয়া ঘোষাল,গলসি : গলসির পুরশা ষ্টেট ব্যাংক । সকাল দশটা । লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে গ্রাহকেরা । নোট পরিবর্তনের জন্য । লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে  প্রায় সাতশো জন । লাইনে দাঁড়ানো গ্রাহকেরা জানান প্রায় বারশো গ্রাহকের লাইন পড়ছে । টাকা পাচ্ছে মাত্র ছশো জনের  কিছু বেশী । টাকা দেওয়া চলছে বিকাল চারটা পর্যন্ত । ব্যাংক কর্মীরা সামান্য বিশ্রাম না নিয়েই মুখ গুঁজে কাজ করে চলছেন  বলে জানালেন গ্রাহকেরাই । হটাত চীৎকার  খুলেছে বলে  । ব্যাংকের দরজা খুলতেই  খুশীর হাওয়া চোখেমুখে সেখ চন্দনের । আজ সে লাইনে প্রথম । আটপাড়ার বাসিন্দা সেখ চন্দন গতকাল ফিরে গিয়েছিলেন টাকা পান নি । আজ তাই রাত দুটোয় লাইন দিয়েছিলেন ব্যাংকের সামনে । প্রতিজ্ঞার থেকেও চাহিদা ছিল বেশী । ঘরে একটাকাও নেই । সংসার চলবে না । তাই রাত দুটোয় লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন সেখ চন্দন । আজ সফল ।  তিনিই প্রথম আজ টাকা পেলেন । মেয়েরাও পিছিয়ে নেই ।

রাবেয়া খাতুন । পুরশার বাসিন্দা । তিনি মেয়েদের মধ্যে প্রথম টাকা পেয়েছেন । রাবেয়া জানান তিনি রাত তিনটের সময় লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন ।

প্রধানমন্ত্রীর নোটের পরিবর্তনের ঠেলায় ঘুম ছুটেছে আমআদমির । নিজের হকের টাকা ফেরত পেতে কালঘাম ছুটছে গ্রামীণ বাসিন্দাদের । রাবেয়া বলেন কালো টাকা কি আসবে জানিনা কিন্তু আজ জানলাম টাকার অভাবে কি কষ্ট করে জীবন চলে ।

পুরশার বাসিন্দা শ্যামল মল্লিক । স্ত্রী সন্তান সম্ভবা । মাথায় বাজ ভেঙে পড়েছে । শনিবার গিয়েছিলেন ব্যাঙ্কে । নোট পরিবর্তন করে মাত্র দু হাজার টাকা পেয়েছেন । শ্যামল মল্লিক জানান ১৪ তারিখের পর হাসপাতাল তো বাতিল নোট নেবে না । তাহলে কি করে হাসপাতালের খরচ মেটাবো বলে হতাশ গলায় জানা শ্যামল মল্লিক ।

কাঁকসা ব্লকের একটি বেসরকারি নার্সিং হোমে চিকিৎসাধীন অনিরুদ্ধ মজুমদার । চিকিৎসক জানিয়েছেন সোমবার অপারেশন হবে । বুদবুদ পানাগড় বাজারে ঘুরে অনিরুদ্ধের মা সন্ধ্যা দেবী নিজের গলার সোনার হার বিক্রি করতে পারেন নি । সবাই পুরানো নোট দিতে চেয়েছে  । অনিরুদ্ধের মা অসহায় ভাবে জানান আগে জানতাম সোনা বিপদের বন্ধু কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর খামখেলায়িপনায় আজ সোনা দিয়েও টাকা পাচ্ছি না । বন্ধ হতে বসেছে আমার ছেলের চিকিৎসা বলে চোখের জল মোছেন আঁচল দিয়ে  অনিরুদ্ধের মা ।

হঠাৎ  চিৎকার এত ঢিমেতালে চলছে কেন লাইন । উত্তর আসে লিংক নাই । সাধন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন লিংক না থাকার জন্য বারে বারে কাজ থেমে যাচ্ছে আর চারটা বেজে যাওয়ায় টাকা পাচ্ছেন না লাইনে দাঁড়িয়েও বলে অভিযোগ গ্রাহকদের ।

 

 

Leave a Reply