প্রেম কাকে বলে দেখালেন খন্ডঘোষের অমিত ! দেখলো শহরবাসী

চার বছর আগে প্রেম করে  বিয়ে হলেও প্রেমে যে এতটুকুও ভাটা পড়েনি তা দেখিয়ে দিলেন অমিত রায়। বর্ধমানের খণ্ডঘোষ থানার শাঁকারী গ্রামের যুবক অমিত রায়।গোকুলকে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন তিনি।  স্ত্রীর জন্য তার প্রেমের  সাক্ষী রইলেন বর্ধমান শহরের মানুষজন। অভাবের সংসার। দিন চারেক আগে  শাঁকারী গ্রামের বাসিন্দা গৃহবধু গোকুল রায় অন্যান্য দিনের মতই গেছিলেন মাঠে কাজ করতে। কাদাজলের মধ্যে কাজ করার সময় তাঁকে সাপে কামড়ায়। এরপর তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় প্রথমে খণ্ডঘোষ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এবং সেখান থেকে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। গত ২দিন ধরেই তিনি ভর্তি ছিলেন হাসপাতালের রাধারাণী ওয়ার্ডে। স্ত্রী গোকুলের সুস্থতার জন্য রীতিমতই দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন দিনমজুর স্বামী অমিত রায়।২ রাত স্ত্রীর কাছে জেগে বসে থাকেন অমিত। এরইমধ্যে  অমিতের কানে খবর যায়, ভালো নেই গোকুল। আর ঠিক রাখতে পারেননি নিজেকে। স্ত্রীকে হারাবার আশঙ্কায় নিজেই মরতে চেয়েছিলেন। স্ত্রী না থাকলে তিনিও থাকবেন না। ঝাঁপ দেন শ্যামসায়রের জলে।

snake-3

মাত্র ৪ বছর আগে ভালবেসে বিয়ে করেছিলেন তিনি গোকুলকে। রয়েছে তাঁদের আড়াই বছরের একটি ছেলে দেবাশীষ রায়ও। আচমকাই স্ত্রী গোকুলকে সাপে কামড়ানো এবং হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ার এই বিষয়টা মেনে নিতে পারছিলেন না। দুদিন ধরেই হাসপাতালে দিন রাত জেগে অপেক্ষা করছিলেন স্ত্রীর সুস্থতা নিয়ে। ইতিমধ্যে শুক্রবার সন্ধ্যে নাগাদ তিনি হাসপাতালের কোনো একটি সূত্র থেকে খবর পান স্ত্রী গোকুলের অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে শুরু করেছে। ব্যস্। আর মাথা ঠিক রাখতে পারেননি অমিত। ধর্মভীরু অমিত স্ত্রী বিচ্ছেদের কল্পনায় বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে থাকা শ্যামসায়রে দিলেন ঝাঁপ। স্ত্রী না থাকলে তিনিও থাকবেন না। এরপরই শুরু হল সেই নজরকাড়া বিষয়।  ভোর প্রায় ৩টে থেকে  সকাল প্রায় ৯টা পর্যন্ত শ্যামসায়রের একগলা জলে ঠাইপাট দাঁড়িয়ে থাকলেন। এদিকে হাসপাতালের সামনে তথা শ্যামসায়রের ধার বরাবর বিভিন্ন দোকান খুলতে এসে ব্যবসায়ীরা আচমকাই শ্যামসায়রের এই দৃশ্য দেখে হতবাক। খবর গেল দমকলে। খবর গেল থানাতেও।

snake-1

এরপর পুলিশ আর দমকলের লোকজন এসে অমিত রায়কে উদ্ধার করে ভর্তি করেন হাসপাতালে। সেখানে প্রাথমিক চিকিত্সার পর ছেড়ে দেওয়া হয় অমিতকে। আর শুধু তাইই নয়, তার ছাড়া পাবার সঙ্গে সঙ্গেই গোকুল রায়কেও একেবারে সুস্থ অবস্থায় ছেড়ে দিলেন হাসপাতালের চিকিত্সকেরা। স্বামীর এই পাগলামোর ঘটনায় রীতিমত লজ্জিত গোকুল কটমটে প্রেমের দৃষ্টিতে তাকালেন বোকা স্বামীটার দিকে। এরপর টোটোয় চেপে বাড়ি। আর স্বামী-স্ত্রীর এই ভালোবাসার টান দেখে অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে রইলেন এলাকার মানুষ।

Leave a Reply