প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমি দখল করে জবর দখল দোকান ভাঙলো প্রশাসন

জাহাঙ্গীর বাদশা, পশ্চিম মেদিনীপুর

পশ্চিম মেদিনীপুরের চাঁদরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমি জবরদখল করে পানের দোকান ও সেলুন তৈরি করা হয়েছে চলতি বছর জানুয়ারী মাসের প্রথমদিকে । স্কুলের জমিতে তৈরি হওয়া ১৬ থেকে ১৭টি দোকানকে গত ৯ ডিসেম্বর ভাঙার নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি নিশীথা মাত্রে এবং বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চ।

পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলাশাসককে দোকানগুলি ভাঙার নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। স্কুলের জমি জবরদখল করে দোকান ঘর, ক্লাব গড়ে ওঠা নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের উদাসীনতায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে আদালত। BLRO সব জানা সত্ত্বেও কেন কোনও ব্যবস্থা নেয়নি, তা জানতে আদালত তাঁকে ৯ ডিসেম্বর তলব করেছিল। কিন্তু, BLRO  আদালতে না এসে একটি রিপোর্ট পাঠান।সেই রিপোর্টে তিনি স্বীকার করে নিয়েছেন, চাঁদরা বোর্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমি জবরদখল করে পানের দোকান ও সেলুন তৈরি করা হয়েছে। ক্লাব নির্মাণের কাজও চলছে। এই রিপোর্ট পড়ার পর ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি নিশীতা মাত্রে BLRO-র অনুপস্থিত থাকার কারণ জানতে চান। তখন অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি (AGP) তপন মুখোপাধ্যায় বলেন, এই বিষয়গুলি দেখা BLRO-র কাজ নয়। এটা জেলাশাসকের কাজ। তখন ডিভিশন বেঞ্চ পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলাশাসককে নির্দেশ দিয়েছে, স্কুলের ওই জমিতে তৈরি ক্লাব ও দোকানঘরগুলি ভেঙে স্কুলের মাঠকে ফের আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দিতে।

আদালতের নির্দেশ মতো বৃহস্পতিবার দোকানঘরগুলি ভাঙা হল ৷ এদিন সকাল সাড়ে নয়টা নাগাদ মেদিনীপুর কোতয়ালী থানার IC সুশান্ত রাজবংশী বিশাল বাহিনী নিয়ে হাজির হন স্কুল চত্বরে ৷ দোকান ঘর গুলির গায়ে আদালতের দেওয়া নোটিশ আগেই সাঁটিয়ে দিয়েছিল পুলিশ ৷ বৃহস্পতিবার মেদিনীপুর থানার পুলিশ, BDO ঋত্বিক হাজরা, প্রাথমিক স্কুলের DI, অতিরিক্ত জেলা শাসক সহ প্রশাসনের বেশ কিছু আধিকারিকের উপস্থিতিতে ভাঙা হয় দোকানঘরগুলি ৷ স্থানীয় মানুষদের ভিঁড় ছিল নজর কাড়া ৷ বিশৃঙ্খলা এড়াতে মোতায়েন হয় পুরুষ ও মহিলা বাহিনী ৷ এলাকাবাসীদের একাংশের অভিযোগ ছিল স্থানীয় তৃণমূল নেতা তথা চাঁদরা পঞ্চায়েত সমিতির বন ও ভূমি কর্মাধ্যক্ষ সোমনাথ দে ওরফে পাগলু বেশ কিছু লোকদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে জোরপূর্বক স্কুল ক্যাম্পাসে দোকানঘর তৈরী করেছে ৷ যদিও একথা অস্বীকার করেন সোমনাথ দে ৷ তিনি বলেন এসব তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার করা হচ্ছে ৷ যারা দোকানঘর নিয়েছিল তাদের পরিবারের লোকেদের বক্তব্য – অহেতুক তাদের ক্ষতি করে তাদের রোজগারের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হল ৷ বিনে পয়সায় দোকান ঘর পেয়েছিল তারা ৷ তবে কে সেই দোকান ঘর দিল তাদের তা তারা বলতে চাননি ৷ তাদের আরো বক্তব্য যে তাদের ছেলে মেয়ে এরপর চোর-ডাকাত হবে ৷ প্রশাসনকে ঘিরে বিক্ষোভও দেখান তারা ৷ অবশেষে নানা টানাপোড়ানের মধ্য দিয়ে ভেঙে গুড়িয়ে ফেলা হয় দোকানগুলি ৷ স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা আবারও ফিরে পেল তাদের খেলার মাঠ ৷ খুশী শিক্ষক-শিক্ষিকারাও ৷

 

Leave a Reply