মিষ্টি হাবের জমি ছেড়ে দেওয়ায় কাজের প্রতিশ্রুতি দিলেন সভাধিপতি

মিষ্টি হাবের জন্য স্বেচ্ছায় জমি দিতে এগিয়ে আসায় ওই এলাকার মানুষের জন্য এক গুচ্ছ প্রতিশ্রুতি দিলেন সভাধিপতি। বুধবার বাম চাঁদাই পুরে সত্তর মাইল মোড়ে মিষ্টি হাবের জমি দাতা এবং স্থানীয় মানুষের সাথে আলোচনায় বসেন সভাধিপতি দেবু টুডু। এদিন কাজের তদারকি ও অগ্রগতির জন্যই তিনি আদিবাসীদের সাথে বৈঠকও করেন। এই সবের পাশাপাশি ওই জায়গায় জঙ্গল পরিস্কার করার কাজ শুরু হয়ে যায়। প্রায় ঘন্টাখানেক বৈঠক হওয়ার পর সভাধিপতি দেবু টুডু জানান গতকাল মিষ্টিহাবের ভিত পুজোর কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আজ জঙ্গল সাফাই শুরু হয়েছে। সেই কাজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য এদিন এলাকার মানুষের সঙ্গে আমি বসেছি।

4

কি করে কাজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায় তার তদারকি ও অগ্রগতির জন্য এলাকার মানুষ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। আমরা সবাই মিলে এই কাজ করতে চাই। কারণ সরকারি খাস জমি হলেও দীর্ঘদিন ধরে এদের দখলে এই জমি ছিল।  আদিবাসীদের দখলে থাকা এই জমি   নিজের জন্য নয় সরকারের স্বার্থে মানুষের স্বার্থে মিষ্টি হাবের জন্য জমি ছেড়ে দিয়েছেন।  এই জন্য আমি তাদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি। সভাধিপতি এই এলাকার উন্নয়নের জন্য নানা প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরে বলেন  এখানে আদিবাসীদের যে জাহের স্থান ইতিমধ্যেই দেওয়া হয়েছে  সেই স্থানটিকে সুন্দর ভাবে তৈরি করা হবে, পাশে কমিউনিটি সেন্টার করে দেওয়া হবে। ষাট বছরের বেশি বয়সের মানুষদের বার্ধক্যভাতা দেওয়া হবে। এলাকার যুবক যুবতীদের স্বাবলম্বী করার জন্য ঋণের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে। পাশাপাশি এখানকার ছাত্রছাত্রীরা যাতে সরকারি সুযোগ সুবিধা পায় তাদের সেই সুযোগ সুবিধা করে দেওয়া হবে।  এসব দেওয়ার জন্য আমরা একটা তালিকা তৈরি করে দ্রুত গতিতে এগিয়ে যেতে চাই।

2

সভাধিপতি বলেন পিছিয়ে পড়া এই এলাকার সার্বিক উন্নয়নের উপর জোর দেওয়া হবে তার জন্য যা যা করণীয়  এসব নিয়ে আমরা আলোচনা শুরু করেছি। গতকাল জেলাশাসকও বার্ধক্যভাতা দেওয়ার কথা এখানে ঘোষণা করে গেছেন। মুখ্যমন্ত্রীর এই স্বপ্নের প্রকল্পকে  সার্থক করার জন্য মানুষ স্বতস্ফূর্ত ভাবে এগিয়ে আসায় প্রশাসন এখানপকার ছেলে মেয়েদের হাবের কাজের ব্যাপারে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।  স্বভাবতই জেলা প্রশাসনের আশ্বাসে খুশি এলাকার সকলে।

অন্যদিকে ধান জমির চাষিরা এই জমির চাষ শেষ না হওয়া পর্যন্ত যাতে জমি না নেওয়া হয় তার আবেদন রেখেছেন। সভাধিপতি আগের মতোই ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দিয়েছেন। স্থানীয় শ্যামসুন্দর হেমব্রম  জানান সভাধিপতির আশ্বাসে আমরা সবাই খুশি। এলাকার উন্নয়নে জেলা প্রশাসন এগিয়ে এসেছে।  মানুষের পাশে থাকার নানান আশ্বাস তারা দিয়েছেন, আমরা মিষ্টি হাবের সফলতার জন্য সব সময় প্রশাসনের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেছি।

Leave a Reply