পানাগড় বাইপাসে যুব তৃণমূলের ফ্লেক্স টাঙানো নিয়ে  বিতর্ক

মহুয়া ঘোষাল, কাঁকসা  

আবার বিতর্কে পানাগড় বাইপাস । সৌজন্যে কাঁকসা যুব তৃণমূল । বিরুডিহা থেকে পানাগড় বাইপাস ঢুকতেই কিছুটা দূরে দূরে বেশ কয়েকটি ফ্লেক্স টাঙানো হয়েছে কাঁকসা তৃণমূলের পক্ষ থেকে । ফ্লেক্সে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ দেওয়া হয়েছে পানাগড় বাইপাস উপহার দেওয়ার জন্য ।কাঁকসা যুব তৃণমূলের পক্ষ থেকে টাঙানো ফ্লেক্সে লেখা হয়েছে – বহুদিনের যন্ত্রণা থেকে পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে পানাগড় বাইপাস উপহার দিয়ে যন্ত্রণার অবসান করার জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে জানাই অসংখ্য ধন্যবাদ ।আর এই ফ্লেক্স নিয়েই জোর বিতর্ক বেঁধেছে । ২নং জাতীয় সড়কের উপর পানাগড় বাইপাস তৈরি হয়েছে কেন্দ্র সরকারের  অর্থে । সেখানে রাজ্যের বিশেষ কোন ভুমিকা নেই । জাতীয় সড়ক রক্ষণাবেক্ষণের দায় দায়িত্ব সম্পূর্ণ কেন্দ্র সড়ক পরিবহণ মন্ত্রকের । সেখানে পানাগড় বাইপাস তৈরির জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ দিয়ে তৃণমূল যুব কংগ্রেস কি কার্যত নেপোয় মারে দই প্রবাদকেই স্বীকৃতি দিচ্ছেনা এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে দুর্গাপুরের শিল্পাঞ্চলে ।

kanksa-panagarh-bipass-bitorko-photo-__-mahua-ghosal-__-kanksa-_-22-1

পানাগড় বাইপাস চালু হওয়ার দিন দশেকের মধ্যে আবার তৃণমূল বিতর্কে জড়িয়ে পড়ল ফ্লেক্স দেওয়াকে কেন্দ্র করে ।যুব তৃণমূলের সৌজন্যে আবার বিতর্কে পানাগড় বাইপাস । প্রশ্ন উঠছে কে করেছে পানাগড় বাইপাস । যুব তৃণমূলের ফ্লেক্স কিন্তু পানাগড় বাইপাস করার জন্য পানাগড় বাইপাস । চালু হয়ে যায় শুধুমাত্র রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ দিচ্ছে । ফ্লেক্সে লেখা হয়েছে  — ‘বহুদিনের যন্ত্রনা থেকে পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে পানাগড় বাইপাস উপহার দিয়ে যন্ত্রনার অবসান করার জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে জানাই অসংখ্য ধন্যবাদ । ‘

পানাগড় বাইপাস উদ্বোধন নিয়ে বিতর্ক চরমে ওঠে । গত ১০ ডিসেম্বরে পানাগড় বাইপাস উদ্বোধন করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বানুল সুপ্রিয় । মন্ত্রী বাবুলের আগেই পানাগড় বাইপাসের উদ্বোধন কর্মসূচী হাইজ্যাক করে নেন  রাজ্য শ্রমমন্ত্রী মলয় ঘটক । মন্ত্রী মলয় ঘটক সকালেই উদ্বোধন করে দিয়ে চলে যান । এরপর বিকালে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত উদ্বোধন কর্মসূচিতে এসে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় পানাগড় বাইপাসের উদ্বোধন করেন ।অনেকটাই তাল মিছরির বিজ্ঞাপনের ভাষায়  মন্ত্রী বাবুল টুইট করে বলেন নকল হইতে সাবধান আমার আর জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের আধিকারিকদের ছবি দেখে নেবেন পানাগড় বাইপাসের উদ্বোধনে । পানাগড়ে তিনি মন্ত্রী মলয় ঘটকের উদ্বোধন করাকে জন্মদিনে অনুষ্ঠানের নির্দিষ্ট সময়ের আগে বিড়ালের চুরি করে কেক খাওয়ার সাথে তুলনা করেন ।

প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বাজপেয়ীর আমলে ২০০১ সালে শুরু হয় ২নং জাতীয় সড়কের চার লেন হওয়ার কাজ । পানাগড়ে এসে কাজ বন্ধ হয়ে যায় ব্যাবসায়িদের বাধায় । ২০১৪ সালে শুরু হয় আট কিলোমিটার দীর্ঘ পানাগড় বাইপাস ।

বিজেপি রাজ্য কমিটির সদস্য নরেশ কোঙার বলেন তৃণমূল নেতারা হতাশায় ভুগছেন তাদের নেত্রীর মতো । তাই কোনটা ঠিক আর কোনটা ভুল তা ভুলে গিয়েছে বলে কটাক্ষ করেন এই বিজেপি নেতা । শুধু বিজেপি নয় এই ফ্লেক্সকে ভালো চোখে মেনে নিচ্ছেন না দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের বহু নেতা । নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জেলা নেতা বলেন কাঁকসা ব্লকে কমিটি ঘোষণা না হওয়ায় ভীষণ চাপে আছে কিছু নেতা – কর্মী । আর এই কারণে কে কত দিদি [ পড়ুন  দল নেত্রী ] ভক্ত তার প্রমাণ দিতেই এমন অপ্রাসঙ্গিক কাজ করে দলকে বিড়ম্বনায় ফেলছে ।তৃণমূলের শহরাঞ্চলের এক নেতা আবার বলেন দলে দুর্গাপুর  শিল্পাঞ্চলের প্রাক্তন সভাপতির প্রভাব তলানিতে পৌঁছে গিয়েছে । হতাশায় ভুগছে এই গোষ্ঠীর নেতা – কর্মীরা । দুর্গাপুরের দুটি আসনেই হার হওয়ায় দুর্গাপুরের প্রাক্তন শিল্পাঞ্চল সভাপতি দলনেত্রীর কাছে ব্রাত্য হয়ে গিয়েছেন । দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর মুখ্যমন্ত্রী একবারের জন্য আসেন নি দুর্গাপুরে । সুত্রের খবর এখন দুর্গাপুরের তৃণমূলের শিল্পাঞ্চলের কমিটির নতুন বিন্যাস হবে জানা গিয়েছে । সেখানে তৃণমূল ত্যাগী তথা কংগ্রেস বিধায়ক বিশ্বনাথ পাড়িয়াল  কংগ্রেস শ্রমিক নেতা বিকাশ ঘটক উমাপদ দাস এবং সুদেব রায়কে তৃণমূলে আনার চেষ্টা চলছে জোর কদমে । এই অবস্থায় কে কোন কমিটির মাথায় থাকবে তা বুঝতে না পেরে নিজের নিজের মতো করে দিদির সেরা ভক্ত প্রমাণ করতে গিয়ে ঠিক – বেঠিকের তাল জ্ঞান হারিয়ে ফেলছে কাঁকসার তৃণমূল নেতা কর্মীরা বলে জানাচ্ছেন এই নেতা ।

 

Leave a Reply