দুর্গাপুরে চললো গুলি, নিহত এক দুষ্কৃতী

সবে সকাল গড়িয়ে বেলা হয়েছে। সময় মোটামুটি সাড়ে নটা দশটা বাজে। হঠাত গুলির আওয়াজে চমকে উঠলেন নিজের কাজে ব্যস্ত এলাকার মানুষজন। ঘোর কাটার পরেই অনেকের চোখে পড়ল রাস্তার উপর পড়ে আছে একটি মৃতদেহ আর রক্তে ভেসে যাচ্ছে তার দেহটি। কি হয়েছে কি হয়েছে খোঁজ নিতে গিয়ে জানা গেল মৃতদেহটি কুখ্যাত কয়লা মাফিয়া পিন্টু শর্মার গোষ্ঠীর লোক রঞ্জিত ভগতের। সুত্রের খবর দুর্গাপুরের ১৭ নং ওয়ার্ডের মসজিদ মহল্লায় বিভিন্ন অবৈধ কয়লা খনি থেকে সাইকেলে করে আসা কয়লার দখলকে কেন্দ্র করে ফিরোজ আলি ও রঞ্জিতের    মধ্যে প্রথমে বচসা বাঁধে।

এরই কিছুক্ষণ পরে কুখ্যাত কয়লা মাফিয়া পিন্টু শর্মা সহ প্রায় ৩০-৩৫ জনের একটি দল মুখে কাপড় বেঁধে বাইকে করে এসে ফিরোজকে এলোপাথাড়ি মারধর শুরু করে।ঠিক তখনই নিজেকে বাঁচাতে আক্রমণকারীদের লক্ষ্য করে ৩-৪ রাউন্ড গুলি চালায় ফিরোজ। সেই গুলি এসে লাগে রাহুলের  গলায়, সাথে আরো দুটি গুলি লাগে শরীরে। তখনই সেখানে লুটিয়ে পড়ে রাহুল  আর তৎক্ষণাৎ মৃত্যু হয় তাঁর। অবস্থা বেগতিক বুঝে পিন্টু শর্মা তার দলবল সহ এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। এদিকে আহত ফিরোজকে দুর্গাপুর মহকুমা হাস্পাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে আসে এ সি পি বিমল কুমার মন্ডলের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশবাহিনী। ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে ৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এদিকে ফিরোজ আলি বেশ জোরের সাথে দাবী করে যে “এখনও রমরমিয়ে চলছে অবৈধ কয়লা পাচারের কাজ। জেরে তার উপর এই আক্রমণ”। ২০১১ বিধানসভা নির্বাচনের পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন যে এই সব অবৈধ কয়লা কারবার বন্ধ করা হবে আর সেই মতো ব্যবস্থা নিয়ে নাকি বন্ধও হয়ে গেছে কয়লা কারবার। কিন্তু প্রশাসনকে  বুড়ো আঙুল দেখিয়ে তাদেরই নাকের  ডগায় যে কয়লা কারবার অবাধে চলছে তারই প্রমাণ আজকের মসজিত মহল্লার এই ঘটনা।

Leave a Reply