মহানায়কের জন্মদিনে উত্তম সুচিত্রার মর্মর মূর্তি স্থাপনের দাবি

বাস ছুটে চলেছে বর্ধমান থেকে কোনোটা নবদ্বীপ, কোনোটা বাঁকুড়া আবার কোনোটা দুর্গাপুরের দিকে। বাসের মধ্যে যাত্রীরা উঠতেই তাদের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে মিষ্টি। বাসের ভিতরে ফুলের মালা দিয়ে সাজানো উত্তম সুচিত্রার ফটো। আর উত্তম কুমার অভিনীত ছায়াছবির গান বেজে চলেছে। এইভাবেই সাধারণ মানুষকে মিষ্টিমুখ করিয়ে গান শুনিয়ে মহানায়ক উত্তম কুমার ৯১ তম জন্মদিন পালিত হলো বর্ধমানে ।

Burdwan Uttam Kumar_photo (3)

পাশাপাশি মহানায়কের পছন্দ মিষ্টি সীতাভোগ ও মিহিদানা নিয়ে টালিগঞ্জের ট্রাম ডিপোয় উত্তম কুমারের স্মরণ অনুষ্ঠানে পৌঁছে গেলেন উত্তম সুচিত্রা ফ্যান অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা। ১৯৯৫ সালের এই ফ্যান ক্লাব স্থাপিত হওয়ার পর থেকেই তারা এই দিনটাকে উতসাহ উদ্দীপনার সাথে পালন করে আসছেন। এদিন বর্ধমান –নবদ্বীপের দুটি বাস বাকুড়া-বর্ধমানের একটি , বেনাচিতি-নবদ্বীপের একটি ও বর্ধমান মালডাঙার একটি বাস নিয়ে মোট মহানায়কের নামে পাঁচটি বাসকে গোলাপ ও রজনীগন্ধার মালা দিয়ে সাজানো হয়েছে। উত্তম কুমারের ছবিতে মালা দিয়ে তাকে স্মরণ করা হয়েছে । এদিন বাসে উঠলেই প্রত্যেক যাত্রীকে মিষ্টি মুখ করানো হচ্ছে। বর্ধমান থেকে সূদূর নবদ্বীপ যাত্রা পথে এই বাসযাত্রীদের মহানায়কের ছায়াছবির গান ও সংলাপ শুনিয়ে অতীত দিনের স্মৃতিকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন ফ্যান  ক্লাবের সদস্যরা।

Burdwan Uttam Kumar_photo (2)

 

শরত কোনার জানান,বর্ধমানের মূল গ্রামের বাসিন্দা  নাট্যকার ভৈরব গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্দেশনায়   ১৯৮৫ সালে উত্তম সুচিত্রা ফ্যান ক্লাব স্থাপিত হওয়ার পর থেকেই আমরা উত্তম ও সুচিত্রা দেবীর জন্ম দিন ও মৃত্যু দিন পালন করে আসছি।উত্তম কুমার বর্ধমানে একটুকরো জমি কিনেছিলেন কলোনী করে থাকবেন বলে। তখন ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়, কমল মিত্র,ও সুচিত্রা সেনরা তার পাশে ছিলেন। তাই আমাদের দাবি চলচিত্রের মাধ্যমে মহানায়ক উত্তম কুমার ও সুচিত্রা দেবীর সমাজকে বহু কিছু দিয়ে গেছে । বর্ধমান নিয়ে তার অনেক আশা আকাঙ্খা ছিল। তাই আমরা দাবি জানাচ্ছি বর্ধমান সদর শহরে তাদের মর্মর মূর্তি গড়ে যেন সম্মান জানানো হয়।

Leave a Reply