মেয়ে  রেখে যায় মা-কে ভিক্ষে করার জন্য ! ভাবা যায় !

                                                          এস এম কামরুল হাসান পি পি এম, লালখান বাজার ,চট্টগ্রাম
আজ ডিউটি দপুর থেকে লালখান বাজার মোড়ে ,যেইখানে সচরাচর অভিজাত লোকজনের আনাগোনা বা যাতায়াত , বিশেষ করে যারা চট্টগ্রামের মানুষ তারা তা জানেন । ডিউটিতে আসি দুপুর দুইটার সময়,এসেই দেখি এক বৃদ্ধ মা ফুটপাতে দাড়িয়ে কাঁপছে দেখেই বুঝা যায় তার একহাত এক পা প্যারালাইজড, একটা দোকানের পিলারের সাথে বাঁকা হয়ে দাঁড়িয়ে  আছে, অনেক বয়স হবে,ভালো করে কথাও বলতে পারেন না । তাঁকে দেখেই বুঝা যায় ভালো করে হাঁটতে পারেন না, বল্লাম কিছু খাবেন বল্লো হ্যাঁ খাবো কিন্তু তাকে হোটেল পর্যন্ত নেওয়ার উপায় কি,আমার ডান হাতে তেমন কাজ করা যায় না তবুও ধরে ধরে কোন মতে হোটেল পর্যন্ত নিলাম , আমার একা কষ্ট হচ্ছে দেখে এক গাড়ির চালক এসে আমাকে হেলফ করলো যেন তাকে হোটেলে নিয়ে যেতে পারি,হাত মুখ ধোয়ালাম টেবিলে বসেই ,পরে জিজ্ঞাসা করলাম কি খাবেন ভাতের সাথে,বল্লো গরুর মাংশ,কচুর ডোগা ও ডাল,বিশ্বাস করবেন কিনা জানিনা তাঁর কত খিদা ছিলো কে জানে অনেকগুলো ভাত খেলো,পরে পানি খাওয়ালাম মুখ ধোঁয়াই দিলাম ।এইবার যেইখান থেকে নিয়ে এসেছি সেই জায়গায় রেখে আসতে হবে , পরে অন্য একজন মানুষের সহযোগিতায় তাঁকে আবার আগের জায়গায় রেখে আসলাম।

bangladesh-copy_photo-3
তাকে সেইখানকার অনেকে চিনেন । আমি একজন কে জিজ্ঞাসা করলাম যেই মানুষটা সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারেন না,হাঁটতে পারেন না,সে প্রতিদিন এইখানে আসে কি করে? এক জন বল্লেন তাঁর একটি মাত্র মেয়ে আছে ,মেয়ের জামাই অথবা মেয়ে এসে সকালে রেখে যায়,আর রাতে এসে নিয়ে যায়, সারাদিন মানুষ যা দেয় তারা নিয়ে যায় । মেয়ে মায়ের টাকা নিবে তাতে আমার কোন দুঃখ নেই, আমার দুঃখ হলো সকালে দিয়ে যায় আর রাতে নিতে আসে কিন্তু দুপুরের ভাতটা খাবে কোথায় ?এইটা তাদের চিন্তা করা দরকার ছিলো ।

bangladesh-copy_photo-2
খোদা না করুন যদি কোনদিন তারা রেখে যাওয়ার পর মা টা মরে যায় ,তারা খবর পাবে রাতে ,যখন টাকা ও মা কে নিতে আসবেন তখন । এক লোক যখন তাঁর সামনে তাঁর মেয়ে ও মেয়ের জামাইয়ের কথা বলছিলো ,তখন মা টা বার বার তাকে ধমক দিচ্ছিলেন,যেন না বলে । হায়রে মা, এই বয়সে এসেও তুমি তোমার সন্তানদের নিয়ে কটু কথা শুনতে চাও না বা পারোনা ।কিন্তু সন্তানেরা কি তেমন টা করবে ?
এস এম কামরুল হাসান পি পি এম
লালখান বাজার ,চট্টগ্রাম

Leave a Reply