হাসিমুখে আর পোজ দিতে দেখা যাবে না বিশিষ্ট সাংবাদিক ইন্দ্রনীল সরকারকে

আমার বাংলা ওয়েব ডেক্স : হাসিমুখে দাঁড়িয়ে আর ছবির পোজ দেবেন না বিশিষ্ট সাংবাদিক  ইন্দ্রনীল সরকার। খবরই ছিল ধ্যান জ্ঞান। আর সেই খবর নিয়ে আলোচনা করতে করতেই  হঠাত থেমে গেল তার কলম!  পড়ে থাকলো তার লেখার প্যাড। শেষ হলো না খবর লেখা। রয়ে গেল অসমাপ্ত! আর  কোনোদিন তাকে কলম ধতে কেউ দেখতে পাবেন না। বৃহস্পতি বার সন্ধের দিকে খবর নিয়ে আলোচনা করতে করতেই  হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বিদায় নিলেন তিনি। রেখে গেলেন তার বৃদ্ধা অসুস্থ মাকে।

দি টেলিগ্রাফ পত্রিকার বিশিষ্ট সাংবাদিক   ইন্দ্রনীল সরকার। হুগলীর বৈঁচি গ্রামের বাসিন্দা হলেও আদপে ছিলেন বর্ধমানেরই মানুশ। মুখে সাদা ফ্রেঞ্চকাট  দাড়ি। সকাল বেলা ট্রেনে করে বর্ধমানে এসে সারাদিন খবরের মধ্যে থাকা।রাতে ফের ট্রেন ধরে বাড়ি ফেরা।  ছোটো থেকে বড়ো সকলের কাছেই ‘ইন্দ্র দা ’ বলেই ছিলেন পরিচিত। কিছু জিজ্ঞাসা করলে উত্তর হিসেবে মিলতো প্রথমে একগাল হাসি। তারপরেই তাকে বুঝিয়ে দিত খবরটা ঠিক কি ধরনের হওয়া উচিত।  বৃহস্পতিবারটাও কিন্তু শুরু হয়েছিল সেইভাবেই।দুপুর নাগাদ বর্ধমানের জেলাশাসকের অফিসের অদূরেই ‘কাকার’  চায়ের দোকানে অভ্যাসমতো ব্যাগ রেখে চলে যায়। বিকেলের দিকে শহরের  তৃণমূলের বিক্ষোভ মিছিলে খবর কভার করার পরে ফের চায়ের দোকানে আসেন।তখন চায়ের দোকান বন্ধের মুখে। ইন্দ্রনীল বাবু চায়ের অর্ডার দেন।  চায়ের দোকানে এক ভাড় চা খাওয়ার পরে হঠাত বলে বসেন আজ আর চায়ের দাম বাকি রাখবো না। চা খাওয়ার পরে কার্জনগেটে বন্ধুদের সাথে খবর নিয়ে আলোচনা করার সময় হঠাত বুকে ব্যাথা অনুভব করেন। তড়িঘড়ি তাকে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিসকেরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করে। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫১ বছর। রাতেই তার মরদেহ আনা হয় কার্জনগেট চত্বরে। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের সাংবাদিক, আইনজীবী , বর্ধমান জেলা পুলিশ সহ রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মীরা তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান। খবর পেয়ে রাতেই ছুটে আসেন বর্ধমান জেলা পুলিশ সুপার কুনাল আগরওয়াল। বর্ধমানের জেলাশাসক ডঃ সৌমিত্র মোহন তার অকাল প্রয়ানে শোক প্রকাশ করেছেন। রাত ঠিক কাঁটায় কাঁটায় পৌনে এগারোটা। সকলের প্রিয় ইন্দ্রদাকে শেষ বারের মতো চোখের দেখা দেখলো সাংবাদিক বন্ধুরা।

Leave a Reply