সামান্য মুন্সি থেকে  রাজু ঝাঁ আজ কয়লা মাফিয়া

এবি ওয়েব ডেক্স : বাগুইআটি থেকে সাতজনকে গ্রেপ্তার করল কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)।ধৃতদের মধ্যে রয়েছে কুখ্যাত কয়লা মাফিয়া রাজু ঝা। রয়েছে রানিগঞ্জের BJP নেতা মণীশ শর্মা। বিশেষ সূত্রে জানা গেছে, তাদের কাছে এক কোটি ৩৩ লাখ টাকা ছিল।

সামান্য একটা মুন্সির কাজ দিয়ে জীবন শুরু। পরে কয়লার কারবার থেকে রাতারাতি শিল্পাঞ্চলের কুখ্যাত কয়লা মাফিয়া ওঠে রাজু ঝাঁ। বাম আমলে যখন কয়লার রমরমা কারবার শুরু সেই সময় রানীগঞ্জের সরযূ উপাধ্যায়ের হাত ধরেই কয়লার কারবারে আসে রাজু ঝাঁ। সামান্য মুন্সির কাজ অর্থাৎ পাচার করা কয়লার টাকা আদায়ের দায়িত্ব ছিল রাজুর উপরে। এছাড়া কয়লার অবৈধ কারবার চালানোর জন্য বিভিন্ন থানা রাজনৈতিক দল সহ বিভিন্ন মহলে টাকা পয়সার ভাগ পৌঁছে দেওয়াই ছিল রাজুর কাজ। ফলে রাস্তাঘাটে ট্রাকের পর ট্রাক কয়লা পৌঁছে যেত গন্তব্যস্থলে। কেউ সেই গাড়ি ধরার সাহস পেত না। এইভাবে মুন্সির কাজ করতে করতে সাহসিকতার সাথে নিজেই শুরু করে অবৈধ কয়লার কারবার। ধীরে ধীরে দল বাড়তে থাকে রাজু ঝাঁয়ের। পাশাপাশি আসানসোল শিল্পাঞ্চলে বাম আমলের নেতাদের হাত ধরে রাজু ঝাঁ রাজ্যের মধ্যে একজন নামকরা কয়লা কারবারী হয়ে ওঠেন। পরে বিশেষ সাংকেতিক চিহ্ন যাকে কয়লা  কারবারীদের ভাষায় বলা হয় ‘প্যাড’। সেই প্যাডের ব্যাবহার করে রমরমিয়ে কয়লার কারবার শুরু করে। সেই বিশেষ প্যাড দেখে পুলিশ সহজেই সেই কয়লার গাড়ি ছেড়ে দিত। দিনে দিনে দল বাড়তে । বিভিন্ন ভাবে তার সাথে প্রায় শ-তিনেক ছেলে কয়লার কারবারে যুক্ত হয়। সেখান থেকে রাজু শুরু করে টান্সপোর্টের ব্যবসা। বাম আমলের অবসানের পরে তৃণমূলের সরকার আসার পরেই রানীগঞ্জ সিহারশোল এলাকায় রথের মেলা  থেকে গ্রেফতার হয় রাজু। পরে জামিনও পেয়ে যায়। পরে মাস কয়েক আগে দুর্গাপুরে জালনোট পাচারের কারবারে তাকে গ্রেফতার করা হয়। কাঁকসার খুনের ঘটনাতেও তার নাম জড়ায় । কিন্তু জামিন পাওয়ার পরে এই রাজ্য ছেড়ে অন্য রাজ্যে চলে যাওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছিল। তার আগেই আজ ফের তাকে গ্রেফতার করা হয়। সূত্রের খবর মনীশ শর্মা ও লোকেশ সিং ছিল তার খুবই ঘনিষ্ঠ। ভিন রাজ্যের বাসিন্দা মণীশ ও লোকেশই মূলত তার ব্যবসা দেখাশোনা করতো। যতবারই শিল্পাঞ্চলে রাজুকে গ্রেফাতেরের পরে আদালতে তোলা হতো আদালত চত্বরে  যাতে সাংবাদিকেরা প্রবেশ করতে না পারে সেই জন্য চারিদিকে ঘিরে থাকতো তার শাগরেদরা।

Leave a Reply