রাতের অন্ধকারে সাঁকো ভেঙে ভেসে গেল নদীতে, সমস্যায় হাজার দশেক গ্রামবাসী

রাতের অন্ধকারে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়লো বাঁশের সাঁকো। আর সকালে নদীর স্রোতে কচুরিপানার টানে ভেসে গেল সেই সেতু, আর সেতু ভেঙে যাওয়ায় আশেপাশের প্রায় আঠারো থেকে কুড়িটা গ্রামের প্রায় হাজার দশেক  বাসিন্দারা পড়েছেন চরম দুর্ভোগে। প্রায় চল্লিশ ফুট লম্বা এই বাঁশের সাঁকোটি। বর্ধমানের কালনা রোডের উপরে  দানগাছা এলাকায় তিরিশ বছর ধরে পারাপারের একমাত্র ভরসা ছিল এই সাঁকো। সাঁকোটি ভেসে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন তারা। এদিকে সাঁকো ভেঙে যাওয়ার কারণে সাত থেকে আট কিলোমিটার ঘুরে স্কুল ,কলেজ, হাসপাতালে যেতে হচ্ছে তাদের। তাই অবিলম্বে গ্রামবাসীরা বিধায়ক ও জেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষন করতে চেয়েছেন। বর্ধমানের বৈকুন্ঠপুর  ১ নং গ্রাম পঞ্চায়েতের দানগাছা ও বাম চাদাইপুর এলাকার সাথে সংযোগ কারী সেতু হিসেবে যোগাযোগ রক্ষা করছিল সেতুটি। আর গ্রাম গুলি যেহেতু কৃষি প্রধান এলাকা হওয়ায় ফাঁপরে পড়েছেন চাষিরা।বেশির ভাগ চাষির জমি ছিল ব্রিজের ওপারে।ফলে ব্রিজ ভেঙে যাওয়ায় তারা চাষের কাজের জন্য সহজে মাঠে যেতে পারছেন না। সেখানে মাঠে তারা হাঁটা পথে দশ মিনিটেই পৌঁছে যেতেই সেখানে সাইকেলে করে আধঘন্টা সময় লেগে যাচ্ছে। রাজমিস্ত্রি শ্যামাপদ গায়েন বলেন প্রতিবছর তারা নিজেরাই টাকা পয়সা জোগাড় করে ব্রিজ মেরামতের কাজ করতেন। মাস চারেক আগেও তারা মেরামত করেছিলেন। তখন বাঁকা নদীতে জল ছিল না।কিন্তু ইদানীং বৃষ্টির কারণে জল বাড়তে থাকায় বাঁশের খুঁটি আলগা হয়ে যায়।রবিবার সারাদিন ধরে তারা সেই ব্রিজ যাতে ভেঙে না পড়ে সেই চেষ্টা করে মেরামতি চালিয়ে গেছেন। কিন্তু রাতের দিকে সেই ব্রিজ ভেঙে যায়।আর সকালে উঠে দেখি জলের তোড়ে সেই ব্রিজ বাঁকার জলেই ভেসে গেছে। গ্রামবাসী তপন সরকার বলেন আজ ব্রিজ ভেঙে যাওয়ার ফলে তারা চাষ বাস করতে পারছেন না। সবচেয়ে বড়ো সমস্যা দেখা দিয়েছে  পানীয় জলের ক্ষেত্রে ব্রিজের ওপারে ছিল টিউব ওয়েল কল ফলে এখন পানীয় জল কোথা থেকে তারা আনবে সেই নিয়েও দুশ্চিন্তায় তারা।

Leave a Reply