বর্ধমান মেডিকেলে শিশু বদলের ঘটনার অভিযোগে চাঞ্চল্য

ফের বাচ্ছা বদলের অভিযোগ উঠলো বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। বাচ্ছা বদল বলতে এবার কন্যা সন্তানের বদলে পুত্র সন্তান নয়। একেবারে সদ্যোজাত দু কেজি পচিশ গ্রাম ওজনের কন্যা সন্তানের বদলে মাত্র  সাড়ে সাতশো গ্রাম ওজনের কন্যা সন্তান দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ এই মারাত্মক অভিযোগকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল জুড়ে আলোড়ন দেখা দিয়েছে। শিশু কন্যা পরিবারের তরফে অভিযোগ জানানো হয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। এই অভিযোগের পাশাপাশি কম ওজনের বাচ্ছা না নেওয়ায় তার পরিবারকে এস এন সি ইউ-র কর্তব্যরত ডাক্তারেরা চোখ রাঙানোরও অভিযোগ তুলেছেন।

মেমারি থানার তকিপুর গ্রামের আকাশি বেগম গত ১৯ সেপ্টেম্বর তারিখ প্রসব বেদনা নিয়ে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভরতি হন। ৩ তারিখ তিনি একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। জন্মের সময় সদ্যোজাতের ওজন ছিল দুই কেজি পচিশ গ্রাম। ২১ তারিখ বাচ্ছা ও তার মেয়েকে ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়। বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পরে বাচ্ছাটি শারীরিকভাবে অবনতি হয়। পরিবারের লোকেরা আতংকিত হয়ে ফের তাকে ২২ তারিখে বর্ধমান মেডিকেল কলেজে ভরতি করেন। তাকে জন্ডিস হয়েছে  হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা নিরীক্ষা করে জানান। তারপর এস এন সি ইউতে তার চিকিৎসা চলে।  গত ২৬ সেপ্টেম্বর সুস্থ হয়ে গেছে বলে বাচ্ছাটিকে ছুটি দিয়ে দেয়।   শিশুটিকে তার মা আকাশি বেগম কোলে নেওয়ার পরেই তার মেয়ের ওজন সম্পর্কে সন্দেহ হয়। তখন তার পরিবারের লোকেরা হাসপাতালে ওজনের কথা জিজ্ঞাসা করলে হাসপাতালে তরফে জানান হয় ওজন সাড়ে সাতশো গ্রাম। তখন তারা বাচ্ছাটিকে নিতে অস্বীকার করে।

আকাশি বেগমের অভিযোগ জন্মের সময় যে বাচ্ছার ওজন ২ কেজি ২৫ গ্রাম দিন পাঁচেকের মধ্যেই তার কি সাড়ে সাতশো গ্রাম ওজন হতে পারে? এতটা ওজন কম কোণভাবেই সম্ভব নয়। তাই এজ বাচ্ছা আমি নেবো না। আমাকে আমার বাচ্ছা ফিরিয়ে দিতে হবে। তার আরো অভিযোগ এস এন সি ইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অন্যান্য শিশুর মায়েদের বুকের দুধ খাওয়ানোর জন্য ভেতরে যেতে বলেলেও এই কদিন আমাকে যেতে দেয়নি। আমাকে বলা হয়ে বাটিতে ধুধ দাও আমরা খাইয়ে দেবো। বারবার কাকুতি মিনতি কলেও একটাবারের জন্য আমার সন্তানকে দেখতে দেওয়া হয়নি। আর অভিযোগ করে বলেন আমি এই অল্প ওজনের বাচ্ছাকে না নিতে চাওয়ায় এখানে কর্তব্যরত ডাক্তারেরা আমাকে চোখ রাঙিয়ে হুমকি দিয়েছেন। তাই আমরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানিয়ে বলেছি আমার কন্যা সন্তানকে  আমার কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে সেজন্য ডি এন ও টেস্টেরও দাবি জানিয়েছেন তিনি।

বাচ্ছা বদলের অভিযোগ প্রসঙ্গে হাসপাতাল    সুপার ডাঃ উৎপল দাঁ বলেন সদ্যোজাতদের ক্ষেত্রে আমরা একই নাম্বারের ডিস ব্যবহার করি। এক্ষেত্রে হাসপাতাল কর্মীদের কোনো গাফিলতি নেই। বাচ্ছার হাতে যে ডিস ছিল সেই নাম্বার ধরেই বাচ্ছাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তা সত্ত্বেও তিনি যখন অভিযোগ করেছেন তখন তার বাচ্ছাকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য তদন্ত করা হবে এবং ডিএন এ টেস্ট করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

Leave a Reply