নদীর গতিপথ বদলে দিয়ে নির্মাণের অভিযোগ প্রমোটারি সংস্থার বিরুদ্ধে , রুখলেন বিডিও

 

2 1

আস্ত একটা নদীর গতিপথই ঘুরিয়ে দেওয়ার মারাত্মক অভিযোগ উঠলো উপনগরী গড়া একটা নির্মাণকারী সংস্থার বিরুদ্ধে। বর্ধমান শহরের উপকন্ঠে কামনাড়া এলাকায় খোদ বিডিও অফিসের পিছনেই এই ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক আলোড়ন দেখা দিয়েছে। নদীর গতিপথ পালটে দেওয়ার ফলে আশেপাশের  সাত থেকে আটটা গ্রাম জলের তলায় চলে যেতেই অভিযোগের পর অভিযোগে ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার বিকেলে জেসিবি দিয়ে নদীর গতিপথ পূর্বের জায়গায় ফিরিয়ে দেওয়ার কাজ শুরু হলো।  বর্ধমান -১ নং ব্লকের বিডিও দেবদুলাল বিশ্বাস , বর্ধমান -১ নং পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ কাকলী তা সহ অন্যান্যরা ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে থেকে এই কাজ শুরু করান। অভিযোগ নদীর গতিপথ ঘুরিয়ে দেওয়ার ফলে সাতটি গ্রামের চাষযোগ্য জমি বর্ধমান কাটোয়া রেলপথে বিপদের সম্মুখীন হয়েছে।

প্রসঙ্গত ২০০৬ সালে বর্ধমান-১ নং ব্লকের ভেদিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতে কামনাড়া এলাকায় উপান্তিকা নামে একটি উপনগরী তৈরির কাজ শুরু হয়। প্রায় ৬৭ একর জমির উপরে বেসরকারি নির্মাণকারী সংস্থা পোদ্দার গ্রুপ এই কাজ করে।  সেই সময় ঘটা  করে উদবোধন হয়। তারপর বেশ কয়েক বছর সেখানে কাজ বন্ধ ছিল। ফের ২০১২ সালে নতুন করে উপনগরী গড়ার কাজ শুরু হয়। প্রত্যন্ত চতুরতার সাথে এবং গোপনে উপনগরীর গা ঘেঁষে বয়ে যাওয়া গৌর নদীর গতিপথ পরিবর্তন করার কাজ শুরু করে।  এই জায়গায় গৌর নদীটি অনেকটা ব-দ্বীপের মতো। তাই ব-দ্বীপের ‘ব’-এর অংশটা বুজিয়ে দিয়ে নদীটাকে সোজা নিয়ে যাওয়ার কাজ শুরু করে ওই সংস্থা। নদীর বেশ কিছু অংশ বুজিয়ে দেওয়ার কাজ শুরু হয়। অন্যদিকে সোজা খাল কাটার কাজ শুরু করে। এরই মধ্যে গ্রামবাসীরা নদীর পথ ঘুরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ তোলেন । তখন নির্বাচন কাছে চলে আসায়  সেদিক থেকে মানুষের নজরও ঘুরে যায়। অভিযোগ ফাইল বন্দি হয়ে যাওয়ারও অভিযোগ ওঠে। সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়ে নির্বাচন নিয়ে। এরই মধ্যে নির্বাচন পেরোতেই প্রবল বৃষ্টিতে নদী ভরে ওঠে। দুকুল ছাপিয়ে যায়। আশেপাশের কামনাড়া, পালিতপুর, আমার, বীরপুর প্রভৃতি সাতটি গ্রামে জল ঢুকে পড়ে।  তখন গ্রামবাসীরা ফের অভিযোগ নিয়ে হাজির হন বর্ধমান-১ ব্লকের তৃনমূল কংগ্রেসের সভানেত্রী  তথা পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ কাকলী তা-এর কাছে।  কাকলী দেবী এর প্রতিবাদ জানিয়ে  জেলা প্রশাসনের দ্বারস্থ হন। অভিযোগ করেন স্থানীয় বিডিও দেবদুলাল বিশ্বাসের কাছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেন বিডিও ।  তদন্তে সত্যতা প্রমাণিত হয়।  নির্মাণ কারী সংস্থার কাছে কৈফিয়ত তলব করেন বিডিও।  পাশাপাশি নদীর গতিপথ পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়।  সেই নির্দেশ পেয়ে  প্রশাসন ও পঞ্চায়েত সমিতির  উদ্যোগে ওই নির্মাণকারী সংস্থাকে দিয়ে এদিন কাজ শুরু করা হয়। তিনটি জেসিবি দিয়ে নদীর ভরাট অংশের পলি তোলার  কাজ শুরু করে।

 

Leave a Reply