নিষিদ্ধ মাদক পাচার করতে গিয়ে বর্ধমানে ধৃত ছয়

‘কোডাইন’ নামে তরল মাদক  পাচার করতে এসে হাতে নাতে ধরা পড়লো ছয় যুবক। পুলিশ দেখে তারা প্রথমে তারা পালানোর চেষ্টা করলে পরে  পুলিশ তাদের তাড়া করে ধরে ফেলে।পুলিশ জানিয়েছে  হাওড়া থেকে শহর বর্ধমানে পাচার করতে আসছিল ধৃতরা।  বাইপাসে দুর্গাপুর এক্সপ্রেস ওয়ের উপর ছয় জনকে গ্রেফতার করা হয়। সিজ করা হয় তাদের দুটি বাইক।এছাড়া  উদ্ধার হয়েছে দুটি জ্যারিকেনে চার লিটার কোডাইন। ধৃত ছয় জনকে সার্চ করে তাদের কাছ  থেকে উদ্ধার হয়েছে দুটি অত্যাধুনিক ওয়ান সাটার ও তিন রাউন্ড গুলি।

বুধবার ধৃত মাদক পাচার কারী ছয় জনকে বর্ধমান আদালতে পেশ করা হয়েছে। তাদের ১০ দিনের পুলিশি হেপাজত চেয়ে আবেদন জানিয়েছে বর্ধমান থানার পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে ধৃতরা হলো শেখ কুতুবুদ্দিন, লালচাঁদ মল্লিক, তপন মান্ডি, শেখ আনারুল, শেখ নজরুল ইসলাম ও মুকুল শেখ। তাদের বাড়ি দক্ষিন দামোদরের রায়না ও খন্ডঘোষ থানা এলাকায়।

জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে বর্ধমান শহরে দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারীরা বিভিন্ন জায়গা থেকে নেশাকর দ্রব্য নিয়ে এসে ব্যবসা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। বর্ধমান শহর মাদক চোরাচালানের সেফ করিডর করে আশেপাশের জেলা গ্রামগঞ্জে মাদক পাচার করা হয়। ইতিপূর্বে শহরের মেহেদীবাগান, লক্ষীপুর মাঠ, স্টেশন এলাকা থেকে কোটি কোটি টাকার হেরোইন গাঁজা উদ্ধার করেছে জেলা পুলিশ। গ্রেফতারও করা হয়েছে। পুলিশ ধারাবাহিক অভিযান চালালেও চোরাচালানকারীরা কিন্তু থেমে নেই। তারই প্রমাণ স্বরূপ এদিন ছয় যুবক দুটি বাইকে চেপে বর্ধমানের বাইপাসে দুর্গাপুর এক্সপ্রেস ওয়ের উপর সন্দেহ জনক ভাবে ঘোরাঘুরি করছিল। গোদা এলাকায় বাইক দুটিকে পুলিশ আটক করার চেষ্টা করলেও তারা পালাতে থাকে। তখন পুলিশ তাড়া করে দুই বাইক সহ ছয় যুবককে ধরে ফেলে। ওদের নাম পরিচয় জানতেই  তারা অসংলগ্ন কথাবার্তা বলে। ঘটনাস্থলেই তাদের দেহ তল্লাশি করলে উদ্ধার হয় আগ্নেয়াস্ত্র। দুটি জ্যারিকেনে পাওয়া যায় কোডাইন। পুলিশ জানতে পেরেছে ইদানীং কোডাইন নামে এই মাদকের চাহিদা বাড়তে থাকায় সমাজে একাংশ যুবক এতে আসক্ত হয়ে পরছে। তাই পাচার চক্রের মূল চ্যাঁইকে ধরার জন্য ১০ দিন হেপাজত চেয়ে আদালতে আবেদন করা হয়েছে। ধৃতদের পুলিশি হেপাজত দেয় আদালত।

Leave a Reply