প্রধানমন্ত্রীর নোট বাতিলের ধাক্কায় বেসামাল আমজনতা থেকে ব্যাবসায়ীরা

মহুয়া ঘোষাল, কাঁকসা :  রাত ১২ টার পর প্রধানমন্ত্রীর ৫০০ এবং ১০০০ টাকার নোট বাতিলের ধাক্কায় বেসামাল গ্রাম এলাকার আমজনতা থেকে ব্যবসায়ি । কিন্তু বেসামাল হলেও কেউ কেউ বলছেন কালো টাকা উদ্ধারে এটাই একমাত্র পথ আবার কেউ কেউ বলছেন এভাবে আচমকা নোট বাতিলে বিপদে পড়তে হচ্ছে সবাইকে ।

বাজারের কোথাও কোথাও নেওয়া হচ্ছে বাতিল হয়ে যাওয়া ৫০০ আর হাজার টাকার নোট আবার কেউ সাফ জানিয়ে দিচ্ছেন নেওয়া যাবে না । তবে কোন কোন পঞ্চায়েত অফিসে নেওয়া হচ্ছে ৫০০ এবং ১০০০ টাকার নোট ।নির্মল বাংলা মিশনে  শৌচাগার প্রকল্পে শৌচাগারহীন পরিবার গুলির কাছ থেকে ৫০০ এবং হাজার টাকার নোট নেওয়া হচ্ছে ।

শিল্প কারিগরি [ ITI ] বিভাগের ছাত্র । বেসরকারি আই টি আই প্রতিষ্ঠানের ছাত্র নবীন পাখিরা । বেতন দিতে গিয়েছিলেন কলেজের কাউন্টারে । বেতন নেওয়া হয় নি । ৫০০ টাকার নোট নেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেয় কলেজ । নবীন পাখীরা বলেন এভাবে আচমকা নোট বাতিল একুশে আইনের মতো ।নবীনের কথায় বেসরকারি এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের বেতন দেওয়া হয় ৫০০ এবং হাজার টাকার নোটে । একদিনে চার হাজার টাকার বেশী নোট পরিবর্তন করা যাবে না । অথচ কর্মীরা  বেতন পেয়েছে কেউ পনেরো  দশ হাজার  আবার কেউ  পনেরো হাজার টাকা । বাজারে চলছে না টাকা । কিভাবে সংসার চালাবে সাধারন মানুষ বলে ক্ষোভ প্রকাশ করে নবীন পাখিরা ।

রাজবাঁধের ব্যাবসা করেন রিতেশ জৈন । রিতেশ বলেন নোট বাতিলের কারণে এক ধাক্কায় বিক্রি কমে গিয়েছে অনেকটাই । খুচরো দিতে না পারায় বিক্রি বন্ধ । রিস্ক নিয়ে ৫০০ টাকা বা হাজার টাকার নোট নেওয়া যাচ্ছে না । ব্যঙ্কে লাইন দিয়ে নোট পরিবর্তন করবো না ব্যাবসা করবো তাই কেনাকাটা প্রায় বন্ধের মুখে বলে হতাশা প্রকাশা করেন রিতেশ জৈন ।

গৃহবধূর সুর কিন্তু একেবারে আলাদা । গৃহবধু উমা ঘোষাল বলেন কালো টাকা উদ্ধারে আর কিছু করার নাই প্রধানমন্ত্রীর । উমাদেবির কথায় প্রধানমন্ত্রী এটা ঠিকই করেছেন ।

পানাগড় বাজার গলসি বাজার বুদবুদ বাজার মানকর বাজারের চেহারা খুব একটা ভালো নয় । প্রায় সব বাজারেই ব্যাবসায়িরা বলছেন বিক্রি এক ধাক্কায় নেমে গিয়েছে তলানিতে । সবচেয়ে সমস্যায় পড়েছেন রোগীর পরিবারেরা । ওষুধের দোকান রাজি হচ্ছে না ৫০০ বা হাজার টাকার নোট নিতে । পানাগড় বাজারের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ওষুধ ব্যবসায়ি বলেন কিভাবে নেব । টাকা পরিবর্তন করতে ব্যাংকের ঝামেলা কেন ভোগ করবো বলে সাফ জানান ওই ওষুধ ব্যবাসায়ি । গলসি বাজারের এক মুদির দোকানের মালিক অরিন্দম পাল বলেন মহাজন নোট  নিচ্ছে না ।সেক্ষেত্রে তারা কিভাবে নোট নেবেন ।

বুদবুদ বাজারের ব্যাবসায়িদের মতে ব্যাংকের ঝামেলা ভোগ করতে না হলে নোট নেওয়া যেত কিন্তু কে নেবে ব্যাঙ্কের ঝামেলা ।

সরকারি ভাবে সমস্ত ৫০০ টাকার এবং এক হাজার টাকার নোট বাতিল হয়ে গিয়েছে ।আজও  রামগোপালপুর পঞ্চায়েত অফিসে কিন্তু নেওয়া হচ্ছে । কিন্তু কেন ? নির্মল বাংলা মিশনে শৌচাগার প্রকল্পে নেওয়া হচ্ছে ৫০০ এবং হাজার নোট । রামগোপালপুর পঞ্চায়েত প্রধান ফতেমা বেগম বলেন এখন ফেরত পাঠালে আর পাওয়া যাবে না টাকা খরচ করে ফেলবে সংসারে । তাছাড়া গরীব পরিবারগুলি কোথায় পরিবর্তন করবে এই নোট   । এই সব চিন্তা করে নেওয়া হচ্ছে নোট বলে জানান প্রধান ।

 

Leave a Reply