দিন তিনেকের লড়াই ব্যর্থ তাই আজ সন্ধে থেকেই ব্যাংকে লাইন গলসির চাষিদের

                                                                                     মহুয়া ঘোষাল  

ধান কাটা আছে । আলু বিজ কিনে বসানো আছে । সব কাজ ভেস্তে   যেতে বসেছে মোদীর কালো টাকার অভিযানে নোট বাতিলের চক্করে ।গলসির পুরশা গ্রামের ষ্টেট ব্যাংকের দরজায় সন্ধ্যে থেকেই লাইন গ্রাহকদের আগামীকাল টাকা তোলার জন্য ।

গলসির দুটি ব্লক ধান উৎপাদনে রাজ্যের সেরা । ধান কাটা আছে । আলু বীজ কিনে আলু বসানো আছে । চাষি ঘরেই রেখেছিল টাকা । ৫০০ আর ১০০০ টাকার নোট ছিল ঘরে । কারো ১৫০০০ টাকা তো আবার কারো বা ৩০০০০ হাজার । দিন আট আগে বাতিল করে দেওয়া ৫০০ আর ১০০০ টাকার নোট । চরম সমস্যার মুখে পড়ে গলসির চাষিরা । পারাজে ব্যাংক নাই । দশ কিমি দূরে পুরশায় ব্যাংক আছে । সেখ ইব্রাহীম ষ্টেট ব্যাংকের গ্রাহক । দুদিন টাকা তুলতে এসেছিলেন । পান নি ফিরে গিয়েছেন টাকা না তুলেই । তাই আজ নোট বাতিলের অষ্টম দিনে সন্ধ্যে ছটাতেই ব্যাংকের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে পড়েন সেখ ইব্রাহিম । বিছানাপত্তর খাবার নিয়ে হাজির আরও অনেকেই ।

রামগোপালপুরের জাকির মল্লিক । কুড়ি কিলোমিটার দূরে পুরশার ষ্টেট ব্যাংকে হাজির বিছানা নিয়ে । জাকির মল্লিক আলু বীজ কিনতে পারছেন না । ঘরে কুড়ি হাজার সবই ৫০০ আর ১০০০ নোটে । বাতিল হয়ে যাওয়ায় চরম সমস্যায় জাকির । তাই আজ সন্ধ্যেতেই এভাবে লাইনে আগামীকাল টাকা তোলার জন্য ।

গলসির অধিকাংশ গ্রামেই ব্যাংক নেই । ঘরেই রাখা থাকে চাষির টাকা । বাজারে বড় নোটের চলন বেশী ছিল তাই বড় নোটেই রাখা ছিল টাকা । বাতিল হতেই বিপাকে পড়ে গিয়েছেন গলসির দুটি ব্লকের চাষিরা বলে অভিযোগ ।

চাষিদের অভিযোগ গত দুই দিন ধরে ব্যাংক বিকাল চারটা তেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে । সারা দিনে বেশ কিছুক্ষণের জন্য লিঙ্ক থাকছে না । গোদের উপর বিষ ফোঁড়া লাঞ্চ টাইম । এতেই চলে যাচ্ছে ঘণ্টা দুই – তিন । ব্যাংক খোলে দশটায় । সারাদিনে চারশোর বেশী গ্রাহক বাতিল টাকা জমা করতে পারছেন না । ফিরে যাচ্ছেন প্রায় সমপরিমাণ গ্রাহক বলে জানা গিয়েছে লাইনে দাঁড়ানো গ্রাহকদের কাছ হতে । আর এই সব সমস্যার থেকে রেহাই পেতে কৃষকেরা হাজির আজ সন্ধ্যেতেই ।

Leave a Reply