দামোদর নদ বাঁচাও এর দাবিতে ঝাড়খন্ড থেকে হুগলী পর্যন্ত সাইকেল র‍্যালি

শিবরাম পাল, জামুড়িয়া 

দামোদর নদকে দূষন মুক্ত করার দাবিতে এবং দামোদর ও তার সহযোগী নদীগুলিকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়ার প্রতিবাদে নদী বাঁচাও জীবন বাঁচাও এর আহ্বানে ঝাড়খন্ডের লাতেহার জেলা থেকে  সাইকেল ।  এই র‍্যালিতে চব্বিশ জন সদস্য কে নিয়ে  ৯ই ডিসেম্বর ঝাড়খন্ডের লাতেহার জেলা থেকে শুরু করে ২০ ই ডিসেম্বর প্রায় ৫৫০কিমি পথ অতিক্রম করে হুগলী আটান্ন গেটের সামনে র‍্যালি শেষ হয়। এই র‍্যালিতে গান্ধী বিচারধারার অনুগামী সামাজিক কর্মী, স্বাস্থ্য কর্মী, পরিবেশ কর্মী, ছাত্র- যুব- শিক্ষক প্রভৃতি সমাজের বিভিন্ন ধারার মানুষ অংশ নিয়েছে। এই র‍্যালির মূল উদ্দেশ্য দামোদর  অন্যান্য নদীগুলিতে শহর ও কলকারখনার দূষিত বর্জ্য ফেলা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। প্রত্যেক বছর বন্যা থেকে বাঁচাতে নিম্ন দামোদর অঞ্চলে শাখানদী ও খাল গুলির সংস্কারের সুনির্র্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করে তা বাস্তবায়িত করতে হবে। ডি.ভি.সি ও অন্যান্য শিল্প সংস্থার কারনে উচ্ছেদ হওয়া পরিবার গুলিকে কর্মসংস্থানেরের ব্যবস্থা করতে হবে। ভাঙন সমস্যা রোধ জাতীয় পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। ছোটো ছোটো পরিকাঠামো গড়ে জল সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে, সহ চোদ্দটি উদ্দেশ্য এই র‍্যালির বিভিন্ন মোড়ের মাথায় মাথায় পথনাটিকা, গান, বক্তব্য এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতি কাজের মধ্যমে দামোদরের কাথা মানুষের সামনে তুলে ধরে তারা। নদী বাঁচাও জীবন বাঁচাও র‍্যালিতে অংশ নিয়েছেন ত্রিলোকেশ কুন্ডু, সৌরভ প্রকৃতিবাদী, তাপস দাস উমেশ তুরি সহ অন্য সদস্যবৃন্দরা । ত্রিলোকেশ বাবু জানান যে দামোদর নদ বাংলার দুঃখ বলে পরিচিত, কিন্তু বর্তমান কালে দামোদর নদের উপর খোলা মুখ খনি, বালি খাদান, ডি.ভি.সি তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ছাই- গরম জলে দামোদর নিজেই দুঃখী দামোদরের পরিণত হয়েছে। তিনি জানান স্বাধীনতার ৭০ বছর পেরিয়ে গেলেও দামোদর নদের উপর বহুমুখই পরিকল্পনার বাস্তবায়িত করা সম্বভ করা যায়নি। তিনি আরও জানান যদি দামোদর সহ সবকটি নদীকে দুষন মুক্ত না করা হয় এবং সু পরিকল্পতি ভাবে বহুমুখই পরিকল্পনা না নেওয়া হয় তবে ভবিষ্যতে ভারতকে আর নদী মাতৃক দেশ বলা যাবেনা।

Leave a Reply