রাজবংশের  অবলুপ্তি ঘটলেও আউশ্রগ্রামের একমাত্র পুজো সেই শিবাক্ষ্যা দেবীর

কালের নিয়মে রাজতন্ত্রের অবলুপ্তি হয়েছে বহু কাল আগেই । রাজপ্রাসাদ মিশে গেছে মাটিতে । রাজকীয় বৈভব নেই বংশধরদের মধ্যে । কিন্তু আউসগ্রামের অমরাগড়ে ভল্লু রাজবংশের  শিবাক্ষ্যা দেবী একই ভাবে পূজিতা হয়ে আসছেন । কষ্টি পাথরের তৈরী শিবাক্ষ্যা দেবীর দশভুজা মূর্তি  । অমরাগড়ের শারদ উৎসবে এক মাত্র পুজোকে ঘিরে মাতেন সমগ্র গ্রামবাসী । গ্রামে দ্বিতীয় কোন দুর্গাপুজো  হয়না ।

স্থানীয় গ্রামবাসীরা জানান , ভল্লুপদ ছিলেন আউসগ্রামের জঙ্গল মহলের রাজা । শিবাক্ষ্যা দেবীর প্রতিষ্ঠাতা হলেন রাজা মহেন্দ্র ।  রাজা ভল্লুপদের প্রপৌত্র ছিলেন তিনি । রাজা ভল্লুপদকে কেন্দ্র করে জড়িয়ে আছে এক জনশ্রুতি । শোনা যায় , সৌরাষ্ট্র বা অধুনা সুরাটের এক রাজা তীর্থ ভ্রমণে বেরিয়েছিলেন । সঙ্গে ছিলেন তাঁর স্ত্রী । কিন্তু তিনি আটকে পড়েন আউসগ্রামের জঙ্গলে । কারন সেই সময় তাঁর স্ত্রীর প্রসব বেদনা ওঠে । জঙ্গলে তাঁবু ফেলে অপেক্ষা করতে থাকেন তিনি । দীর্ঘ সময় পার হবার পর রানী এক পুত্র সন্তানের জন্ম দেন । কিন্তু সদ্যোজাত সন্তানের কোন সাড়াশব্দ না দেখে মৃত ভেবে তাকে জঙ্গলে রেখে চলে যান রাজা ও রানী ।

এই ঘটনার কয়েকদিন পর এক ব্রাহ্মণ  জঙ্গলের পথ দিয়ে যেতে যেতে এক শিশুর কানার শব্দ শুনতে পান । তিনি খোঁজা খুঁজি করে দেখতে পান এক স্ত্রী ভাল্লুক একটি শিশুকে জড়িয়ে ধরে আছে । ব্রাহ্মন এগিয়ে যেতেই ভাল্লুকটি শিশুটিকে নামিয়ে জঙ্গলের মধ্যে চলে যায় । সেই ব্রাহ্মন শিশুটিকে উদ্ধার করে নিয়ে আসেন গ্রামে । ভাল্লুক মাতার কোল থেকে উদ্ধার হয়েছিল বলেই তাঁর নামকরন করা হয় ভল্লুপদ ।

Leave a Reply