বর্ধমানেও হদিস মিললো শিশু পাচার চক্রের

এবি ওয়েব ডেক্স :  কন্যার জন্ম হয়েছে রবিবার ভোর পাঁচটা নাগাদ বর্ধমানের একটা বেসরকারি নার্সিংহোমে। আর দুপুর দুটোর মধ্যেই সেই বাচ্ছা পাচার হয়ে গেল নার্সিংহোম থেকে। পরে সন্ধের দিকে হাত ঘুরে সেই বাচ্ছা পৌঁছে যায় ক্রেতার বাড়িতে। এদিকে যে নিঃসন্তান দম্পতি ওই কন্যা সন্তানকে নিয়ে যায় তার বাড়ি থেকে শিশুর কান্নার আওয়াজ আসতেই সন্দেহ হয় বাসিন্দাদের। তারা ওই বাড়িতে গিয়ে জানতে পারে স্থানীয় এক মহিলার কাছ থেকে দশ হাজার বিনিময়ে তারা কন্যা সন্তানটিকে কিনেছেন। এই খবর জানাজানি হতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে বর্ধমানের বাহিরসর্বমঙ্গলা পাড়া এলাকায় বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকেন রোশনারা খাতুন। বিভিন্ন নার্সিংহোমের সাথে যোগাযোগ রেখে সেখান থেকে শিশু চুরি করে নিঃসন্তান দম্পতিদের কাছে মোটা টাকার বিনিময়ে বিক্রির কাজে সে যুক্ত। এদিকে খবর জানাজানি হতেই স্থানীয়রা রোশনারাকে বাড়ি থেকে বের করে এনে মারধর করতে থাকে। পরে তাকে বর্ধমান থানার পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। যদিও শিশু পাচারের কথা অস্বীকার করেছেন রোশনারা।  তিনি দাবি করেছেন আর এক আত্মীয়র কন্যা সন্তান রবিবার সকালেই ভূমিষ্ঠ হয়। কিন্তু তারা গরীব হওয়ায় বাচ্ছাটিকে নিতে চায়নি। এদিকে বর্ধমান শহরের লাইফ  নার্সিংহোমে কর্মীদের সাথে যোগাযোগ করে দশ হাজার টাকার বিনিময়ে শিশুটিকে বিক্রি করে দেয়। এদিকে যে নিঃসন্তান দম্পতি এই শিশু কন্যাটিকে কিনেছেন সেই খোকন শেখ বলেন তারা নিঃসন্তান দম্পতি। তার স্ত্রীকে দিন কয়েক আগে রোশনারা জানায় কম টাকায় বাচ্ছা পাওয়া যায়। সে ইচ্ছা করলে নিতে পারে। শুধু নার্সিংহোমের খরচ টুকু দিতে হবে। খোকন তার স্ত্রীর প্রস্তাবে রাজি হয়নি বলে দাবি করে। রবিবার সন্ধের দিকে যখন সে বাড়ি ছিল না সেই সময়  রোশনারা তার স্ত্রীকে শিশুটিকে দিয়ে যায়। এদিকে খোকনের বাড়ি থেকে শিশুর কান্নার আওয়াজ শুনে সন্দেহ হয় প্রতিবেশীদের। তারা ওই বাড়িতে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই আসল ঘটনা সামনে আসে।  এদিকে ঘটনার পরেই বর্ধমান থানার পুলিশ গিয়ে ওই নার্সিংহোম সিল করে দেয়।

 

পড়ুন শিশু পাচার নিয়ে ‘আমার বাংলা’র বিশেষ প্রতিবেদন আয়ার কাজ করা রোশনারা রাতে ঘুরে বেড়াতো কালো কাঁচের গাড়িতে

Leave a Reply