মোটা টাকা দিলেই চাকরি মিলবে  বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে,অভিযোগ  তৃণমূলের

আমার বাংলা ডেক্স ঃ নজির বিহীন ঘটনা ঘটলো বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে।একদিকে তৃণমূলের দুই কর্মী সংগঠনের তরফে উপাচার্যের বিরুদ্ধে কর্মী নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ তোলা হয়। অন্যদিকে উপাচার্যের সামনেই এদিন তৃণমূল ছাত্র সংঠনের ছেলেদের মারধর করে কর্মী ইউনিয়নের নেতারা। বুধবার দুপুরের দিকে  বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজবাটি ক্যাম্পাসে উপাচার্যের ঘরে এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলের মিটিং চলাকালীন তৃণমূল কর্মচারী ইউনিয়নের দুই গোষ্ঠী ঢুকে পড়ে ডেপুটেশন দেওয়ার জন্য।তারা সরাসরি ইসির মিটিং চলাকালীন প্রশ্ন তোলেন কীভাবে শুধুমাত্র মোটা  টাকার জোরে কর্মী নিয়োগ হচ্ছে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে?  দুই সংগঠনের তরফে নিয়োগে দুর্নীতি সহ একাধিক অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ দেখানোর সময় একদল ছাত্র উপাচার্যের ঘরে ঢুকে পড়লে ছাত্রদের সাথে তৃণমূল কর্মী সংগঠনের মারামারি শুরু হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে বর্ধমান থানার বিশাল  পুলিশ বাহিনী বিশ্ববিদ্যালয়ে যায়। পরে বাতিল হয়ে যায় ইসির মিটিং। এরপর সবাই উপাচার্যের ঘর থেকে বাইরে বেরিয়ে ক্যাম্পাসে গেলে সেখানে তৃণমূল ছাত্র সংগঠনের সাথে ফের কর্মচারী ইউনিয়নের ঝামেলা শুরু হলে পুলিশ লাঠি উঁচিয়ে তেড়ে যায়। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়।

4

বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজবাটি ক্যাম্পাসে আজ বেলা সাড়ে এগারো টা নাগাদ তৃণমূলের কর্মী ইউনিয়নের দুই সংগঠন সারা বাংলা তৃণমূল শিক্ষাবন্ধু সমিতি ও বর্ধমান ইউনিভার্সিটি কর্মচারী সমিতির তরফে ডেপুটেশন দেওয়ার কথা ছিল। এদিকে সাড়ে বারোটা নাগাদ ইসির মিটিং শুরু হলে সেই সময়  তৃণমূলের দুই কর্মচারী ইউনিয়নের কর্মচারী ইউনিয়নের কর্মীরাই উপাচার্যের ঘরে ঢুকে পড়ে উপাচার্যকে ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। দুই সংগঠনের তরফেই দাবি করা হয় নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক দুর্নীতি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বেশ কিছু উপাচার্যের ঘনিষ্ঠ কর্মী তাদের পরিবারের লোকেদের অসৎ উপায়ে চাকরি পাইয়ে দিয়েছেন। অথচ যারা চাকরি পাওয়ার যোগ্য তারা চাকরি পায়নি। এই গন্ডগোল চলাকালীন বেশ কিছু তৃণমূল ছাত্র সংঠনের ছাত্ররা উপাচার্যের ঘরে ঢুকে পড়ে । ওই ছাত্ররা দাবি করে আগে ইসির মিটিং শেষ হবে তারপরে তারা ডেপুটেশন দেবে। এরপরেই দুই সংগঠনের কর্মীরাই ছাত্রদের উপরে ক্ষেপে যায়। তারা ছাত্রদের উপাচার্যের সামনেই মারধর করতে থাকে। মারতে মারতে ছাত্রদের বের করে দেওয়া হয়। পরে বর্ধমান থানার পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়। এদিকে দুই পক্ষ উপাচার্যের ঘর থেকে বেরোতেই ফের ক্যাম্পাসের মধ্যে ছাত্রদের সাথে কর্মী ইউনিয়নের ঝামেলা শুরু হয়। এদিকে ততক্ষণে এস ডিপিএও সৌমিক সেনগুপ্তের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ঢুকে পড়ে। মজুত ছিল কাঁদানে গ্যাসও। ফলে নতুন করে ঝামেলা শুরু হতেই পরিস্থিতি ঘোরালো হয়ে ওঠে ফলে লাঠিচার্জের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। কিন্তু পুলিশ এস ডিপিওর নির্দেশে পুলিশ লাঠিচার্জ না করে তাদের লাঠি উঁচিয়ে সরিয়ে দেয়।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডঃ স্মৃতি কুমার সরকার দুপুর দেড়টা নাগাদ ঘোষণা করেন , যে কোনোন কারণেই হোক ইসি মিটিং করার মতো পরিবেশ ছিল না। পাশাপাশি কর্মচারী ইউনিয়নকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, কিছু ঘটনা ঘটলেও খারাপ কিছু ঘটেনি। এরপরেই উপাচার্য ইসি মিটিং বাতিল করার কথা ঘোষণা করেন।

এদিন সারা বাংলা তৃণমূল শিক্ষাবন্ধু সমিতির সম্পাদক নীলেন্দু কুমার ঘোষ জানান, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মী নিয়োগের নামে যেভাবে দুর্নীতি চলেছে সেটা খুবই লজ্জা জনক ঘটনা। তার প্রতিবাদে আজ তারা উপাচার্যের কাছে ডেপুটেশন দেন কিন্তু উপাচার্য তাদের কোনো কথা বলেননি। বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে এই ধরণের ঘটনার অবিলম্বে তদন্ত হওয়া দরকার।

Leave a Reply