ফোন করে বিধবা মহিলাকে ডেকে নিয়ে গিয়ে  কুপিয়ে খুনের অভিযোগে চাঞ্চল্য ভাতারে

আমার বাংলা ডেক্স ঃ কালীপুজোর রাতে পাড়ার সর্বজনীন মন্ডপ থেকে মোবাইলে বাড়িতে ডেকে শারীরিক নির্যাতন করে  নৃশংস ভাবে হত্যা করা হলো এক বিধবা মহিলাকে । মৃতের নাম ঝুমা খাঁ (৩০)। বাড়ি ভাতার থানার মাদারডিহি গ্রামে। গতকাল মধ্যরাতে এই  ঘটনা ঘটে । ভোর রাতে তার নিজের ঘর থেকে ক্ষতবিক্ষত রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধার করলো ভাতার থানার পুলিশ। তার ডান হাতের একটা আঙুল কেটে নেওয়া হয়েছে। গলার নলি কাঁটা হয়ে। শরীর জুড়ে রয়েছে ধারালো অস্ত্রের আঘাত। তাকে ধর্ষণ করেই খুন করা হয়েছে বলে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা।এই ঘটনায় গ্রামে ব্যাপক উত্তেজনা রয়েছে। গ্রামে পুলিশ কুকুর এনে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। ঘটনার তদন্তে একজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান অবৈধ প্রণয়ের জেরেই এই খুন । মৃতার শ্বশুর ধনহরি খাঁ এনিয়ে পাড়ারই এক যুবক সঞ্জয় খায়ের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ দায়ের করেছেন । মৃতার পরিবারের সন্দেহ ধর্ষন করে খুন করা হয়েছে তাকে । পুলিশ  সূত্রে  জানা গেছে , অভিযুক্ত সঞ্জয় খাঁকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে ।

স্থানীয় সূত্রে  জানা গেছে , মন্দারবাটি গ্রামের বাসিন্দা পেশায়  জনমজুর ধনহরি খাঁর তিন ছেলে । একই বাড়িতে পৃথক সংসারে থাকেন তাঁরা । ধনহরির ছোট ছেলে প্রায় ২ বছর আগে একটি দুর্ঘটনায় মারা যান । তারই স্ত্রী ঝুমারানি । শ্বশুর ও শ্বাশুরির সঙ্গে তিনি থাকতেন । তার দুই ছেলে মেয়ে । মেয়ে মৌ এরুয়ার গার্লস হাইস্কুলের নবম শ্রেণীর ছাত্রী । ছেলে সুর্য গ্রামের স্কুলের পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র । ঝুমারানি বর্ধমানে একটি বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করতেন । প্রায় ২ সপ্তাহ অন্তর বাড়িতে আসতেন । ।

মৃত মহিলার দেওর পলাশ খাঁ পুলিশকে জানিয়েছেন বছর তিনেক আগে দাদার মৃত্যু হয়। তাদের একটা চৌদ্দ বছরের কন্যা ও নয় ও দশ বছরের দুটো পুত্র সন্তান রয়েছে। গতকাল রাতে বৌদি ছেলে মেয়েদের নিয়ে পাড়ার মন্ডপে পুজো দেখছিলেন। হঠাত তার মোবাইলে একটা ফোন আসে। তিনি মোবাইলে কথা বলতে বলতে বাড়ির দিকে রওয়ানা হন। তারপর মন্ডপে ফিরতে দেরি দেখে ছেলে মায়ের খোঁজে বাড়িতে গিয়ে দেখে রক্তাক্ত মৃত অবস্থায় তার মা পড়ে আছে।

ঝুমারানির শ্বশুর ধনহরিবাবু জানান , তাদের ১৪ টি পরিবার মিলে একটি পারিবারিক কালীপুজো হয় । বাড়ির কাছেই কালী মন্দির । শনিবার রাত্রে পুজো হচ্ছিল । বেশ কিছুক্ষন পুজো দেখে ঝুমারানি তার ছোট ছেলে সুর্যকে নিয়ে বাড়ি চলে আসে । মা ও ছেলে একটি ঘরে শুয়ে পড়ে । ঘরের দরজা খোলাই ছিল । পুজো শেষে গভীর রাতে  ধনহরিবাবুরা বাড়ি ফিরে দেখেন ঝুমারানির রক্তাক্ত দেহ পড়ে রয়েছে । গলায় হাতে ও কব্জি মিলে ৮-১০ জায়গার কোপানোর দাগ রয়েছে । ডান হাতের একটি আঙ্গুল বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে । এরপর পুলিশকে খবর দেওয়া হয় । রাত্রি ১১ তা নাগাদ পুলিস দেহটিকে উদ্ধার করে ।

নিহত মহিলার মেয়ে ও বোন রুমা মাঝির দাবি , ওই পাড়ারই সঞ্জয় খাঁ নামের এক যুবক প্রায়ই ঝুমারানিকে কু প্রস্তাব দিত । বিয়েরও প্রস্তাব দিয়েছিল । কিন্তু সেই প্রস্তাব প্রত্যাক্ষান করে ঝুমারানি । এই কারনেই সঞ্জয় তাকে খুন করে ।

নিহত মহিলার বাপের বাড়ি মঙ্গলকোটের চান্দরা গ্রামে । তার বাবা অনিল ধাড়া ও মা সোনা ধাড়ার অভিযোগ , তাদের মেয়েকে ধর্ষন করেই খুন করা হয়েছে । বর্ধমানের সি আই অমিতাভ সেন বলেন , ‘ রিপোর্ট ছাড়া সহবাস বা ধর্ষনের বিষয়ে কিছু বলা সম্ভব নয় ।’  পুলিশ কুকুর এনে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

 

Leave a Reply