অতিরিক্ত পণের দাবিতে এক গৃহবধূকে মিটিয়ে মেরে ফেলে ঘরের সিলিং য়ে ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠলো তার শ্বশুর বাড়ির বিরুদ্ধে। এদিকে মেয়ের বাপের বাড়ির লোকেরা অজ্ঞতার কারণে সেই মৃতদেহ ময়নাতদন্ত না করেই কবর দিয়ে দেয়। পরে আজ পুলিশে অভিযোগ জানালে পুলিশ কবর থেকে মৃতদেহ তুলে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।

মৃতের পরিবারের অভিযোগ শিল্পা মন্ডল (১৮) নামে এক কিশোরীর বছর দেড়েক আগে বিয়ে হয় বর্ধমান থানার বাঘাড় পঞ্চায়েতের আলমপুর। তার পাশের গ্রাম মিলিক পাড়ায় তার বাপের বাড়ি। তার স্বামীর  মনিরুল হক পেশায় রাজমিস্ত্রীর কাজ করতেন। বিয়ের সময় বর পক্ষের দাবিমতো তারা নগদ ৩৫ হাজার টাকা, ছয় ভরি সোনার গহনা, বাইক, সহ যাবতীয় আসবাব পত্র দেয় শ্বশুর বাড়ির লোকেরা। কিন্তু তারা নগদ আরো ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। কিন্তু তাদের  আর্থিক অবস্থা ভালো না থাকায় তারা সেই টাকা দিতে পারেননি।

মেয়ের বাবা লালন সেখ বলেন গত সোমবার তারা মেয়ের বাড়িতে গিয়ে দেখে মেয়ে ফাঁসে ঝুলছে। শ্বশুর বাড়ির লোকেদের কাউকে দেখা যায়নি। দিন কয়েক ধরেই শ্বশুর বাড়ির লোকেরা আদের ফোনে হুমকি দিত চাহিদা মতো টাকা না দিলে মেয়েকে প্রাণে মেরে ফেলবে। এদিকে অজ্ঞতার কারণে তারা মেয়ের দেহ নিয়ে গিয়ে কবর দিয়ে দেয়। কবর দেওয়ার আগে মৃতদেহ স্নান করানোর সময় আরা লক্ষ্য করেন মেয়ের সারা দেহে অজস্র মারধরের দাগ।সেই থেকে তাদের সন্দেহ বেড়ে যায়।তারা বুঝতে পারেন মেয়েকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে তার শ্বশুর বাড়ির লোকজন। ফলে কবর দেওয়ার পরে আজ গ্রামের লোকেদের কথা মতো তারা থানায় খুনের অভিযোগ করতে আসে শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে।

মেয়ের দিদি রূপা কাঁদতে কাঁদতে জানায় তার বোনকে তার স্বামী , শাশুড়ি ও বৌদি  খুব মারধর করতো। রবিবার রাতে আদের ফোন করে হুমকি দেয় শিল্পাকে তারা মেরে ফেলবে। কিন্তু তাকে যে সত্যিই পিটিয়ে মেরে ফেলবে তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন সেটা ভাবতেই শিউরে উঠছেন তারা।

বর্ধমান থানার পুলিশ দেহ তুলে ময়না তদন্তের জন্য পাঠায়।

Leave a Reply