অবসরের জীবন শিখা

অর্ণব পাল, মালদা

ওরা কাউকে চেনে না কেউ। কারো সঙ্গে দেখাও হয়না কোনদিন। দেখা হয় গাড়িতে চলতে কখনো বা কাজের ফাঁকে। কিন্তু ওরাও সমাজের এক জন। হয়তো তারাও সমাজের দামী নয়। তাদের দেখা পাওয়া যায় রাস্তার ধারে আবার কাউকে ঘরের চার দেওয়ালের মধ্যে। তাদের পাশে আজ অবসরের বন্ধুরা কিছু উপহার সামগ্রী নিয়ে হাজির।

মালদা শহরের প্রানকেন্দ্র পোষ্ট অফিস মোড় বা ফোয়ারা মোর নামে বহুল পরিচিত। এই মোড়ের কাছাকাছিতে রয়েছে মালদা জেলা প্রশাসনিক ভবন, মালদা আদালত,ব্যাঙ্ক সহ একাধিক দপ্তর।  তাই ব্যস্ততার যুগে কারো ফুসরত নেই।  কিন্তুু দিনের শেষে মালদার ফোয়ারা মোড়ে অবসর সময় কাটাতে আসেন আট থেকে আশি সকলেই।  চারিদিকে রয়েছে আড্ডার প্রিয় মুখোরচক চা,ঝালমুড়ি সহ একাধিক খাওয়ার। এখানে আসেন উকিল, ডাক্তার, সাংবাদিক রিপেজেন্টিভ সহ বিভিন্ন পেশায় নিযুক্ত মানুষ।  প্রত্যেকে তাদের মধ্যে থেকে সময় বের করে অবসরে রাস্তার পরে থাকা মানুষদের শীত থেকে রক্ষা করতে সারারাত্রি ঘুরে কম্বল দেন।  এই বছরেও তাদের উদ্যোগে প্রায় ২০০জন দুস্থ গরীবদের হাতে দেওয়া হয়।  কোন সংস্থা বা বাঁধাধরা দল নয়। তা বছরের শেষে প্রতিবছর ২৬শে ডিসেম্বর এই শীতবস্ত্র দেওয়া হয়।  এই নিয়ে তাদের পা ৩ বছরে। তবে এই কাজের মাথায় রয়েছে ফোয়ারা মোড়ের অবসরের বন্ধুরা। প্রত্যেকে তাদের রোজগারে অর্থের একাংশ দিয়ে এই কাজে এগিয়ে আসেন। তবে এই কাজের মাথায় থাকেন পার্থ মুখার্জী।  তারা একটি নামও ঠিক করেছেন অবসরের জীবন শিখা।

whatsapp-image-2016-12-26-at-21-39-46

ফোয়ারা মোড়ের এক বন্ধু সুদীপ্ত গাঙ্গুলী বলেন, বছরে বেশির ভাগ সময় আমরা নিজেদের নিয়ে আমরা ব্যাস্ত থাকি। তাই আমরা একটা সময় বের করে তাদের পাশে দাঁড়াই। কারন তাদেরও হাসার, খেলার ও অপরিচিত লোকদের একজন। প্রতিবছর নতুন বছরের মুখে তাদেরকে আমাদের একজন করতে চাই। থাকে নতুনের চমক। এই বছর ফোয়ারা মোড়ে মালদা জেলার পুলিশ সুপার অর্ণব ঘোষের উপস্থিতিতে শীত বস্ত্র তুলে দেওয়া হয় তাদের হাতে। পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন জায়গার ভবঘুরে ও শীতে কাতর মানুষের হাতে তুলে দেওয়া হয় কম্বল।

Leave a Reply