ডাইনি সন্দেহে ঘরছাড়া মহিলার কাছে ঘটনার কথা শুনে চমকে উঠলো মহিলা কমিশন

আমার বাংলা ডেক্স : ডাইনি সন্দেহে ঘরছাড়া ছিলেন মহিলা। দিনের পর দিন স্থানীয় ক্লাব ও মাতব্বরদের অত্যাচারে তাকে পালিয়ে বেড়াতে হয়েছিল। এমনকি মারধরের পরে বাড়ির গোরু বিক্রি করে ওই মহিলাকে ওঝার দাবি মতো দশ হাজার টাকা মেটাতে বাধ্য করা হয়েছিল। আজ মঙ্গলবার  বর্ধমানের হাটশিমুল গ্রামে ডাইনি অপবাদে ঘর ছাড়া মহিলাকে  বাড়িতে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য বর্ধমানে এলেন  মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন সুনন্দা মুখার্জির নেতৃত্বে এক প্রতিনিধদল। ।পুলিশ-প্রশাসনের সহযোগিতায় ওই মহিলাকে  ঘরে ফেরানোর ব্যবস্থা করেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে বর্ধমানের হাটশিমূল গ্রামে কয়েক মাসের মধ্যে জলে ডুবে বেশ কয়েক জন মারা যায়। এরপর স্থানীয়রা মাতব্বর ডেকে স্থানীয় একটা ক্লাবে সালিশি সভা ডাকে।সেই সালিশি সভায় ওই মহিলাকে ডাইনি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এরপরে ওই ক্লাবে মহিলাকে ধরে নিয়ে গিয়ে সেখানে তাকে দশ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।পাশাপাশি ঠিক হয় ওঝা এনে ওই মহিলার বাড়িতে ঝাড়ফুঁক করা হবে। সব খরচই বহন করতে হবে ওই মহিলাকেই। টাকা দিতে অস্বীকার করায় তাকে ক্লাবের মধ্যে মাটিতে ফেলে ফুটবলে শট মারার মতো করে লাথি, চড়, ঘুষি মারা হয়। একপ্রকার তাকে টাকা দিতে বাধ্য করা হয়।দিতে হয় পুজোর যাবতীয় খরচা খরচও।এরপরে তাকে ফের ডাইনি হিসেবে চিহ্নিত করে ফের মারধর করা হয়।ফলে  কিছুদিন ধরেই গ্রামছাড়া ওই মহিলা। মহিলার অভিযোগ তাকে প্রথমে স্থানীয় একটা ক্লাবে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে ডাইনি হিসেবে চিহ্নিত করে বেধড়ক মারধর করা হয়। এছাড়া ওঝার খরচ বাবদ ১০ হাজার টাকা  দাবি করা হয়। তার চিকিৎসা বাবদ গোরু বিক্রি করা টাকা থেকে সেই টাকা মেটানো হয়।শুধু তাই নয় ঝাড়ফুঁকের নামে তার মুখের সামনে আগুনের মশাল দিয়ে অত্যাচার করা হয়।

Leave a Reply