জঙ্গি হামলার আশংকায় নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হলো জল্পেশ মন্দির

অভিরুপ দে, জলপাইগুড়ি

নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হলো গোটা জল্পেশ মন্দির চত্ত্বর। জল্পেশ মেলা চলাকালীন জঙ্গি হামলার আশঙ্কায় আগাম সতর্কতা মূলক ব্যাবস্থা হিসেবে জলপাইগুড়ি জেলা পুলিশের তরফ থেকে এই বিশেষ ব্যাবস্থা নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই জল্পেশে নিয়ে আসা হয়েছে জঙ্গী দমনে বিশেষ প্রশিক্ষিত দুটি বাহিনীকে। সেই বাহিনী দিয়ে একদিকে যেমন গোটা জল্পেশ মন্দির ঘিড়ে ফেলা হয়েছে, ঠিক তেমনি এক সময় কেএলও জঙ্গীদের আঁতুড় ঘর  বলে পড়িচিত ময়নাগুড়ি ব্লকের রামশাই, আমগুড়ি, কালামাটি এলাকাতেও রুট মার্চ ও চিরুনি তল্লাশি চালানো হচ্ছে। সব মিলিয়ে জল্পেশ মেলার জন্য নিরাপত্তা ব্যাবস্থায় কোনো রকমের ফাক রাখতে চাইছে না প্রশাসন।

পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, শিবরাত্রীর সময় জল্পেশ মন্দিরে প্রবেশ করতে গেলে এবছর পুনার্থীদের ত্রিস্তর নিরাপত্তা ব্যাবস্থার মধ্যদিয়ে মন্দিরে প্রবেশ করতে হবে। জল্পেশ এলাকায় প্রবেশের সাথে সাথে পূণ্যার্থীদের মুখোমুখি হতে হবে নিরাপত্তার একেবারে প্রথম এবং প্রাথমিক স্তরে। এই স্তরে থাকবে সাদা পোশাকের পুলিশ এবং সিভিক ভলেন্টিয়াররা। জল্পেশে কোনো ব্যাক্তি ঢোকা মাত্রই এই স্তরের কর্মিরা নজর দারি শুরু করে দেবে। প্রথমস্তর পার করবার পর দ্বিতীয় স্তরে থাকবে জেলাপুলিশের কর্মি ও র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স। মন্দিরের বাইরে মূলত নিরাপত্তার দায়িত্ব থাকবে এদের হাতে। মন্দিরের গেটে থাকবে নিরাপত্তার তৃতীয় বলয়। এই স্তরে থাকবে জঙ্গী দমনে প্রশিক্ষিত বাহিনী। এই বাহিনীর জওয়ানরা মেটাল ডিটেক্টারের সাহায্যে তল্লাশি চালিয়ে পূণ্যার্থীদের ভিতরে প্রবেশের অনুমতি দেবে। এই তিন স্তর ছাড়াও নিরাপত্তা ব্যাবস্থায় থাকছে কুইক রেন্সপন্স টিম এবং হাইওয়ে পেট্রলিং এর জন্য আলাদা বাহিনী। কোনো হামলার ঘটনা ঘটে গেলে যাতে খুব তাড়াতাড়ি ব্যাবস্থা গ্রহন করা যায় সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে। নিরাপত্তা ব্যাবস্থা জোরদার করতে বাইরের জেলা থেকেও বাড়তি বাহিনী আসার কথা রয়েছে। সব মিলিয়ে জোরদার নিরাপত্তাব্যাবস্থা করা হয়েছে জল্পেশে। ময়নাগুড়ি থানা সূত্রে জানানো হয়েছে দিন রাত চব্বিশ ঘন্টাই থাকবে এই নিরাপত্তা ব্যাবস্থা। এমনকি, মেলা প্রবেশের একেবারে মুখে থাকছে পুলিশি সহায়তা কেন্দ্র। কোনো ব্যাক্তি যদি জল্পেশ মন্দির এবং মেলা প্রাঙ্গনে কোনো রকম সন্দেহ জনক কিছুদেখে থাকেন তাহলে মেলা চত্ত্বরে সেই পুলিশি সহায় তা কেন্দ্রে খবর দিতে পারবেন। মন্দির চত্ত্বর এবং মেলা প্রাঙ্গন মিলিয়ে লাগানো হয়েছে প্রায় ৩০ টি সিসি ক্যামেরা। ময়নাগুড়ি থানার আই সি সুকুমার মিশ্র জানিয়েছেন, নিরাপত্তার প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। সব রকমের অশান্তি রুখতে ব্যাবস্থা নেওয়া হয়েছে।