স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসক নয় চিকিৎসা করেন গ্রুপ ডি কর্মী

মহুয়া ঘোষাল,গলসি : স্বাস্থ্যকেন্দ্র আছে । চিকিৎসক আছেন দুজন । অবশ্য সরকারি খাতায় এই চিকিৎসকেরা আছেন । এলাকাবাসীদের অভিযোগ চিকিৎসকেরা কখন আসেন এটা গ্রামবাসীরা বুঝতে পারেন না । অসুস্থ বাসিন্দারা চিকিৎসা করাতে এলে চিকিৎসা করান কখনো নার্সের কাছে কখনো বা গ্রু ডি কর্মীর কাছে । সদ্য এক জন রোগী দেখে গ্রুপ ডি কর্মী স্বীকার করেন তিনি তার নিজের কাজ ছাড়া আরও অনেক কিছুই করেন এমনকি রোগীকে দেখে ওষুধ পর্যন্ত দেন । যদিও গলসি ১নং ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক বলেন দুজন চিকিৎসক বসেন ।

ভরতপুর স্বস্থ্যকেন্দ্র । গলসি ১নং ব্লকের ভরতপুর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের উপর নির্ভরশীল কৃষিজীবী মানুষ । ভরতপুর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের উপর নির্ভরশীল ভরতপুর শালডাঙ্গা শাকুড়ি নস্করবাঁধ রনডিহা চাকতেঁতুল ঘুটিংডাঙ্গা জামতলা  চাঁদপুর গোমহল বনগাঁ কৃষ্ণরামপুর সহ চল্লিশটি [ ৪০] গ্রামের কৃষিজীবী বাসিন্দারা ।ভরতপুর স্বাস্থ্যকেন্দ্র যেন মসকরা আর ঠাট্টাইয়ার্কি করে সময় কাটানোর ভারি মনোরম স্থান নার্স এবং গ্রুপ ডি কর্মীদের কাছে বলে অভিযোগ গ্রামবাসীদের । গ্রামবাসীদের অভিযোগ চিকিৎসকেরা আসেন না । নার্স আর গ্রুপ ডি কর্মীরাই রোগী এলে চিকিৎসা করেন ।

ভরতপুর গ্রামের বাসিন্দা আনন্দ মেটে অভিযোগ করেন চিকিৎসকেরা আসেন না কিন্তু কাগজে কলমে আছেন দুই জন চিকিৎসক । এলাকার বাসিন্দারা সি এম ও এইচ কে অভিযোগ জানিয়েছিলেন চিকিৎসকেরা আসেন না এবং স্থায়ী চিকিৎসক দেওয়ার জন্য । আনন্দ মেটের দাবী স্বাস্থ্য আধিকারিক বলেছিলেন চিকিৎসক দিন বসিয়ে দেব । এলাকাবাসিরা প্রশ্ন তুলেছেন তাদের কাজ কি চিকিৎসক খুঁজে বার করে দেওয়া তারপর কি তারা চিকিৎসা পরিষেবা পাবেন । গ্রামবাসিরা বলেন এই কাজ তো স্বাস্থ্য দফতরের ।

গ্রু ডি কর্মী আনন্দ ঘোষ তখন এক রোগীকে ওষুধ দিচ্ছিলেন এবং পরামর্শ দিচ্ছিলেন কিভাবে তিনি ওষুধ খাবেন । পাসে থাকা নার্স বুঝতে পারেন সাংবাদিক এসে গেছেন । তিনি উঠে যান । বারবার তাকে প্রশ্ন করা হয় চিকিৎসকেরা কখন আসেন কিন্তু নার্স উত্তর দেন নি কিছুতেই ।

চার–পাঁচ মাস থেকেই এমন ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির মধ্যে চলছে ভরতপুর স্বাস্থ্য কেন্দ্র বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের । একজন হোমিয়প্যাথি চিকিৎসক ছিলেন । অশোক বোস প্রতিদিন আসতেন এবং যত্ন নিয়ে চিকিৎসা করতেন বলে জানিয়েছেন বাসিন্দারা । তিনি বদলি হয়ে যেতেই চিকিৎসা এখন গ্রুপ ডি কর্মীর হাতে ।

খাতায় কলমে চিকিৎসক আছেন ভরতপুর স্বাস্থ্য কেন্দ্রে । পুরশা ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক মহাদেব পাল জানান মানকর থেকে একজন হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক শুসান্ত রায় আসেন সপ্তাহে দুদিন । পুরশা ব্লক স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে চিকিৎসক সোমা রায় যান । তিনি নাকি সপ্তাহে চার – পাঁচ দিন উপস্থিত থাকেন বলে দাবী বল্ক স্বাস্থ্য আধিকারিকের ।

গলসি ব্লক বিজেপি সভাপতি গৌতম চক্রবর্তী বলেন চিকিৎসকেরা আসেন নিজের মর্জি মতো মাসে এক দু দিন । সপ্তাহে একদিনও দেখা যায় না চিকিৎসকদের বলে অভিযোগ এই বিজেপি নেতার ।

চিকিৎসকেরা কেন আসেন না প্রশ্নে গলসি ১নং ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক মহাদেব পাল অভিযোগ অস্বিকার করে বলেন চিকিৎসকেরা নিয়মিত বসেন এলাকাবাসীরা মিথ্যা অভিযোগ করছেন । তবে তিনি বলেন সোমা রায় ট্রেনিং এর জন্য এক সপ্তাহ গিয়েছেন তাই তিনি অনুপস্থিত আছেন ।

 

Leave a Reply