বইতে পড়েছিল খোলা জায়গায় মলত্যাগ ক্ষতিকর, সেখান থেকে উৎসাহিত হতেই জুটলো তিন পড়ুয়ার পুরস্কার

দীপিকা সরকার, দুর্গাপুর      

বেশ কয়েক মাস ধরেই চলছে প্রশাসনিক নজরদারি খোলা মাঠে শৌচকর্ম করলেই পড়তে হচ্ছিল প্রশাসনের খপ্পরে। কিন্তু প্রশাসনের লোকজন ফিরে যেতেই আড়ালে আবদালে যে গ্রামবাসীরা মাঠে যেতেন না তা নয়। কিন্তু কারা লুকিয়ে চুড়িয়ে মাঠে যাচ্ছিল সেটা কিন্তু প্রশাসনের কানে পৌঁছে যেতো। সৌজন্যে তিন খুদে পড়ুয়া। শুধু তাই নয় কোনো জায়গায় প্রশাসনের কর্তাব্যাক্তিরা অভিযান চালাতে ভুলে গেলেই ওই তিন খুদে পড়ুয়া প্রশ্ন বানে জর্জরিত করে ছাড়তো তাদের।

পরে তাদের সাহসী নজরদারি নির্মল বাংলা মিশনে আগিয়ে নিয়ে যেত সাহায্য করেছিল প্রশাসনকে। আর তাদের সচেতন কাজের জন্য বর্ধমানের মানকর গ্রামের তিন ক্ষুদে পড়ুয়াকে নির্মল নজরদারির পুরস্কৃত করল জেলা প্রশাসন। পুরস্কার পেয়ে আনন্দিত মানকরের ওই তিন পড়ুয়া।

গলসী-১ নং ব্লকের মানকর গ্রামে। ওই গ্রামেরই স্থানীয় একটি স্কুলের ছাত্র আসর বাউরি, অর্জুন বাউরি ও অঞ্জন বাউরি।  প্রথম প্রথম যখন প্রশাসন নজরদারি চালাতে যেত তারা ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে দেখতো। কিন্তু তারা তিন জনে মিলে ঠিক করে তারাও নজরদারি চালাবে গ্রামে গ্রামে। যেই ভাবা সেই কাজ।  শৌচাগার থাকা সত্ত্বেও কেউ খোলা মাঠে মলত্যাগ করলে সেই খবর পৌঁছে দিত স্থানিয় বিডিও অফিসে।  মাঝে যদি কোনোদিন নির্মল বাংলা মিশন অভিযানে প্রশাসনিক কর্তারা অভিযানে না যেতেন তারা সরাসরি প্রশ্ন করতে ছাড়তো না । তাও আবার খোদ বিডিও অফিসে গিয়ে। তবে তাদের প্রশ্নে যথেষ্ট গুরত্ব দিতেন গলসী-১ বিডিও তারকনাথ দাস। যদিও গোড়া থেকে নির্মল বাংলা মিশন প্রকল্পের কাজে পিছিয়ে ছিল গলসী-১ নং ব্লক। প্রশ্ন উঠেছিল খোলা মাঠে মলত্যাগের নজরদারি নিয়ে।  তবে শেষ মুহুর্তে  নির্মল শিরোপা পেল গলসী-১ নং ব্লক। সোমবার গলসী-১ নং ব্লক নির্মল ব্লক ঘোষনার অনুষ্ঠান ছিল। ওই অনুষ্ঠানে আসর, অঞ্জন ও অর্জুন কে নির্মল নজরদারির পুরস্কার দিল বর্ধমান জেলা প্রশাসন। এদিন অনুষ্ঠানে তাদের হাতে ট্রফি ও ফুটবল তুলে দেন জেলাশাসক সৌমিত্র মোহন ও সভাধিপতি দেবু টুডু। আর তা পেয়ে আনন্দিত আসর, অর্জুন ও অঞ্জনরা। অনুষ্ঠান শেষে ওই তিন পড়ুয়া জানায়,” বইতে পড়েছি যত্রতত্র মলত্যাগ স্বাস্থের পক্ষে ক্ষতিকর। তাই সরকার থেকে শৌচাগার দিচ্ছে, তারপরও মাঠে মলত্যাগ করা দেখে ক্ষুব্ধ হতাম। যখন স্যার’দের গ্রামে যেতে দেখলাম একটু সাহস পেলাম। গলসী-১ নং বিডিও তারকনাথ দাস জানান,” ওই তিন পড়ুয়ার আমার অফিসে ঢুকতে কোন জড়তা ছিল না। অফিসে ঢুকেই সমস্ত নজরদারির খবর দিত। তাদের এই কাজ নজরদারিতে সাহায্য করছে। তাই তাদের পুরস্কৃত করা হয়েছে উৎসাহিত করার জন্য।

Leave a Reply