দুদিন পেরিয়ে গেলেও ছাত্র বিক্ষোভে উত্তাল খড়গপুর আইআইটি

জাহাঙ্গীর বাদশা, খড়গপুর

মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া বর্ধিত ফি প্রত্যাহারের দাবীতে ছাত্র বিক্ষোভ চলছে খড়গপুর IIT তে ৷ প্রতি সেমেস্টারে বর্ধিত ফি প্রত্যাহারের দাবিতে ডিরেক্টর, ডেপুটি ডিরেক্টর, ডিন সহ বেশ কয়েকজন আধিকারিককে প্রায় ১৫ ঘণ্টা ঘেরাও করে রাখল খড়গপুরের IIT-র পড়ুয়ারা। আজ সকালে হিজলী ফাঁড়ির পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ওঠে ঘেরাও। তবে যতক্ষণ না ফি নিয়ে কর্তৃপক্ষ কোনও ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিচ্ছে ততক্ষণ আন্দোলন চলবে বলে জানিয়েছে তারা।

ছাত্রদের সাথে আলোচনায় বসতে রাজী কর্তৃপক্ষ, তবে ছাত্রদের মাত্র পাঁচ জনের প্রতিনিধির সাথেই তারা আলোচনা করতে রাজী বলে জানালেন রেজিস্ট্রার প্রদীপ পাইন ৷ তিনি আরো বলে যে, ছাত্রদের মধ্যে কেউই তাদের সাথে আলোচনা করতে রাজী নয় বা তারা তাদের কোনো প্রতিনিধির দল পাঠাতেও রাজী নয় ৷ ছাত্র প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনা করেই এই ফি বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তবে যদি কারোর সমস্যা থাকে তবে তা আলোচনার মাধ্যমেই মেটানোর আশ্বাস দিয়েছেন রেজিস্ট্রার ৷অন্যদিকে ছাত্ররা তাদের দাবীতে অনড় ৷ তারা পাঁচজন প্রতিনিধি না পাঠিয়ে কমপক্ষে ১০ জন প্রতিনিধিকে নিয়ে আলোচনায় বসতে চাইছেন ৷ IIT-র মতন একটি বিশ্ব বন্দিত প্রতিষ্ঠানে এই ধরণের ছাত্র আন্দোলন যে প্রকান্তরে IIT-রই মুখ পুড়ছে সেকথা ঘুরিয়ে হলেও স্বীকার করলেন রেজিস্ট্রার ৷ তিনি বলেন ছাত্ররা কোনো আন্দোলন নয় শান্তভাবে বসে রয়েছে ৷ কেউ যদি জেগে জেগে ঘুমায় তাহলে তার ঘুম ভাঙানো সম্ভব নয় বলেই ছাত্রদের কটাক্ষ করেন প্রদীপ পাইন ৷

সারাদিন ব্যাপী পরিস্থিতি বেগতিক দেখে IIT কর্তৃপক্ষ কঠোর নিরাপত্তা মোতায়েন করেন ৷ আর সেই নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যেই বিকেল সাড়ে চারটা নাগাদ ডিরেক্টর পার্থ প্রতিম চক্রবর্তী অফিসে আসেন ৷ ঘন্টাখানেক থেকে কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যদিয়ে ছাত্র সহ সংবাদমাধ্যমকে হটিয়ে ক্যামেরার লেন্স নিজের হাতে চেপে দিয়ে নিজের অফিস ছেড়ে বেড়িয়ে যান ৷একজন ভারপ্রাপ্ত ডিরেক্টর হিসেবে পার্থবাবু যদি ছাত্রদের কথা নাই শোনেন তাহলে কিভাবে ছাত্ররা তাদের সমস্যার কথা তুলে ধরবে পাশাপাশি সবকিছু যদি আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকে তাহলে কেনই বা চিত্র সাংবাদিকের ক্যামেরার লেন্স হাত দিয়ে চেপে ধরে অফিস ছেড়ে হাসতে হাসতে পালালেন IIT র ডিরেক্টর? প্রশ্ন এখন সব মহলের ৷

Leave a Reply