মেয়ে যাবে শ্বশুরবাড়ি, বিয়ের কার্ডে ‘বেটি বাঁচাও’ এর বার্তা দিলেন বাবা

এবি ওয়েব ডেক্স, অন্ডাল :  ডিসেম্বরে মেয়ের বিয়ে , মেয়ে চলে যাবে শ্বশুরবাড়ি। আর এইভাবে যাতে প্রতিটি বাড়ির মেয়েরাই বড়ো হয়ে সুখে শান্তিতে থাকতে পারে  সেইজন্য বিয়ের কার্ডেই ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’ এর বার্তা দিলেন মেয়ের বাবা। শুধু বেটি বাঁচাও নয়। মেয়ের বিয়ের কার্ডের মাধ্যমে আরো বেশ কিছু সরকারি প্রকল্পের বার্তাও দেওয়া হয়েছে। মেয়ের বাবা বলছেন সরকারি প্রকল্পের প্রচার করা তার উদ্দেশ্য নয়। কিন্তু সরকার যে সব প্রকল্পের প্রচার করছেন সেগুলি সমাজের জন্য খুবই দরকার বলে তিনি মনে করেছেন। তাই মেয়ের বিয়ের জন্য যে ৫০০ কার্ড তিনি নিমন্ত্রণ পত্র আত্মীয় স্বজনদের পাঠিয়েছেন সেখানে অন্তুত ৫০০ জনকে এই বার্তা দেওয়া সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

andal-marriage-card-massege_photo_pulak_durgapur_21-2-jpeg

 

অন্ডালের উখরার সারদাপল্লি এলাকার বাসিন্দা সীতারাম বার্নোয়াল। পেশায় ব্যবসায়ী। তিনি তার মেয়ে বর্ষার বিয়ের ঠিক করেছেন ধানবাদের সুদামডিহি মেন কলোনী এলাকায়। সীতারামবাবু প্রথম দিকে বিয়ের কার্ডে এইভাবে সরকারি প্রকল্পের প্রচার করবেন কি না তা নিয়ে কিছুটা ধন্দে ছিলেন। পরে বাড়ির লোকজনের সাথে কথা বলেন তিনি। পরিবারের আত্মীয় পরিজনেরা তাকে বিষয়টি নিয়ে উৎসাহ দেন। এরপরেই তিনি মেয়ের বিয়ের কার্ডে ‘বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও’, ‘সেভ ড্রাইভ সেফ লাইফ’, ‘রক্তদান জীবন দান’, ‘স্বচ্ছ ভারত অভিযান’ ‘গাছ লাগাও প্রাণ বাঁচাও’ এর প্রচার করেছেন তিনি। সীতারাম বাবু বলেন সরকার যে সব প্রকল্প নিয়েছে সাধারণ মানুষকে সচেতন করার জন্য সেই সব প্রকল্পের প্রচারের জন্য খরচের সামর্থ্য তার নেই। তাই মেয়ের বিয়ের কার্ডকের তিনি প্রচার মাধ্যম হিসেবে বেছে  নিয়েছেন।  এদিকে এই অভিনব বিয়ের কার্ডটি চোখে দেখার জন্য সীতারাম বাবুর বাড়িতেও ভিড় জমাচ্ছেন পাড়া প্রতিবেশীরা। তার এই অভিনব উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন দুর্গাপুরের মহকুমাশাসক শঙ্খ সাঁতরা। তিনি জানান, মূলত সরকারি কর্মীরাই সরকারের বিভিনং প্রকল্পের প্রচার করে থাকেন। কিন্তু সীতারাম বাবুর মতো সাধারণ মানুষেরাও এইভাবে প্রকল্পের প্রচার করেছেন তা সত্যিই তারিফযোগ্য।

Leave a Reply