হাসপাতালের গুমটিতে বসেই শিশু পাচারের জাল বিছাতো রৌসানা,কি বলছেন গুমটি মালিক ক্লিক করে পড়ুন

                                                                     ‘আমার বাংলা’র  বিশেষ প্রতিবেদন

                                                                               আজ দ্বিতীয়  কিস্তি

বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ঢোকার মুখেই একটা ছোট্ট গুমটি জামা কাপড়ের। বাইরে থেকে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে না ভিতরে কে বা কারা বসে আছে। সেই  গুমটিই ছিল শিশু পাচার চক্রের ব্লু প্রিন্ট তৈরির জায়গা। সি আই ডিকে জেরার মুখে এই তথ্য জানিয়েছেন খোদ শিশু পাচারে অভিযুক্ত রৌসানা  বিবি।এমনটাই পুলিশ সূত্রে  জানা গেছে।  ওই গুমটিতে মূলত  সদ্যোজাত শিশুদের জামা কাপড় সহ স্টেশনারি জিনিসপত্র বিক্রি হয়। ওই গুমটিতেই আসতো রৌসানার  অপর সঙ্গী বাসুদেব মন্ডল।  বুধবার দুপুরের দিকে  হাসপাতালের গেটে ওই গুমটিতে গিয়ে দেখা যায় দেবেন সাহা নামে এক ব্যাক্তি জিনিস বিক্রির কাজে ব্যস্ত। দেবেন সাহা জানান দীর্ঘ প্রায় আট দশ বছর ধরে তার সাথে রৌসানার সাথে তার পরিচয়। রৌসানা প্রথমে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আয়ার কাজ করতো। আর অবসরে তার দোকানে এসে তাকে কাজে সাহায্য করতো। পরে সেখানে আসতে শুরু করে বাসুদেব মন্ডল। ঠিক কেমন ছিল বাসুদেবের সাথে তার সম্পর্ক?

দেবেন সাহা হেসে জানান, ঠিক স্বামী স্ত্রীর মতোই।তিনি জানান,  রৌসানা রবিবার সকাল প্রায় সাড়ে সাতটা আটটা নাগাদ একটা সদ্যোজাত শিশুকে নিয়ে হাজির হয় । দেবেন সাহা তাকে জিজ্ঞাসা করে এটা কার শিশু। কোথা থেকে এনেছে। রৌসানা জানায় অবৈধ শিশু।বিক্রি করে দেবে।  সেই সময় তার সাথে ছিলেন বাসুদেব মন্ডলও। শিশুটিকে ফেরৎ দেওয়া নিয়ে তর্ক বিতর্ক বেঁধে যায় দেবেন সাহার সাথে । দেবেন সাহা রৌসানা ও বাসুদেব মন্ডলকে বলে এটা ঠিক হলো না এর ফল তোদের ভোগ করতে হবে। সেদিন রাতেই শুনেছি রৌসানা গ্রেফতার হয়েছে। তবে ইতিমধ্যেই পুলিশ জানতে পেরেছে ওই গুমটিতে বসেই রৌসানা বিভিন্ন নার্সিংহোমের  সাথে যোগাযোগ রেখে শিশু পাচারের কাজ করতো। যদিও দেবেন সাহার দাবি তার গুমটি তে বসে এসব কাজ হতো না। তিনি তাকে এই কাজে কোনোদিন প্রশ্রয় দেননি।তার দাবি ওই দিন আমি বসু ও রৌসানাকে জানাই, এর ফল তোদের ভোগ করতে হবে। আজ কাঁচা টাকার গরমে তোরা ধরাকে সরা জ্ঞান করছিস। এই টাকার গরম তোদের থাকবে না। পাশাপাশি বাসুদেব মন্ডলকেও  সাবধান করে দিই এই অনৈতিক কাজের জন্য।  (চলবে)

Leave a Reply