মেয়াদ উত্তীর্ণ রক্ত দিয়েই চলছে নার্সিংহোম, হাতেনাতে ধরলেন জেলাশাসক

এবি ওয়েব ডেক্স : শিশু পাচারের হদিস পাওয়ার পরেই নড়েচড়ে বসলো জেলা প্রশাসন ।মঙ্গলবার সকাল থেকে নার্সিং হোম গুলিতে অতর্কিতে হানা দেয় জেলা প্রশাসন। আর অভিযানে গিয়েই চোখ কপালে ওঠে প্রশাসনের। নার্সিংহোমে রোগীদের যে রক্ত দেওয়া হচ্ছে তার মেয়াদ উত্তীর্ণ রক্ত। শুধু তাই নয় সেই রক্তের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে প্রায় বছর খানেক আগে। অথচ সেই ‘এ’ নেগেটিভ রক্ত সযত্নে ফ্রিজে রাখা আছে। সেখান থেকে ২৫ টি মেয়াদ উত্তীর্ণ রক্তের পাউচ উদ্ধার করা হয়।  আর  ওই ফ্রিজেই রয়েছে খাবার দাবার ও জীবনদায়ী ওষুধ। জীবন দায়ী ওষুধগুলিও আবার মেয়াদ উত্তীর্ণ।

8

ওটিতে গিয়ে দেখা যায় সেখানে যে অ্যানাস্টেটিক ইথার (আই পি ) , কম্পাউন্ট বেঞ্জিন, টিংচার রাখা আছে সেগুলিরও মেয়াদ পেরিয়ে গেছে মাস ছয়েক আগে। এর পরেই  নিয়ম বহির্ভূতভাবে নার্সিং হোম পরিচালনার অভিযোগ চারটি নার্সিং হোমকে শো-কজ করা হয়েছে।একটি নার্সিং হোমের ওটি সিল করা হয়েছে।  একটি নার্সিং হোমের বিরুদ্ধে এফ আই আর করা হয়েছে। দুটি নার্সিং হোমকে সিল  করা হয়েছে।এই ঘটনায় তিনজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে প্রশাসন। যেভাবে মেয়াদ উত্তীর্ণ রক্ত ,জীবন দায়ী  ওষুধ পুরিকাঠামো ওটির অব্যবস্থা প্রভৃতি এদিন ধরা পড়েছে তাতে কয়েকটি নার্সিং হোমের লাইসেন্স বাতিল হয়ে যেতে পারে বলে মনে করছে প্রশাসন।

3

রবিবার বর্ধমানের মহাজন টুলির লাইফ নার্সিং হোমের মালিক , আয়া ও একজন শিশু পাচারকারীকে গ্রেফতারের ঘটনায় ব্যাপক আলোড়ন দেখা দেয়।সকাল থেকেই অভিযান শুরু করে জেলা প্রশাসন। জেলা শাসক ডঃ সৌমিত্র মোহন ও মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক প্রণব রায় এদিন প্রথমেই পারবীরহাটার সিমস নার্সিং হোমে হানা দেয়। এখানে চরম অব্যবস্থা তার নজরে পড়ে। ওখান থেকে চলে আসেন নবাবহাটের দিশান নার্সিংহোমে পরিকাঠামোর চূড়ান্ত  গাফিলতি নজরে আসে প্রশাসনের। এখানকার দুটি ওটি মাইনর ও মেজর কার্যত জতুগৃহে পরিণত হয়েছে।  চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ওটির অবস্থা দেখার পরে দুটি ওটিকেই সিল করে দেয় প্রশাসন। তার এই নার্সিং হোম থেকে কয়েক হাত দূরেই নার্সিং হোমে গিয়ে জেলাশাসকের চোখ কপালে উঠে যায়। এখানে  অন্তত ২৫ টি রক্তের ব্যাগ মেয়াদ উত্তীর্ণ অবস্থায় ফ্রিজে রয়েছে।  এই নার্সিং হোম থেকেই কার্যত সিল করে দেওয়া হয়েছে। এখান থেকে রোগীদের সরিয়ে  দেওয়া  হয়েছে বর্ধমান মেডিকেলে । আটক করা হয়েছে ম্যানেজার সোহেল মোল্লাকে। রোগীদের অভিযোগ তারা মূলত বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে দালালের খপ্পরে পড়েই এখানে রোগীদের ভরতি করেছেন। অভিযান শেষে জেলাশাসক সৌমিত্র মোহন বলেন সরকারি গাইড লাইন মেনে যে সব নার্সিং হোম চলবে না তাদের বিরুদ্ধে আমরা কড়া ব্যবস্থা গ্রহণ করতে চলেছি।  গোটা জেলা জুড়ে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

 

Leave a Reply