তেরো বছরের তানিয়া আজও জানলো না বাবার পরশ কাকে বলে! বাবা চললো জেলে! কিন্তু কেন? ক্লিক করে দেখুন

মহুয়া ঘোষাল,দুর্গাপুর 

সম্পর্কে পিসতুতো শালী । নিজের স্ত্রীর বিয়োগের পর পিসতুতো শালীর সাথে সহবাস । প্রতিশ্রুতি ছিল বিবাহের । কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে পেশায় সবজি ব্যাবসায়ি কাঞ্চন মন্ডল । আদালতের দ্বারস্থ হয় পিসতুতো শালী কাঞ্চনের বিরুদ্ধে । দুর্গাপুর আদালত আজ কাঞ্চনকে দোষী সাব্যস্ত করে দশ বছরের জেল এবং চারলক্ষ টাকা জরিমানার আদেশ দিল । জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের জেল খাটতে হবে বলে আদেশ দেয় দুর্গাপুর আদালত ।

সেই একযুগ আগের ঘটনা [ ২০০২]  । দামোদরের বুক দিয়ে বয়ে গিয়েছে কত জল । দামোদরের গা ঘেঁষা দুর্গাপুরের ধোবাঘাটা গ্রামের এক সবজি ব্যাবসায়ী সম্পর্কে জামাইবাবুর এক মহিলা তথা সম্পর্কে পিসতুতো শালীকে দেওয়া প্রুতিশ্রুতি ভঙ্গের কাহিনী এবং মহিলার একার লড়াই নিয়ে একসময় বহু চর্চা হয়েছিল দুর্গাপুরে । তারপর সেই কাহিনী আজ সম্পূর্ণ বৃত্ত রচনা করল দুর্গাপুর আদালতের আদেশে ।

কাঞ্চন মন্ডল পেশায় সবজি ব্যাবসায়ী । নিজের স্ত্রী দ্বিতীয় সন্তানের জন্ম দিতে গিয়ে মারা যান ।  গ্রামেই শ্বশুর বাড়ি  কাঞ্চনের । মামাতো  বোনের মৃত্যুর পর আসাযাওয়া শুরু করেন  শিলাবতী (নাম পরিবর্তিত ) ঢাং । সম্পর্ক গড়ে ওঠে দুজনের মধ্যে । স্ত্রী বিয়োগের পর প্রথম সন্তানের লালনপালনের জন্য শিলাবতীকে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দেয় কাঞ্চন । শুরু হয় সহবাস । কাঞ্চনের সাথে সহবাসের জেরে  অন্তস্বত্ত্বা হয়ে পড়ে  শিলাবতী । শিলাবতী বিবাহের জন্য বলে কাঞ্চনকে । কিন্তু কাঞ্চন বিবাহ করতে অস্বীকার করে । কাঞ্চনের অজুহাত ছিল শিলাবতীর গর্ভে যে সন্তান তা তার নয় ।

মাথায় বাজ ভেঙে পড়ে শিলাবতীর কিন্তু হার মানে নি সে । গর্ভের সন্তানকে সে মেরে ফেলতে চায় নি । চায়নি গর্ভপাত করাতে । শুরু হয় লড়াই ।শিলাবতী  থানায় অভিযোগ দায়ের করে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস করেও বিবাহ না করার জন্য । সময়টা ছিল ২০০২ সাল । এরপর রাজ্য মহিলা কমিশনের দ্বারস্থ হয় শিলাবতী । রাজ্য মহিলা কমিশন শুরু করে শিলাবতীর হয়ে লড়াই । কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে DNA  টেস্ট হয় কাঞ্চন আর তার মেয়ে তানিয়ার (নাম পরিবর্তিত) । হ্যাঁ । শিলাবতীর কোলে তখন চলে এসেছে তানিয়া । এখন সে তের বছরের । তানিয়া  তার নাম লেখে তানিয়া মন্ডল । লড়াই জারি থাকে শিলাবতীর । DNA টেস্ট প্রমাণিত করে শিলাবতীর গর্ভের সন্তান তানিয়া কাঞ্চনের কন্যা ।

কাঞ্চন বিবাহ করতে রাজি থাকে না শিলাবতীকে । গ্রামছাড়া হয়ে যায় নয় মাস । পরে জামিন পেয়ে গ্রামে ফিরে আসে কাঞ্চন । কাঞ্চনের প্রথম সন্তানের বয়স এখন আঠারো বছর । গ্রামে ফিরে সবজি ব্যাবসা শুরু করে আবার ।

দুর্গাপুর আদালতে চলতে থাকে মামলার শুনানি । বছরের পর বছর চলে যায় । অবশেষে আসে ২০১৬ সালের ২৩ ডিসেম্বর ।

দুর্গাপুর আদালত কাঞ্চন মণ্ডলকে দোষী স্বাবস্ত করে ।আজ দুর্গাপুর আদালত বিয়াল্লিশ বছরের  কাঞ্চন মণ্ডলকে দশ বছরের জেল এবং চার লক্ষ টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও এক বছরের জেলের সাজা শোনায় ।

প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের শাস্তি পেল কাঞ্চন কিন্তু ৩৮ বছরের শিলাবতীর সংসার গড়া আর তার মেয়ের পিতার স্নেহের পরশ  অধরাই রয়ে গেল ।

Leave a Reply