প্রায় চারশো বছর ধরে শেরশাহের দান করা জমিতে চলছে সিদ্ধেশ্বরী কালীপুজো

সম্রাট শেরশাহের দান করা জমিতে সিদ্ধেশ্বরী কালীর পুজো হয়ে আসছে জামালপুরের কোলসরা গ্রামে। ১৫৪০ সালের কথা। শেরশাহের বিশ্বস্ত কর্মচারি ভূ-কৈলাসের রাজবংশের বংশধর দিগম্বর ঘোষাল পশ্চিমবঙ্গের গ্রান্ড ট্রাঙ্ক রোড (জিটি রোড) তৈরি করতে এসে এই পুজোর প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সেই থেকে এখনো অত্যন্ত নিষ্ঠা সহকারে সর্বজনীন হিসেবে গোটা গ্রামের মধ্যে এই একটি মাত্র পুজো হয়ে আসছে। তাই এই ঐতিহ্যমন্ডিত পুজোকে কেন্দ্র করে গ্রাম জুড়ে আনন্দ উৎসবে মেতে ওঠেন সকলে। সুশাসক শেরশাহের নির্দেশে দিগম্বর ঘোষাল বাংলায় জিটি রোড নির্মাণ করার জন্য এসেছিলেন ১৫৪০ খিষ্টাব্দে। জামালপুরের তৎকালীন কংসা নদী (কংসাবতী নয়) পাশে এই কোলসরা গ্রামে কাজের সুবাদে মাঝেমধ্যেই থাকতে হতো তাকে নদীর পাশে। মনোরম পরিবেশে গ্রাম কোলসরাকে তার খুব ভালো লেগে যায়। সেখানে রাত্রিযাপন করতে হয়। তখন কোনো এক রাতে দিগম্বর ঘোষাল  সিদ্ধেশ্বরী কালীর স্বপ্নাদেশ পান।

jamalpur-sersaha-kali_photo_important_priyanka_burdwan_29-2

মায়ের স্বপ্ন পাওয়া মাত্রই তড়িঘড়ি তিনি  ছুটে যান দিল্লিতে সম্রাট শেরশাহের কাছে। সম্রাটকে তিনি তার স্বপ্নাদেশের কথা বিস্তারিত ভাবে বলেন। বিশ্বস্ত কর্মচারীর কথা শোনার পরে সম্রাট কোলসরা গ্রামে সিদ্ধেশ্বরী কালীর মন্দির নির্মাণ ও পুজোর খরচ পাঁচশো বিঘে জমি তাম্রফলকের উপরে লিখে দেন। তারপরেই সিদ্ধেশরী কালীর মন্দির নির্মাণ হয় কংশা নদীর ধারে।  গ্রামের মহাশ্মশানের পাশে পঞ্চ মুন্ডীর আসনের উপরে  দেবীর মূর্তি স্থাপন করা হয়। সেই থেকে এখনো ধুমধাম করে পুজো হয়ে আসছে। এবছর পুজোর বয়স পড়লো ৪৭৭ বছরে।  সেই কংসানদী এখনো আছে। তবে তা বুজে বুজে জায়গায় জায়গায় খালে পরিণত হয়েছে। লম্বায় নদীর অস্তিত্ব বোঝা না গেলেও পরপর সারিবদ্ধভাবে যেভাবে খাল হয়ে আছে তাতে নদীর অস্তিত্ব বুঝতে অসুবিধা হবে না। দিগম্বর ঘোষালের বংশধর শিক্ষক সমীর ঘোষালের কথায় এখানে দেবীর মূর্তিতে বিশেষ বৈচিত্র রয়েছে। সিদ্ধেশ্বরী  দেবীর মূর্তিটি একটি ত্রিশূলকে বেষ্টন করে তৈরি হয়। তাই পুজোর পর নিরঞ্জনের সময় পুরোহিতরা মূর্তিকে কেটে বের করেন।  ১৮২৯ পর্যন্ত এই পুজো ছিল ঘোষাল বাড়ির পুজো। ১৮৩০ থেকে এই পুজো সর্বজনীন রূপ নিয়েছে। এখানে উল্লেখযোগ্য বিষয় গোটা গ্রামে দ্বিতীয় কোনো কালীপুজো হয় না। তবে খুব পরিতাপের বিষয় শেরশাহের দেওয়া  সেই ঐতিহাসিক তাম্রফলকের উপরে লেখা দলিল চুরি হয়ে গেছে।

Leave a Reply