বাতিল হওয়া নোটেই শ্রমিকদের দেওয়া হচ্ছে বেতন ! মাথায় হাত শ্রমিকদের

মহুয়া ঘোষাল,কাঁকসা

নোট বাতিল হয়ে গিয়েছে একমাস কিন্তু এখনো কাঁকসা ব্লকের বিভিন্ন শিল্পতালুকের  কারখানাগুলিতে চলছে বাতিল নোটে শ্রমিকদের বেতন দেওয়া । বাতিল নোট নিয়ে চরম সমস্যায় শ্রমিকেরা । উভয় সংকটে পড়েছে শ্রমিকেরা।  বিশেষ করে ঠিকা শ্রমিকেরা । অভিযোগ বাতিল নোটে বেতন না নিলে কবে নতুন নোটে বেতন মিলবে তার কোন নিশ্চয়তা নাই আবার বাতিল নোটে বেতন নিলে ব্যাঙ্কের লাইনে দাঁড়িয়ে জমা দেওয়ার সমস্যা । সাথে গোদের উপর বিষফোঁড়া হাতে মিলবে  সামান্য টাকা তাতে সংসার চলবে কি করে তাই নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় শ্রমিকেরা । কারখানাগুলি  ঠিকা শ্রমিকদের বেতন বাতিল নোটে দেওয়ার অভিযোগ তুলছেন বিজেপির রাজ্য কমিটির সদস্য নরেশ কোঙার । রাজ্যের শাসকদলের বহু নেতা স্বিকার করে নিচ্ছেন ঠিকা শ্রমিক এবং বহিরাগত শ্রমিকদের বেতন দিচ্ছে বাতিল নোটের মাধ্যমে ।

কাঁকসা শিল্পতালুকের বামুনাড়া – গোপালপুর শিল্পতালুক পানাগড় শিল্পতালুক বাঁশকোপা শিল্পতালুকের প্রায় সমস্ত কারখানায় ঠিকা শ্রমিকদের বেতন দেওয়া হচ্ছে বাতিল পাঁচশো এবং এক হাজার টাকার নোটে বলে অভিযোগ । গোপালপুর  – বামুনাড়া শিল্পতালুকে এক বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানার নিরাপত্তা কর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন গত মাসের বেতন দিয়েছিল বাতিল নোটে আর এমাসেও বেতন দিয়েছে বাতিল হয়ে যাওয়া এক হাজার টাকার নোটে । এই নিরাপত্তা কর্মীর অভিযোগ ব্যাংকে লাইন দিয়ে জমা দাও আবার সব টাকা সংসার চালানোর জন্য তুলতেও পারবে না , ব্যাংক সাফ জানিয়ে দিচ্ছে তাদের কাছে টাকা নেই তাই যা আছে তাই দেওয়া হবে বলে অভিযোগ এই নিরাপত্তা কর্মীর  ।

গোপালপুর শিল্পতালুকের এক নামী বেসরকারি ইস্পাত কারখানায় বেতন হয়েছে বাতিল এক হাজার টাকার নোটে । ঠিকা শ্রমিকদের অভিযোগ বাতিল নোটে বেতন না নিলে কবে বেতন হবে তার কোন নিশ্চয়তা নাই বলে অভিযোগ এই সব ঠিকা শ্রমিকদের । ঠিকা শ্রমিকেরা জানাচ্ছেন আগামী ২৫ ডিসেম্বরের মধ্যে তাদের আগাম তিন মাসের বেতন দেওয়া হবে বলে জানিয়ে দিয়েছে ঠিকাদার । বাতিল টাকায় বেতন না নিলে বেতন এখন মিলবে না আবার কাজও চলে যেতে পারে বলে অভিযোগ তুলছেন শ্রমিকেরা । পানাগড় শিল্পতালুকের তিনটি কারখানায় ঠিকা শ্রমিকদের বেতন দেওয়া হচ্ছে বাতিল এক হাজার এবং পাঁচশো টাকার নোটে বলে অভিযোগ ঠিকা শ্রমিকদের ।

নৃপেন পাল কাঁকসা শিল্পতালুকের   এক কারখানায় কাজ করেন ঠিকা শ্রমিকের । নৃপেন পাল বলেন তাদের চার মাসের আগাম বেতন দেওয়া হয়েছে বাতিল পাঁচশো এবং হাজার টাকার নোটে । নৃপেন পাল বেতন পেয়েছেন চল্লিশ হাজার টাকা । নৃপেন পাল বলেন তিনি বাতিল নোটে বেতন নিতে না চাইলে তাকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয় বাতিল নোটে বেতন না নিলে সোমবার থেকে কাজে আসার প্রয়োজন নেই বলে জানিয়ে দেয় ঠিকাদার । বাধ্য হয়ে চাকরি বাঁচাতে বাতিল নোটেই বেতন নিচ্ছেন বলে জানান শ্রমিকেরা ।

কালো টাকা এভাবেই সাদা করে নিচ্ছে ঠিকাদার – শিল্পপতিরা বলে অভিযোগ । কাঁকসা ব্লকের বিভিন্ন বেসরকারি কারখানায় তিন ধরণের শ্রমিক রয়েছে । ঠিকাদার অধীনে রয়েছে স্থায়ী এবং অস্থায়ী শ্রমিক । স্থায়ী ঠিকা শ্রমিকদের ৯০ শতাংশ ইউনিয়নভুক্ত । বাকি স্থায়ী ঠিকা শ্রমিক এবং অস্থায়ী ঠিকা শ্রমিকদের চাকরি নির্ভর করছে ঠিকাদারের উপর । এরপর রয়েছে ভিন রাজ্যের শ্রমিক । যাদের সঠিক সংখ্যা শ্রমদপ্তরের কাছেও নেই বলে অভিযোগ । এই ভিন রাজ্যের শ্রমিকদের বেতন দেওয়া হয় নগদে । বাকি শ্রমিক রয়েছে যারা কোম্পানি স্টাফ বলে পরিচিত । এদের বেতন কিছুটা নগদে এবং বাকি  ৭৫ শতাংশ ব্যাংক মারফত হয় ।

বিজেপির রাজ্য কমিটির সদস্য নরেশ কোঙার অভিযোগ করেন কাঁকসা ব্লকের প্রতিটি কারখানায় বেতন দেওয়া হচ্ছে বাতিল পাঁচশো এবং এক হাজার টাকার নোটে । আয়কর দপ্তর ঘুমাচ্ছে যখন শিল্পপতি এবং ঠিকাদারেরা বাতিল নোটে বেতন দিচ্ছেন শ্রমিকদের বলে অভিযোগ সেই বিজেপি নেতার । বিজেপি নেতা নরেশ কোঙার বলেন তিনি আয়কর দপ্তর এবং প্রধানমন্ত্রীকে ফ্যাক্স মারফত জানাবেন  এখানে কিভাবে শ্রমিকদের মাধ্যমে কালো টাকা সাদা করে নিচ্ছে শিল্পপতিরা ।

তৃণমূল দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চল সভাপতি উত্তম মুখোপাধ্যায় এই প্রসঙ্গে বলেন শিল্পপতিরা তো ফকির বাবার [ পড়ুন প্রধানমন্ত্রী ] বন্ধু । প্রধানমন্ত্রী আর বিজেপির পরামর্শেই শিল্পপতিরা এভাবে কালোকে সাদা করছে । তৃণমূল শিল্পাঞ্চল সভাপতি বলেন প্রধানমন্ত্রী ভাল বলতে পারবেন এই বিষয়ে ।

Leave a Reply