রাজ্যে প্রথম ইলিশ মাছ নিয়ে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা হলদিয়া ব্লকে

জাহাঙ্গীর বাদশা, পূর্ব মেদিনীপুর :   রাজ্যে প্রথম এক অভিনব উদ্যোগ-  ইলিশ মাছ নিয়ে  বর্ণাঢ্য সড়ক ও নৌ র‍্যালী সহ আলোচনা সভা । অংশগ্রহনে ছিলেন  সর্বস্তরের মানুষ যেমন- মাছ ধরা জেলে সম্প্রদায়ের সাথে সাধারন গৃহস্থের মানুষজন, স্কুল ছাত্র ছাত্রি, মৎস্যচাষি-বিক্রেতা, সরকারি আধিকারিক ও জনপ্রতিনিধিবৃন্দ ।

মাছ ইলিশ সম্পদ সংরক্ষণে সরকার নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। কিন্তু রাজ্যে এই প্রথম এক অভিনব উদ্যোগ গ্রহন করা হল যে বর্ণাঢ্য সড়ক ও নৌ-র‍্যালী সহ আলোচনা সভা যেখানে প্রায় শ’তিনেক জেলে সম্প্রদায় , সুতাহাটা-১, ২, নয়াচর মীনদ্বীপ মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সদস্য সহ  স্কুলের ছাত্র ছাত্রী, মাছ চাষি- বিক্রেতা সহ সর্ব স্তরের মানুষ অংশগ্রহন করেন।  আজ  শুক্রবার, পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় হলদিয়া ব্লক অফিস থেকে সুতাহাটা ব্লকের হুগলী নদীর পাড়ে  রায়নগরঘাট পর্যন্ত “ বাঁচলে ছোট ইলিশ, মিলবে তবে বড় ইলিশ” এই স্লোগানকে সামনে রেখে ইলিশ রক্ষা ও ইলিশ সংরক্ষণের জন্য সচেতনতা মূলক বর্ণাঢ্য সড়ক ও নৌ-র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।  সড়ক পথে সকাল ৯টার সময় র‍্যালী শুরু হয় হলদিয়া বিডিও অফিস থেকে অংশ গ্রহন করে সর্বস্তরের মানুষ। উপস্থিত ছিলেন  রামকৃষ্ণ সর্দার, সহ মৎস্য অধিকর্তা, সামুদ্রীক, কাঁথি , রাজর্ষী নাথ, সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক, হলদিয়া ব্লক ,  দেবব্রত দাস, মৎস্য কর্মাধক্ষ্য পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদ, দেবপ্রসাদ জানা, কৃষি কর্মাধক্ষ হলদিয়া পঞ্চায়েত সমিতি এছাড়া ছিলেন হলদিয়া- সুতাহাটা দুটি ব্লকের দায়িত্বপ্রাপ্ত মৎস্য সম্প্রসারন আধিকারিক সুমন কুমার সাহু।   কুমারপুর মাধ্যমিক শিক্ষা কেন্দ্রের শিক্ষক শিক্ষিকাগণ স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে পা মেলান এই পদযাত্রায়। স্লোগান ওঠে- “বাঁচলে ছোট ইলিশ মিলবে তবে বড় ইলিশ” ,   “ খোকা ইলিশ রাঁধতে মানা, ইলিশ পুলিশ দেবে হানা” ,  এছাড়া, ছোট ইলিশ বিক্রি মানা, বইতে মানা ইত্যাদী। সড়ক পথে র‍্যালী ব্রজলালচক থেকে চৈতন্যপুর মোড়ে এলে ওখানে গোবিন্দপুর-বাজিৎপুর ফিস প্রোডাকসান গ্রুপের মাছ চাষী সহ এই এলাকার বাজারের মাছ বিক্রেতারাও যোগদান করেন । এর পর বর্ণাঢ্য র‍্যালী সড়ক পথ ধরে কুকড়াহাঁটি দিয়ে এক্কেবারে গঙ্গা নদীর ধারে রায়নগর ঘাটে প্রায় দীর্ঘ ৩০ কিলোমিটার সড়ক পথ ধরে আসে। এসে এই হুগলী নদীর ঘাটে মৎস্যজীবী জেলে সম্প্রদায়ের নৌকায় ব্যানার টাঙিয়ে  নদী পথেও প্রচার কর্মসূচী সম্পন্ন হয়।  