শ্রীনু হত্যাকান্ডে রাম বাবু সহ দুজনের নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি আদালতের

জাহাঙ্গীর বাদশা, পশ্চিম মেদিনীপুর

খড়্গপুরে শ্রীনু নাইডু হত্যা কান্ডে এবার গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হল রামবাবুর নামে। পুলিশের আবেদনের ভিত্তিতে রামবাবু ও তার শাগরেদ কে.কাশি রাও এর নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করল মেদিনীপুর আদালত।  আগামী ৭ মার্চের  মধ্যে গ্রেপ্তর করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

প্রসঙ্গত গত ১১ জানুয়ারী খড়গপুরের নিউ সেটেলমেন্ট এলাকায় তৃনমুলের পার্টি অফিসে গুলি চালিয়ে খুন করা হয় কাউন্সিলার পুজা নাইডুর স্বামী শ্রীণু নাইডু সহ ২ জনকে৷ খড়গপুর পৌরসভার ভোটে BJP প্রার্থী হয়ে জিতলেও পরে তৃণমূলে যোগ দেন পূজা ৷ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে প্রথমে ৭ জনকে গ্রেপ্তার করে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পুলিশ ৷ তারপর একে একে গ্রেপ্তার হন আরো ৫ জন ৷ শ্রীণু নাইডু খুনের মামলায় মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা এখনও পর্যন্ত ১২ জন ৷ তবে পুলিশ সুপার ভারতী ঘোষ জানিয়েছিলেন যে এই ঘটনার পেছনে রয়েছে কিছু বড় মাথা ৷ তবে কারা সেই মাথা তা নিয়ে জল্পনা ছিলই। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় ধৃত নন্দ দাস সহ বেশ কয়েকজন প্রত্যহ্মদর্শী গত সপ্তাহে আদালতে গোপন জবানবন্দি দিয়েছেন। এবার এই ঘটনায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হল এককালের খড়্গপুরের ত্রাস হিসেবে পরিচিত  রামবাবু সহ দুজনের নামে। উল্লেখ্য গতকাল পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে মেদিনীপুর আদালতে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির জন্য আবেদন করা হয়। যা আজ মঞ্জুর করে আদালত। পুলিশ সূত্রে খবর ঘটনার পর থেকে রামবাবু ভিন রাজ্যে। গোপন জবানবন্দী যারা দিয়েছেন, তাদের বয়ানেও উঠে এসেছে রামবাবুর নাম। উল্লেখ্য খড়্গপুরের এককালের ডন রামবাবুর নামে খুন রাহাজানি সহ একাধিক অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ১৯৯৯ সালের ২৭ জুন মানস চৌবে  হত্যা, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর গৌতম চৌবে হত্যা রয়েছে। এর আগে এই খুনের মামলায় ২০০২ সালে গ্রেফতার হন রামবাবু। সেই সময় মেদিনীপুর আদালতে যাবজ্জীবন দেয় রামবাবু সহ বাকি অভিযুক্ত দের। উচ্চ আদালতে সেই রায় বহাল থাকলেও সুপ্রিম কোর্ট ২০১০ এ জামিনে মুক্ত করে রামবাবুকে। তার পর থেকে সেভাবে প্রকাশ্যে না এলেও খড়্গপুরের অপরাধ দুনিয়ার রাশ এবং প্রভাব নিজের হাতে রাখার আকাঙ্ক্ষা রামবাবুর ছিলই এমনই আভাস খড়্গপুরের আনাচে কানাচে মিলেছে। তবে এই পরোয়ানা জারির পরে ফের রামবাবু গ্রেফতার হতে চলেছে বলে মত অভিজ্ঞ মহলের।