এই ঘাটেই অনুষ্ঠিত হয় সাধারন মানুষ ও জেলে সম্প্রদায়ের সাথে এক আলোচনা ও মতবিনিময় সভা। সভায় উপস্থিত ছিলেন জনাব সেখ নূর আলম, সভাপতি সুতাহাটা পঞ্চায়েত সমিতি, শ্যামল মন্ডল, সদস্য, পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদ, ও  শীপ্রা মন্ডল , কর্মাধক্ষ্য সুতাহাটা পঞ্চায়েত সমিতি সহ  রামকৃষ্ণ সর্দার, সহ মৎস্য অধিকর্তা, সামুদ্রীক, কাঁথি, দেবব্রত দাস, মৎস্য কর্মাধক্ষ্য পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদ, এছাড়া ছিলেন হলদিয়া- সুতাহাটা দুটি ব্লকের দায়িত্বপ্রাপ্ত মৎস্য সম্প্রসারন আধিকারিক সুমন কুমার সাহু ।  আলোচিত হয় ২৩ সেন্টিমিটারএর কম ( ৯ ইঞ্চির ছোট ) মাপের ইলিশ পরিবহন, বিক্রি, কেনা বা ধরা নিষেধ ।ইলিশ মাছের প্রাকৃতিক ভান্ডার সংরক্ষনের জন্য কোন ব্যাক্তিগন বা মৎস্যজীবী বা তাদের সহযোগীরা ৯০ মিলিমিটারের কম ফাঁস যুক্ত যেকোন প্রকারের মনোফিলামেন্ট জাল ব্যবহার করে ইলিশ মাছ ধরতে পারবেন না । অন্যান্য মাছের ক্ষেত্রে ৪০ মিলিমিটারের কম।ইলিশ মাছের প্রজনন ও বংশবৃদ্ধি করার জন্য বছরে ১৫ই সেপ্টেম্বর থেকে ২৪ শে অক্টোবর পর্যন্ত তথা পূর্ণিমার ৫ দিন আগে ও ৫ দিন পরেরত সময় কালে ইলিশ মাছ ধরা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করা হয়েছে। সামুদ্রিক জীব বৈচিত্র এবং তাদের বাসস্থান সুরক্ষা ও বংশবৃদ্ধির জন্য সমুদ্র উপকূল থেকে ১২ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত ইলিশ মাছ সম্পূর্ণ রুপে বন্ধ করা দরকার। পশ্চিম বঙ্গ সরকারের ইলিশ সংরক্ষণ ও গবেষনা কেন্দ্র এর এই সব পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা হয়। পরিশেষে সাধারন মৎস্যজীবীদের মধ্যে এক সহজ প্রশ্নোত্তর পর্ব হয় যেখানে সঠিক উত্তর দাতাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। ইংরেজী নাম “হিলশা” বাংলায় ঘরোয়া “ইলিশ” নামেই বিপুল সমাদর ভারতের প্রায় হাজার প্রজাতির মাছের মধ্যে এই একটি মাত্র প্রজাতী পরিযায়ীর পর্যায় পড়ে। ইলিশ ডিম পাড়তে সমুদ্র থেকে নদীতে আশ্রয় নেয়। রন্ধন বৈচিত্রের সম্ভারে বাঙালীর প্রিয় “ইলিশ” মাছ নিয়ে রাজ্য সরকারের মৎস্য দপ্তরের এই নতুন অভিনব প্রচার বর্ণাঢ্য সড়ক ও নৌ-র‍্যালী সহ আলোচনা সভা হলদিয়া সুতাহাটা পঞ্চায়েত সিমিতি এলাকায় এক ব্যাপক সাড়া ফেলে আপামর সমগ্র জনসাধারনের মধ্যে।

Leave a Reply